المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।
"ইসম হলো এমন কালিমাহ, যা নিজে নিজে এমন অর্থ প্রকাশ করে যা তিন কালের কোনো একটি কালের সাথে যুক্ত নয়। আর এর বৈশিষ্ট্যসমূহের (علامات) অন্তর্ভুক্ত হলো: লাম (ال) প্রবেশ করা, জার (جرّ) হওয়া, তানভীন গ্রহণ করা, ইযাফত হওয়া এবং তার দিকে ইসনাদ হওয়া (মুসনাদ ইলাইহি হওয়া)।"
দরসের রূপরেখা (تشریح)
আজকের দরসে মূলত পাঁচটি মৌলিক বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:
- «مَا»-এর তাহকীক এবং তৎসংশ্লিষ্ট যমীর (ضمير)-এর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ।
- ইসমের বিস্তারিত তা'রীফ (تعريف)।
- তা'রীফে ব্যবহৃত শর্তাবলির ফায়দা ও উপযোগিতা (فوائدِ قیود)।
- ইসমের ৫টি সুবিখ্যাত আলামতের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা।
- উক্ত আলামতসমূহ ইসমের সাথে খাস হওয়ার যৌক্তিক কারণ (وجہِ تخصیص)।
প্রথম বিষয়: «مَا»-এর তাহকীক ও যমীর সংক্রান্ত আলোচনা
মুসান্নিফ (المصنف) ইসমের তা'রীফে যে «مَا» শব্দ ব্যবহার করেছেন, তা দ্বারা উদ্দেশ্য কী?
বিশুদ্ধতম মত: এখানে «مَا» দ্বারা মূলত «الْكَلِمَةُ» উদ্দেশ্য।
একটি ব্যাকরণিক اشکال (আপত্তি) ও সমাধান:
আপত্তি: «مَا» দ্বারা যদি «الْكَلِمَةُ» (যা স্ত্রীবাচক / مؤنث) উদ্দেশ্য হয়, তবে এর পরবর্তী ফে‘ল «دَلَّ»-এর ভেতরে তো পুংলিঙ্গ যমীর «هُوَ» রয়েছে যা فاعل হিসেবে প্রযুক্ত। এখানে مرجع (মারজি‘) مؤنث হওয়া সত্ত্বেও فاعل যমীরটি مذكر আনা হলো কেন?
সমাধান: «دَلَّ» ফে‘লের ভেতরের «هُوَ» যমীরটি সরাসরি «الكلمة»-র দিকে ফিরছে না, বরং তা বাহ্যত দৃশ্যমান «مَا» শব্দটির দিকে ফিরছে। আর আরবি ভাষায় «مَا» শব্দটি শব্দগতভাবে (لفظاً) পুংলিঙ্গ (مذكر) এবং অর্থগতভাবে (معنىً) স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث)। এমন শব্দের ক্ষেত্রে مذكر ও مؤنث উভয় প্রকার যমীর ব্যবহার করাই ব্যাকরণগতভাবে সম্পূর্ণ জায়েয। সুতরাং যমীরটি لفظاً «مَا»-এর দিকে ফিরিয়ে পরবর্তীতে «مَا» দ্বারা «الْكَلِمَةُ» অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় বিষয়: ইসমের বিস্তারিত তা'রীফ (تعريف)
মুসান্নিফ দুর্বল ও সাধারণ ছাত্রদের কথা বিবেচনা করে ইসমের বিশদ তা'রীফ উল্লেখ করেছেন:
(অর্থ: ইসম এমন একটি কালিমাহ, যা নিজের অর্থ নিজে প্রকাশ করতে অন্য কোনো শব্দের মুখাপেক্ষী হয় না এবং তার মূল অর্থের সাথে অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ—এই তিন কালের কোনো কালই সম্পৃক্ত থাকে না।)
উদাহরণ: «كِتَابٌ» (বই), «قَلَمٌ» (কলম), «زَيْدٌ» (যায়েদ)। এগুলো স্বাধীনভাবে নিজের অর্থ দেয় এবং এদের মধ্যে কোনো কাল নেই।
তৃতীয় বিষয়: ইসমের তা'রীফে শর্তাবলির উপযোগিতা (فوائدِ قیود)
منطق (যুক্তিবিদ্যা) অনুসারে যেকোনো তা'রীফে চারটি বিষয় থাকে: معرَّف, تعريف, جنس এবং فصل।
«غَيْرَ» শব্দের ৩টি اعرابی (পড়ার) সুরত:
- منصوب (غَيْرَ): এটি «دَلَّ»-এর ভেতরের فاعل যমীর «هُوَ» অথবা «مَعْنًى» থেকে حال (হাল) হিসেবে মানসূব হবে।
- مرفوع (غَيْرُ): এটি «الِاسْمُ» মুবতাদার জন্য خبر ثانی (দ্বিতীয় খবর) হিসেবে মারফূ‘ হবে।
- مجرور (غَيْرِ): এটি তার পূর্ববর্তী শব্দ «مَعْنًى»-এর জন্য صفت (সিফাত) হিসেবে মাজরূর হবে।
চতুর্থ বিষয়: ইসমের ৫টি প্রসিদ্ধ আলামতের বিশ্লেষণ
মুসান্নিফ কিতাবে বলেছেন: «وَمِنْ خَوَاصِّهِ: دُخُولُ اللَّامِ، وَالْجَرُّ، وَالتَّنْوِينُ، وَالْإِضَافَةُ، وَالإِسْنَادُ إِلَيْهِ»।
«خَوَاصّ»-এর তাহকীক:
- একবচন: خَاصَّةٌ (খাসসাহ)।
- পারিভাষিক অর্থ: «مَا تُوجَدُ فِيهِ وَلَا تُوجَدُ فِي غَيْرِهِ» (এমন বৈশিষ্ট্য যা কেবল সেই নির্দিষ্ট বস্তুর মাঝেই পাওয়া যায়, অন্য কোনো বস্তুতে পাওয়া যায় না)।
একটি আপত্তি ও জবাব: «خواص» শব্দটি صيغة منتهى الجموع (যা جمع كثرت)। جمع كثرت তো তিনের অধিক থেকে নিয়ে অসংখ্য পর্যন্ত বোঝায়। অথচ মুসান্নিফ মাত্র ৫টি আলামত উল্লেখ করলেন কেন?
জবাব: মুসান্নিফ এর পূর্বে «مِنْ» অব্যয় এনেছেন (من خواصه), যা تبعيض (আংশিকতা) প্রকাশ করে। অর্থাৎ "এর অগণিত আলামতের মধ্য থেকে কতিপয় প্রধান আলামত হলো..."।
├── ১. دُخُولُ اللَّامِ (শুরুতে আলিফ-লাম আসা)
├── ২. الْجَرُّ (মাজরূর হওয়া)
├── ৩. التَّنْوِينُ (তানভীন হওয়া)
├── ৪. الْإِضَافَةُ (ইযাফত হওয়া)
└── ৫. الإِسْنَادُ إِلَيْهِ (তার প্রতি ইসনাদ হওয়া)
৫টি আলামতের বিশদ বিবরণ:
১. دُخُولُ اللَّامِ (শুরুতে আলিফ-লাম যুক্ত হওয়া):
শব্দের শুরুতে ‘ال’ প্রবেশ করা ইসমের অন্যতম স্পষ্ট আলামত। যেমন: «الرَّجُلُ»।
হরফে তা'রীফ নিয়ে ৩টি মাযহাব:
- ইমাম সীবাবাইহ (رحمه الله): মূল হরফে তা'রীফ কেবল لام (লাম সাকিন)। শুরুতে উচ্চারণের সুবিধার জন্য হামযায়ে ওয়াসল (ا) আনা হয়। মুসান্নিফ «دخول اللام» বলে ইমাম সীবাবাইহর মতকেই অগ্রগণ্য সাব্যস্ত করেছেন।
- ইমাম খলীল ইবনে আহমদ (رحمه الله): হামযা ও লাম উভয়টি মিলেই হরফে তা'রীফ (যেমন: هل ও بل)।
- ইমাম মুবাররাদ (رحمه الله): মূল হরফে তা'রীফ কেবল همزة (হামযা)।
২. الْجَرُّ (মাজরূর হওয়া বা যের গ্রহণ করা):
হরফে জার বা ইযাফতের কারণে কোনো শব্দের শেষে যের (کسرہ) হওয়া কেবল ইসমের বৈশিষ্ট্য। যেমন: «بِزَيْدٍ»।
اعراب: «الجرّ» শব্দটিকে পেশসহ (الْجَرُّ) পড়লে তা «دخول»-এর ওপর আতফ হবে, আর যেরসহ (الْجَرِّ) পড়লে তা «اللام»-এর ওপর আতফ হবে।
৩. التَّنْوِينُ (শব্দের শেষে তানভীন হওয়া):
শব্দের শেষে তানভীন (ً ٍ ٌ) আসা ইসমের আলামত। যেমন: «رَجُلٌ», «وَرَقَةٌ»।
তানভীনের ৫ প্রকার (ফার্সি কবিতার আলোকে):
- تنوين تمكّن (তানভীনে তামাক্কুন): যা প্রমাণ করে শব্দটি মু'রাব ও মুনসারিফ। যেমন: «زَيْدٌ»।
- تنوين تنكير (তানভীনে তানগীর): যা শব্দটিকে নাকিরাহ বা অনির্দিষ্ট বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন: «صَهٍ» (যে কোনো সময়ের নীরবতা)।
- تنوين عوض (তানভীনে ‘ইওয়াদ): যা কোনো উহ্য বাক্য বা শব্দের পরিবর্তে আসে। যেমন: «يَوْمَئِذٍ» (মূলত ছিল: يوم إذ كان كذا) অথবা «كُلٌّ» (মূলত ছিল: كل إنسان)।
- تنوين مقابلة (তানভীনে মুকাবালাহ): যা جمع مؤنথ سالم-এর শেষে جمع مذكر سالم-এর ‘ن’-এর সমকক্ষ হিসেবে আসে। যেমন: «مُسْلِمَاتٌ»।
- تنوين ترنّم (তানভীনে তারান্নুম): যা কবিতার ছন্দ ও সুর বজায় রাখতে চরণের শেষে আসে। এটি ইসম, ফে‘ল, হারফ সবার শেষেই আসতে পারে। (যেমন জারীরের কবিতায় ফে‘লে মাযী «أَصَابَنْ»-এর শেষে তানভীন এসেছে)।
নীতি: প্রথম ৪ প্রকার তানভীন একান্তই ইসমের বৈশিষ্ট্য। তাই «وللأكثر حكم الكل» (অধিকাংশের বিধানই সর্বজনীন বিধান) মূলনীতি অনুসারে তানভীনকে সামগ্রিকভাবে ইসমের আলামত বলা হয়েছে।
৪. الْإِضَافَةُ (শব্দটি মুযাফ হওয়া):
কোনো শব্দ অপর শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত বা মুযাফ (مضاف) হওয়া ইসমের আলামত। যেমন: «كِتَابُ بَكْرٍ»।
একটি আপত্তি: কখনো কখনো ফে‘ল-এর দিকেও ইযাফত হয়; যেমন কুরআনে আছে: ﴿يَوْمَ يَنفَعُ الصَّادِقِينَ صِدْقُهُمْ﴾। এখানে ‘يَوْمَ’ শব্দটি ‘يَنفَعُ’ (ফে‘ল)-এর দিকে মুযাফ হয়েছে।
জবাব ১: এটি অত্যন্ত বিরল সুরত; আর বিরল সুরতের ওপর ভিত্তি করে সাধারণ কায়েদা ভেঙে যায় না।
জবাব ২: ‘يَنفَعُ’ বাহ্যত ফে‘ল হলেও এখানে এটি تأويل مصدر (মাসদারের অর্থে) অর্থাৎ «يَوْمَ نَفْعِ الصَّادِقِينَ» হিসেবে মূলত ইসমের হুকুমে রয়েছে।
মুযাফ ও মুযাফ ইলাইহি চেনার ৫টি সুবর্ণ কায়েদা:
- দুটি ইসমের দ্বিতীয়টি معرف باللام হলে → প্রথমটি مضاف, দ্বিতীয়টি مضاف إليه (যেমন: كِتَابُ اللَّهِ)।
- দুটি ইসমের দ্বিতীয়টি اسم عَلَم (ব্যক্তির নাম) হলে → প্রথমটি مضاف, দ্বিতীয়টি مضاف إليه (যেমন: قَلَمُ بَكْرٍ)।
- দুটি ইসমের দ্বিতীয়টি اسم موصول হলে → প্রথমটি مضاف, দ্বিতীয়টি مضاف إليه (যেমন: مُصَدِّقُ الَّذِي)।
- দুটি ইসমের দ্বিতীয়টি اسم إشارة হলে → প্রথমটি مضاف, দ্বিতীয়টি مضاف إليه (যেমন: رَبِّ هَٰذَا الْبَيْتِ)।
- দুটি ইসমের দ্বিতীয়টি যমীর (ضمير) হলে → প্রথমটি مضاف, দ্বিতীয়টি مضاف إليه (যেমন: قَلَمُكَ)।
৫. الْإِسْنَادُ إِلَيْهِ (মুসনাদ ইলাইহি হওয়া):
কোনো শব্দের দিকে অপর কোনো ফে‘ল বা বক্তব্যকে সম্পর্কিত করা। যেমন: «كَتَبَ زَيْدٌ» (যায়েদ লিখেছে)। এখানে লেখার কাজটি ‘যায়েদ’-এর দিকে সম্পর্কিত করা হয়েছে। সুতরাং ‘যায়েদ’ মুসনাদ ইলাইহি এবং এটি নিশ্চিতভাবে একটি ইসম। ইসম চেনার সবচেয়ে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য আলামত হলো এটি।