المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।
"অতঃপর ‘আদল (عَدْلٌ) হলো: কোনো ইসমের তার মূল গঠন (صيغة أصلية) থেকে বের হয়ে যাওয়া—তা প্রকৃতগতভাবে (تَحْقِيقًا) হোক; যেমন: «ثُلَاثَ»، «مَثْلَثَ»، «أُخَرَ» এবং «جُمَعَ», অথবা কাল্পনিক/অনুমানগতভাবে (تَقْدِيرًا) হোক; যেমন: «عُمَرُ» এবং বনু তামীম গোত্রের ভাষায় «قَطَامِ»-এর অধ্যায়।"
দরসের রূপরেখা (تشریح)
আজকের দরসে মূলত চারটি মৌলিক বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:
- মান‘-এ সারফের ৯টি কারণের মধ্যে ‘আদল-কে সর্বাগ্রে প্রাধান্য (وجہِ تقدیم) দেওয়ার কারণ।
- ‘আদলের লুগাভী ও ইস্তিলাহী তা'রীফ (تعريف)।
- «خُرُوجُهُ»-এর যমীর (ضمير) এবং তা'রীফের ক্বাইদসমূহের তাহকীক (فوائدِ قیود)।
- ‘আদলের প্রকারভেদ (عدل تحقیقی ও عدل تقدیری)-এর দৃষ্টান্তসহ পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ।
প্রথম বিষয়: ‘আদল-কে প্রথমে আনার কারণ (وجہِ تقدیم)
মুসান্নিফ (المصنف) মান‘-এ সারফের ৯টি কারণের মধ্যে ‘আদল-কে দুটি কারণে সর্বপ্রথম উল্লেখ করেছেন:
পূর্বের কবিতায় মান‘-এ সারফের ৯টি কারণ উল্লেখের সময় সর্বপ্রথম «عَدْلٌ» আনা হয়েছিল। সুতরাং সেই সংক্ষিপ্ত তালিকার সাথে বিস্তারিত আলোচনার সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এখানেও ‘আদল-কে প্রথমে আনা হয়েছে।
‘আদল হলো بمنزلة مطلق (শর্তহীন)। অর্থাৎ গায়রে মুনসারিফের কারণ হওয়ার জন্য ‘আদলের সাথে কোনো অতিরিক্ত বাহ্যিক শর্ত (যেমন: ‘উজমাহ বা তারকীবের ক্ষেত্রে العلمية হওয়া ইত্যাদি) যুক্ত নেই। পক্ষান্তরে বাকি ৮টি কারণের প্রতিটির সাথেই কোনো না কোনো শর্ত যুক্ত রয়েছে। আর নাহব ও উসূলের সর্বসম্মত কায়েদা হলো:
দ্বিতীয় বিষয়: ‘আদলের লুগাভী ও ইস্তিলাহী তা'রীফ
১. লুগাভী (আভিধানিক) অর্থ:
صلة (অব্যয়)-এর পরিবর্তনের কারণে ‘আদল’ শব্দের ৫টি ভিন্ন অর্থ প্রকাশ পায়:
২. ইস্তিলাহী (পারিভাষিক) তা'রীফ:
(অর্থ: কোনো সার্বজনীন নাহবী বা সারফী কায়েদা ছাড়াই মূল বর্ণসমূহ অক্ষুণ্ণ রেখে কোনো ইসমের তার মূল গঠন ত্যাগ করে অপর একটি গঠনে রূপান্তরিত হওয়া—তা বাস্তবে [تحقيقاً] প্রমাণিত হোক বা কাল্পনিক [تقديراً] হোক।)
তৃতীয় বিষয়: «خُرُوجُهُ»-এর যমীর এবং তা'রীফের ক্বাইদসমূহ
চতুর্থ বিষয়: ‘আদলের প্রকারভেদ ও উদাহরণসমূহ
‘আদল মূলত দুই প্রকার:
রূপান্তরের পক্ষে স্পষ্ট বহিঃদলিল আছে (যেমন: ثُلَاثَ، مَثْلَثَ، أُخَرَ، جُمَعَ)
রূপান্তরের পক্ষে দলিল নেই, কেবল অনুমানকৃত (যেমন: عُمَرُ، بَابُ قَطَامِ)
১. عَدْلٌ تَحْقِيقِيٌّ (আদলে তাহকীক্বী):
যে শব্দটির গায়রে মুনসারিফ হওয়া ছাড়াও বাস্তব জগতে (خارج) অন্য কোনো অকাট্য দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত যে শব্দটি তার আসল রূপ থেকে রূপান্তরিত হয়ে গঠিত হয়েছে। মুসান্নিফ এর ৪টি উদাহরণ দিয়েছেন:
এদের মধ্যে মান‘-এ সারফের দুটি কারণ হলো: وَصْفٌ এবং عَدْلٌ تَحْقِيقِيٌّ।
দলিল: এগুলোর অর্থ হলো «ثَلَاثَةً ثَلَاثَةً» (তিনটি তিনটি করে)। কুরআনে এসেছে: ﴿فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ﴾। কায়েদা হলো—«إِنَّ تَكْرَارَ الْمَعْنَى يَدُلُّ عَلَى تَكْرَارِ اللَّفْظِ» (অর্থের পুনরাবৃত্তি শব্দের পুনরাবৃত্তির ওপর প্রমাণ বহন করে)। সুতরাং নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হলো যে «ثُلَاثَ» ও «مَثْلَثَ» মূলত «ثَلَاثَة ثَلَاثَة» থেকে معدول (রূপান্তরিত)।
তারকীবগত ফায়দা: عدل ও وصف বিশিষ্ট শব্দগুলো বাক্যে موصوف-এর সিফাত, ذو الحال-এর হাল, অথবা মুবতাদার খবর হয়। যেমন: «جَاءَ الْقَوْمُ رُبَاعَ» (হাল)।
দলিল: «فَعْلَاءُ» ওযনের জমার ৩টি স্বীকৃত রূপ রয়েছে: «فِعَالٌ» (صِحَارَى), «فُعْلٌ» (حُمْرٌ), এবং «فَعْلَاوَاتٌ» (صَحْرَاوَاتٌ)। কিন্তু «جُمَعُ» শব্দটি «فُعَلُ»-এর ওযনে এসেছে যা এই তিন ওযনের বাইরে। অথচ আরবরা একে «جَمْعَاءُ»-এর জমা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সুতরাং এটি অকাট্যভাবে معدول।
দলিল: ইসমে তাফযীল ব্যবহারের ৩টি সুরত রয়েছে: (১) ‘مِنْ’-এর সাথে, (২) الف لام-এর সাথে, (৩) اضافة-এর সাথে। কিন্তু «أُخَرُ» শব্দটি এই ৩টি সুরতের কোনোটি ছাড়াই বহুবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং এটি তার মূল রূপ থেকে معدول।
২. عَدْلٌ تَقْدِيرِيٌّ (আদলে তাক্বদীরী):
যে শব্দের রূপান্তরের পক্ষে বাস্তব জগতে কোনো স্বতন্ত্র দলিল নেই; কেবল আরবদেরকে শব্দটি তানভীন ছাড়া (গায়রে মুনসারিফ) পড়তে দেখে নাহববিদগণ তার মধ্যে একটি ‘কাল্পনিক ‘আদল’ (عدل تقدیری) ধরে নিয়েছেন।
আরবরা «عُمَرُ» শব্দটিকে গায়রে মুনসারিফ হিসেবে পড়তেন। কিন্তু নাহববিদগণ এতে কেবল একটি কারণ খুঁজে পান—مَعْرِفَةٌ (عَلَم)। গায়রে মুনসারিফ হতে দুটি কারণ আবশ্যক হওয়ায় তাঁরা অনুমান করে নেন যে, এটি মূলত «عَامِرٌ» (ফা‘ইলুন) থেকে معدول হয়ে «عُمَرُ» (ফু‘আলুন) হয়েছে।
বনু তামীম গোত্রের লোকেরা «فَعَالِ» ওযনের নারীদের নামসমূহ (যেমন: «قَطَامِ», «حَذَامِ») معرب এবং غير منصرف হিসেবে পড়ে। এতে ‘মা‘রিফাহ’ ছাড়া দ্বিতীয় কারণ না থাকায় অনুমান করা হয়েছে যে, এগুলো মূলত «قَاطِمَةُ», «حَاذِمَةُ» থেকে معدول হয়ে এসেছে।
«تَحْقِيقًا أَوْ تَقْدِيرًا»-এর তারকীব (৪টি সুরত):
- تمييز: «خُرُوجُهُ»-এর ইযাফতের অস্পষ্টতা দূর করতে تمييز হিসেবে منصوب।
- كَانَ مَحْذُوف-এর خبر: (تقدير: كَانَ الْخُرُوجُ تَحْقِيقًا أَوْ تَقْدِيرًا)।
- مفعول مطلق: উহ্য ফে‘লের জন্য (تقدير: حَقَّ الْعَدْلُ تَحْقِيقًا أَوْ قُدِّرَ الْعَدْلُ تَقْدِيرًا)।
- حال: «خُرُوجُهُ» থেকে حال হিসেবে।
«فَعَالِ» ওযনের ৪টি সুরত (একটি ব্যাকরণিক ফায়দা):
যেমন: «نَزَالِ» (অর্থ: اِنْزِلْ / নেমে এসো)।
যেমন: «فَجَارِ» (অর্থ: اَلْفُجُورُ / পাপাচার)।
যেমন: «فَسَاقِ» (অর্থ: فَاسِقَةٌ / পাপাচারিণী)।
যেমন: «قَطَامِ», «غَلَابِ», «حَضَارِ»।