دروس الكافية

দরসে কাফিয়া - কাফিয়া কিতাবের পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ডিজিটাল দরসগাহ

আপনি সর্বশেষ পড়েছিলেন:

দরস (১৮) : ‘আদল (العدل)-এর তা'রীফ, প্রকারভেদ ও ‘ফা‘আলি’ ওযনের সুরতসমূহ | দরসে কাফিয়া

موضوع (মূল বিষয়) عَدْل (আদল)-এর তা'রীফ, প্রকারভেদ (عدل تحقیقیعدل تقدیری), শব্দগত বিশ্লেষণ এবং «فَعَالِ» ওযনের সুরতসমূহ
المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
«فَالْعَدْلُ: خُرُوجُهُ عَنْ صِيغَتِهِ الْأَصْلِيَّةِ تَحْقِيقًا كَـ(ثُلَاثَ وَمَثْلَثَ، وَأُخَرَ، وَجُمَعَ)، أَوْ تَقْدِيرًا كَـ(عُمَرَ، وَبَابِ قَطَامِ فِي تَمِيمٍ).»

শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।

ইবারতের সরল অনুবাদ:

"অতঃপর ‘আদল (عَدْلٌ) হলো: কোনো ইসমের তার মূল গঠন (صيغة أصلية) থেকে বের হয়ে যাওয়া—তা প্রকৃতগতভাবে (تَحْقِيقًا) হোক; যেমন: «ثُلَاثَ»، «مَثْلَثَ»، «أُخَرَ» এবং «جُمَعَ», অথবা কাল্পনিক/অনুমানগতভাবে (تَقْدِيرًا) হোক; যেমন: «عُمَرُ» এবং বনু তামীম গোত্রের ভাষায় «قَطَامِ»-এর অধ্যায়।"

[toc]

দরসের রূপরেখা (تشریح)

আজকের দরসে মূলত চারটি মৌলিক বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:

  1. মান‘-এ সারফের ৯টি কারণের মধ্যে ‘আদল-কে সর্বাগ্রে প্রাধান্য (وجہِ تقدیم) দেওয়ার কারণ।
  2. ‘আদলের লুগাভী ও ইস্তিলাহী তা'রীফ (تعريف)।
  3. «خُرُوجُهُ»-এর যমীর (ضمير) এবং তা'রীফের ক্বাইদসমূহের তাহকীক (فوائدِ قیود)।
  4. ‘আদলের প্রকারভেদ (عدل تحقیقیعدل تقدیری)-এর দৃষ্টান্তসহ পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ।

প্রথম বিষয়: ‘আদল-কে প্রথমে আনার কারণ (وجہِ تقدیم)

মুসান্নিফ (المصنف) মান‘-এ সারফের ৯টি কারণের মধ্যে ‘আদল-কে দুটি কারণে সর্বপ্রথম উল্লেখ করেছেন:

১. পূর্ববর্তী সংক্ষিপ্ত তালিকার ধারাবাহিকতা রক্ষা:
পূর্বের কবিতায় মান‘-এ সারফের ৯টি কারণ উল্লেখের সময় সর্বপ্রথম «عَدْلٌ» আনা হয়েছিল। সুতরাং সেই সংক্ষিপ্ত তালিকার সাথে বিস্তারিত আলোচনার সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এখানেও ‘আদল-কে প্রথমে আনা হয়েছে।
২. মুতলাক্ব-কে মুক্বাইয়্যাদের ওপর প্রাধান্য দেওয়া:
‘আদল হলো بمنزلة مطلق (শর্তহীন)। অর্থাৎ গায়রে মুনসারিফের কারণ হওয়ার জন্য ‘আদলের সাথে কোনো অতিরিক্ত বাহ্যিক শর্ত (যেমন: ‘উজমাহ বা তারকীবের ক্ষেত্রে العلمية হওয়া ইত্যাদি) যুক্ত নেই। পক্ষান্তরে বাকি ৮টি কারণের প্রতিটির সাথেই কোনো না কোনো শর্ত যুক্ত রয়েছে। আর নাহব ও উসূলের সর্বসম্মত কায়েদা হলো:
«اَلْمُطْلَقُ يُقَدَّمُ عَلَى الْمُقَيَّدِ»
(অর্থ: শর্তহীন বিষয়কে সবসময় শর্তযুক্ত বিষয়ের ওপর প্রাধান্য দিতে হয়।)

দ্বিতীয় বিষয়: ‘আদলের লুগাভী ও ইস্তিলাহী তা'রীফ

১. লুগাভী (আভিধানিক) অর্থ:

صلة (অব্যয়)-এর পরিবর্তনের কারণে ‘আদল’ শব্দের ৫টি ভিন্ন অর্থ প্রকাশ পায়:

«عَنْ» দ্বারা ব্যবহৃত হলে: বিমুখ বা বিরত হওয়া (اعراض کرنا)। যেমন: «عَدَلَ زَيْدٌ عَنِ الْمَعَاصِي» (যায়েদ গুনাহ থেকে বিরত হয়েছে)।
«إِلَى» দ্বারা ব্যবহৃত হলে: কোনো কিছুর দিকে ফিরে আসা (رجوع کرنا)। যেমন: «عَدَلَ الْمُسَافِرُ إِلَى بَيْتِهِ» (মুসাফির নিজ ঘরে ফিরে এসেছে)।
«مِنْ» দ্বারা ব্যবহৃত হলে: অপসারিত বা পৃথক হওয়া (دور ہونا)। যেমন: «عَدَلَ الْحِمْلُ عَنِ الْبَعِيرِ» (উট থেকে বোঝা সরানো হয়েছে)।
«فِي» দ্বারা ব্যবহৃত হলে: ন্যায়বিচার ও ইনসাফ করা (انصاف کرنا)। যেমন: «عَدَلَ عَمْرٌو فِي حُكْمِهِ» (আমর বিচারে ইনসাফ করেছে)।
«بَيْنَ» দ্বারা ব্যবহৃত হলে: সমতা বজায় রাখা (برابری کرنا)। যেমন: «عَدَلَ سَعِيدٌ بَيْنَ أَزْوَاجِهِ» (সাঈদ তার স্ত্রীদের মাঝে সমতা বজায় রেখেছে)।

২. ইস্তিলাহী (পারিভাষিক) তা'রীফ:

«خُرُوجُ الِاسْمِ عَنْ صِيغَتِهِ الْأَصْلِيَّةِ إِلَى صِيغَةٍ أُخْرَى تَحْقِيقًا كَانَ أَوْ تَقْدِيرًا مَعَ بَقَاءِ الْمَادَّةِ الْأَصْلِيَّةِ بِلَا قَاعِدَةٍ نَحْوِيَّةٍ وَقَانُونٍ صَرْفِيٍّ»

(অর্থ: কোনো সার্বজনীন নাহবী বা সারফী কায়েদা ছাড়াই মূল বর্ণসমূহ অক্ষুণ্ণ রেখে কোনো ইসমের তার মূল গঠন ত্যাগ করে অপর একটি গঠনে রূপান্তরিত হওয়া—তা বাস্তবে [تحقيقاً] প্রমাণিত হোক বা কাল্পনিক [تقديراً] হোক।)

তৃতীয় বিষয়: «خُرُوجُهُ»-এর যমীর এবং তা'রীফের ক্বাইদসমূহ

যমীরের মারজি‘ (مرجع): «خُرُوجُهُ»-এর ‘هُ’ যমীরটি পূর্ববর্তী উহ্য শব্দ «الِاسْمُ»-এর দিকে ফিরেছে।
«عَنْ صِيغَتِهِ» (তার সীগাহ থেকে বের হওয়া): এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে রূপান্তর কেবল বাহ্যিক ওযন বা সীগাহতে হবে, মূল বর্ণ ঠিক থাকবে। ফলে «يَدٌ» (মূল: يَدَيٌ) ও «دَمٌ» (মূল: دَمَوٌ)-এর মতো শব্দ বের হয়ে গেল; কারণ সেখানে হরফে ইল্লত বিলুপ্ত হয়েছে, সীগাহ রূপান্তরিত হয়নি।
«صِيغَتِهِ»-এর ইযাফত: শব্দটিকে যমীরের দিকে মুযাফ করায় স্পষ্ট হলো যে রূপান্তরটি স্বয়ং সেই শব্দের পূর্ব রূপ থেকেই হয়েছে। ফলে আসমায়ে মুশতাক্কাহ (اسماء مشتقة) বের হয়ে গেল; কারণ সেগুলো অন্য শব্দ থেকে নয়, বরং তাদের মাসদার (مصدر) থেকে সৃষ্টি হয়।
«الْأَصْلِيَّةِ» (মূল রূপ হওয়া): এর দ্বারা শায (شاذ বা নিয়মবহির্ভূত) জমাগুলো বের হয়ে গেল। যেমন: «قَوْسٌ»-এর জমা «أَقْوُسٌ» (যা সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী أَقْوَاسٌ হওয়ার কথা ছিল)।

চতুর্থ বিষয়: ‘আদলের প্রকারভেদ ও উদাহরণসমূহ

‘আদল মূলত দুই প্রকার:

১. عَدْلٌ تَحْقِيقِيٌّ
রূপান্তরের পক্ষে স্পষ্ট বহিঃদলিল আছে (যেমন: ثُلَاثَ، مَثْلَثَ، أُخَرَ، جُمَعَ)
২. عَدْلٌ تَقْدِيرِيٌّ
রূপান্তরের পক্ষে দলিল নেই, কেবল অনুমানকৃত (যেমন: عُمَرُ، بَابُ قَطَامِ)

১. عَدْلٌ تَحْقِيقِيٌّ (আদলে তাহকীক্বী):

যে শব্দটির গায়রে মুনসারিফ হওয়া ছাড়াও বাস্তব জগতে (خارج) অন্য কোনো অকাট্য দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত যে শব্দটি তার আসল রূপ থেকে রূপান্তরিত হয়ে গঠিত হয়েছে। মুসান্নিফ এর ৪টি উদাহরণ দিয়েছেন:

(ক ও খ) «ثُلَاثَ» এবং «مَثْلَثَ»:
এদের মধ্যে মান‘-এ সারফের দুটি কারণ হলো: وَصْفٌ এবং عَدْلٌ تَحْقِيقِيٌّ
দলিল: এগুলোর অর্থ হলো «ثَلَاثَةً ثَلَاثَةً» (তিনটি তিনটি করে)। কুরআনে এসেছে: ﴿فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ﴾। কায়েদা হলো—«إِنَّ تَكْرَارَ الْمَعْنَى يَدُلُّ عَلَى تَكْرَارِ اللَّفْظِ» (অর্থের পুনরাবৃত্তি শব্দের পুনরাবৃত্তির ওপর প্রমাণ বহন করে)। সুতরাং নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হলো যে «ثُلَاثَ» ও «مَثْلَثَ» মূলত «ثَلَاثَة ثَلَاثَة» থেকে معدول (রূপান্তরিত)।
তারকীবগত ফায়দা: عدلوصف বিশিষ্ট শব্দগুলো বাক্যে موصوف-এর সিফাত, ذو الحال-এর হাল, অথবা মুবতাদার খবর হয়। যেমন: «جَاءَ الْقَوْمُ رُبَاعَ» (হাল)।
(গ) «جُمَعُ»: এটি «جَمْعَاءُ»-এর বহুবচন।
দলিল: «فَعْلَاءُ» ওযনের জমার ৩টি স্বীকৃত রূপ রয়েছে: «فِعَالٌ» (صِحَارَى), «فُعْلٌ» (حُمْرٌ), এবং «فَعْلَاوَاتٌ» (صَحْرَاوَاتٌ)। কিন্তু «جُمَعُ» শব্দটি «فُعَلُ»-এর ওযনে এসেছে যা এই তিন ওযনের বাইরে। অথচ আরবরা একে «جَمْعَاءُ»-এর জমা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সুতরাং এটি অকাট্যভাবে معدول
(ঘ) «أُخَرُ»: এটি «أُخْرَى» (ইসমে তাফযীলের স্ত্রীলিঙ্গ)-এর বহুবচন।
দলিল: ইসমে তাফযীল ব্যবহারের ৩টি সুরত রয়েছে: (১) ‘مِنْ’-এর সাথে, (২) الف لام-এর সাথে, (৩) اضافة-এর সাথে। কিন্তু «أُخَرُ» শব্দটি এই ৩টি সুরতের কোনোটি ছাড়াই বহুবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং এটি তার মূল রূপ থেকে معدول

২. عَدْلٌ تَقْدِيرِيٌّ (আদলে তাক্বদীরী):

যে শব্দের রূপান্তরের পক্ষে বাস্তব জগতে কোনো স্বতন্ত্র দলিল নেই; কেবল আরবদেরকে শব্দটি তানভীন ছাড়া (গায়রে মুনসারিফ) পড়তে দেখে নাহববিদগণ তার মধ্যে একটি ‘কাল্পনিক ‘আদল’ (عدل تقدیری) ধরে নিয়েছেন।

দৃষ্টান্ত ১: «عُمَرُ» (উমার):
আরবরা «عُمَرُ» শব্দটিকে গায়রে মুনসারিফ হিসেবে পড়তেন। কিন্তু নাহববিদগণ এতে কেবল একটি কারণ খুঁজে পান—مَعْرِفَةٌ (عَلَم)। গায়রে মুনসারিফ হতে দুটি কারণ আবশ্যক হওয়ায় তাঁরা অনুমান করে নেন যে, এটি মূলত «عَامِرٌ» (ফা‘ইলুন) থেকে معدول হয়ে «عُمَرُ» (ফু‘আলুন) হয়েছে।
দৃষ্টান্ত ২: «بَابُ قَطَامِ فِي تَمِيمٍ»:
বনু তামীম গোত্রের লোকেরা «فَعَالِ» ওযনের নারীদের নামসমূহ (যেমন: «قَطَامِ», «حَذَامِ») معرب এবং غير منصرف হিসেবে পড়ে। এতে ‘মা‘রিফাহ’ ছাড়া দ্বিতীয় কারণ না থাকায় অনুমান করা হয়েছে যে, এগুলো মূলত «قَاطِمَةُ», «حَاذِمَةُ» থেকে معدول হয়ে এসেছে।

«تَحْقِيقًا أَوْ تَقْدِيرًا»-এর তারকীব (৪টি সুরত):

  1. تمييز: «خُرُوجُهُ»-এর ইযাফতের অস্পষ্টতা দূর করতে تمييز হিসেবে منصوب
  2. كَانَ مَحْذُوف-এর خبر: (تقدير: كَانَ الْخُرُوجُ تَحْقِيقًا أَوْ تَقْدِيرًا)।
  3. مفعول مطلق: উহ্য ফে‘লের জন্য (تقدير: حَقَّ الْعَدْلُ تَحْقِيقًا أَوْ قُدِّرَ الْعَدْلُ تَقْدِيرًا)।
  4. حال: «خُرُوجُهُ» থেকে حال হিসেবে।

«فَعَالِ» ওযনের ৪টি সুরত (একটি ব্যাকরণিক ফায়দা):

১. فَعَالِ أمر (নির্দেশসূচক ক্রিয়া):
যেমন: «نَزَالِ» (অর্থ: اِنْزِلْ / নেমে এসো)।
২. فَعَالِ مصدر معرفة (সুনির্দিষ্ট মাসদার):
যেমন: «فَجَارِ» (অর্থ: اَلْفُجُورُ / পাপাচার)।
৩. فَعَالِ صفت برائے مؤنث (নারীর গালিসূচক বিশেষণ):
যেমন: «فَسَاقِ» (অর্থ: فَاسِقَةٌ / পাপাচারিণী)।
৪. فَعَالِ اسم عَلَم برائے مؤنث (নারীদের নাম):
যেমন: «قَطَامِ», «غَلَابِ», «حَضَارِ»।

📌 خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ)

আলোচ্য বিষয় প্রধান বক্তব্য ও ব্যাকরণিক তত্ত্ব
১. ‘আদল (عَدْلٌ)-এর তা'রীফ মূল অক্ষর অক্ষুণ্ণ রেখে কোনো নাহবী/সারফী কায়েদা ছাড়াই শব্দের আসল সীগাহ ত্যাগ করে অন্য সীগাহ ধারণ করা।
২. ‘আদল-কে প্রথমে আনার কারণ এটি مطلق (শর্তহীন); আর নিয়ম হলো مطلق-কে مقيد (শর্তযুক্ত)-এর ওপর প্রাধান্য দিতে হয়।
৩. عَدْلٌ تَحْقِيقِيٌّ যার রূপান্তরের পক্ষে সুস্পষ্ট বহিঃদলিল বিদ্যমান। যেমন: ثُلَاثَ، مَثْلَثَ (অর্থের তিকরার), جُمَعُ (ওযনের ভিন্নতা), أُخَرُ (শর্তহীন ব্যবহার)।
৪. عَدْلٌ تَقْدِيرِيٌّ যার রূপান্তরের পক্ষে বহিঃদলিল নেই, কেবল গায়রে মুনসারিফ হওয়ার শর্ত পূরণে অনুমান করা হয়েছে। যেমন: عُمَرُ (عامر থেকে) এবং قَطَامِ (قاطمة থেকে বনু তামীমের ভাষায়)।
৫. «فَعَالِ»-এর ৪ সুরত ১. الامر (نَزَالِ) ২. المصدر (فَجَارِ) ৩. الصفة (فَسَاقِ) ৪. اسم العلم (قَطَامِ)।
পরের দরস আগের দরস