মূল ইবারত ও মতন (المتن) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।
দরসের রূপরেখা (تشریح)
আজকের দরসে মূলত দুটি মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে:
- لَفْظٌ (লাফয)-এর আভিধানিক (لغوی) ও পারিভাষিক (اصطلاحی) সংজ্ঞা।
- وُضِعَ (উদি‘আ) এবং لِمَعْنًى (লি-মা‘নান)-এর তাহকীক (বিশ্লেষণ)।
প্রথম বিষয়: ‘لَفْظٌ’-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা
১. আভিধানিক অর্থ (اللغوی):
لفظ-এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে «الرَّمْيُ» অর্থাৎ ‘নিক্ষেপ করা বা ফেলে দেওয়া’ (پھینکنا)।
যেমন আরবরা বলে থাকে:
(অর্থ: আমি খেজুর খেয়েছি এবং আঁটিটি বাইরে ফেলে দিয়েছি/নিক্ষেপ করেছি।)
অনুরূপভাবে বলা হয়:
(অর্থ: যাঁতা পিষ্ট করার পর আটা বাইরে নিক্ষেপ করেছে।)
২. পারিভাষিক অর্থ (الاصطلاحی):
ইলমে নাহবের পরিভাষায় لفظ-এর সংজ্ঞা হলো:
(অর্থ: মানুষ মুখ দিয়ে যা কিছু উচ্চারণ করে—তা অল্প হোক বা বেশি হোক, অর্থপূর্ণ হোক বা অর্থহীন হোক, হাকীক্বীভাবে উচ্চারিত হোক বা বিধানগতভাবে হোক, একক শব্দ হোক বা যৌগিক বাক্য হোক—সবই লাফয।)
সংজ্ঞার শর্ত ও ক্বাইদসমূহের (قیودات) বিশদ ব্যাখ্যা:
ক্বাইদ ১ «مَا يَتَلَفَّظُ بِهِ الْإِنْسَانُ» (মানুষ যা উচ্চারণ করে):
আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে, ‘মানুষ’ শব্দ ব্যবহারের কারণে ফেরেশতাদের কথা (کلام الملائکہ) এবং জিনদের কথা (کلام الجن) লাফযের সংজ্ঞার বাইরে চলে গেছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয়; কারণ এখানে «بِالْقُوَّةِ» (উচ্চারণ করার সুপ্ত সামর্থ্য থাকা) উদ্দেশ্য। অর্থাৎ এমন প্রতিটি ধ্বনি যা উচ্চারণ করার ক্ষমতা মানুষের রয়েছে, তা মানুষের মুখ থেকে উচ্চারিত না হলেও লাফযের অন্তর্ভুক্ত হবে।
যেমন—ফেরেশতাদের বাণী:
এবং জিনদের উক্তি:
যেহেতু মানুষ এসব বাক্য উচ্চারণ করতে সক্ষম, তাই এগুলোও ‘কালিমাহ’ ও ‘লাফয’-এর সংজ্ঞার ভেতরেই থাকবে।
ক্বাইদ ২ «قَلِيلًا كَانَ أَوْ كَثِيرًا» (অল্প হোক বা অধিক হোক):
শব্দটি কদাচিৎ বা একবার উচ্চারিত হোক অথবা বারবার উচ্চারিত হোক—উভয়টিই লাফয।
ক্বাইদ ৩ «مَوْضُوعًا كَانَ أَوْ مُهْمَلًا» (অর্থপূর্ণ হোক বা অর্থহীন হোক):
- موضوع (মাওদূ‘): অর্থবোধক শব্দ, যেমন—«زَيْدٌ» (যায়েদ)।
- مهمل (মুহমাল): অর্থহীন শব্দ, যেমন যায়েদ শব্দের উল্টো—«دَيْزٌ» (দাইয)।
ক্বাইদ ৪ «حَقِيقَةً كَانَ أَوْ حُكْمًا» (বাস্তবে উচ্চারিত হোক বা বিধানগতভাবে):
- حقیقتاً: যা সরাসরি মুখ দিয়ে উচ্চারিত হয়।
- حکماً: যা মুখ দিয়ে সরাসরি উচ্চারিত হয় না, কিন্তু ব্যাকরণগতভাবে সেখানে বিদ্যমান থাকে। যেমন বিভিন্ন ক্রিয়ার ভেতরে লুকিয়ে থাকা সর্বনাম বা ضمائر مستترة। উদাহরণস্বরূপ: «اِضْرِبْ» (প্রহার করো)-এর ভেতরে «أَنْتَ» সর্বনামটি লুক্কায়িত রয়েছে। এই «أنت» যদিও মুখে حقیقتاً উচ্চারিত হয়নি, কিন্তু এটি حکماً উচ্চারিত হিসেবেই গণ্য হবে।
ক্বাইদ ৫ «مُفْرَدًا كَانَ أَوْ مُرَكَّبًا» (একক হোক বা যৌগিক হোক):
একক শব্দ (مفرد) এবং একাধিক শব্দের যৌগিক বাক্য (مركب)—উভয়টিই লাফযের অন্তর্ভুক্ত।
ইবারত সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ আপত্তি ও সমাধান:
আপত্তি: মুসান্নিফের কিতাবের ইবারতে «الْكَلِمَةُ» হলো مبتدأ (মুক্তাদা) যা স্ত্রীবাচক (مؤنث), আর «لَفْظٌ» হলো তার خبر (খবর) যা পুরুষবাচক (مذكر)। অথচ আরবি ব্যাকরণের সর্বসম্মত নিয়ম হলো—মুক্তাদা ও খবরের মধ্যে পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার ক্ষেত্রে মিল (مطابقت فی التذكير والتأنيث) থাকা আবশ্যক। এখানে সেই মিল রক্ষা করা হয়নি কেন?
সমাধান: মুক্তাদা ও খবরের মাঝে লিঙ্গগত মিল থাকার এই বাধ্যবাধকতা শুধুমাত্র اسماء مشتقة (রূপান্তরিত বিশেষ্যসমূহ)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু «لَفْظٌ» শব্দটি কোনো মুশতাক নয়, বরং এটি একটি مصدر (ক্রিয়ামূল)। আর মাসদার আরবি ভাষায় কখনো মুযাক্কার আবার কখনো মুয়ান্নাস উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হতে পারে। তাই এখানে বিধানগতভাবে (حکمی طور پر) উভয়ের মাঝে পূর্ণ সামঞ্জস্য বিদ্যমান রয়েছে।
দ্বিতীয় বিষয়: ‘وُضِعَ’ এবং ‘لِمَعْنًى’-এর তাহকীক
১. ‘وُضِعَ’ (উদি‘আ)-এর তাহকীক:
- সারফী বিশ্লেষণ: এটি باب فَتَحَ يَفْتَحُ থেকে ماضی مجہول-এর সীগাহ্। এর মূল مصدر (মাসদার) হলো وَضْعٌ (ওয়াদ‘)।
- আভিধানিক অর্থ: কোনো কিছু ‘রাখা’ বা ‘নির্ধারণ করা’ (رکھنا اور متعین کرنا)।
পারিভাষিক অর্থ (منطق ও নাহবের পরিভাষায়):
(অর্থ: একটি বস্তুকে অপর একটি বস্তুর জন্য এমনভাবে সুনির্দিষ্ট ও খাস করা, যাতে প্রথম বস্তুটি উচ্চারণ করলে বা ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্বিতীয় বস্তুটি বুঝে আসে।)
উদাহরণ: ধোঁয়া দেখা যাওয়া বা অনুভব হওয়া মাত্রই যেমন মানুষের মস্তিষ্কে আগুনের অস্তিত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে, ঠিক তেমনি কোনো শব্দ উচ্চারণ করার সাথে সাথেই তার মূল অর্থ বুঝে আসাকে ‘ওয়াদ‘’ বলে (যেমনটি ‘তায়সীরুল মানতিক’ কিতাবে বর্ণিত হয়েছে)।
২. ‘لِمَعْنًى’ (লি-মা‘নান)-এর তাহকীক:
আভিধানিক অর্থ:
(অর্থ: কোনো বস্তুর মাধ্যমে যা সংকল্প বা উদ্দেশ্য করা হয়, অর্থাৎ মূল উদ্দিষ্ট ভাব।)
সারফী বিশ্লেষণ:
«مَعْنًى» শব্দটি باب ضَرَبَ يَضْرِبُ-এর ধাতু «عَنَى يَعْنِي» থেকে গঠিত। এটি কি اسم مفعول, নাকি مصدر ميمى, নাকি اسم ظرف?
যদি এটি اسم مفعول হয়, তবে রূপান্তরের পূর্বে এর মূল গঠন (اصل) ছিল «مَعْنُوِيٌ» (যেমন ‘رَمَى يَرْمِي’ থেকে আসে ‘مَرْمُوِيٌ’ → ‘مَرْمِيٌّ’)।
‘مَعْنُوِيٌ’ থেকে ‘مَعْنًى’ হওয়ার ৬টি সরফী কায়দা (صرفی تعلیلات):
«مَعْنًى»-কে কেন ‘اسم مفعول’ ধরতে হবে?
যদি «مَعْنًى» শব্দটিকে اسم ظرف ধরা হয়, তবে কালিমাহর অর্থ হবে: "কালিমাহ এমন একটি শব্দ যা সংকল্পের স্থানের (مکان قصد) জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে"—যা স্পষ্টত ভুল ও অর্থহীন।
আর যদি এটিকে مصدر ميمى ধরা হয়, তবে অর্থ হবে: "কালিমাহ এমন একটি শব্দ যা স্বয়ং সংকল্প বা ইচ্ছার (نفس قصد) জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে"—এটিও ভুল।
নাহব ও বালাগাতের সর্বসম্মত মূলনীতি (قاعدہ):
কোনো ইবারতে যখন اسم ظرف বা مصدر ميمى উল্লেখ থাকে এবং তাদের প্রকৃত অর্থে গ্রহণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন সেটিকে রূপকভাবে اسم مفعول-এর অর্থে গ্রহণ করা ওয়াজিব।
অতএব, প্রমাণিত হলো যে এখানে «مَعْنًى» শব্দটি اسم مفعول অর্থাৎ «مَقْصُودٌ» (উদ্দিষ্ট অর্থ)-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।