دروس الكافية

দরসে কাফিয়া - কাফিয়া কিতাবের পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ডিজিটাল দরসগাহ

আপনি সর্বশেষ পড়েছিলেন:

দরসে কাফিয়া (দরস-৩৪) | তানাযু’ ফিল ‘আমল: ১ম ক্রিয়াকে আমল দিলে ২য় ক্রিয়ার বিধান ও ইমরুল কায়েসের কবিতার তাহকীক

দরসে কাফিয়া — দরস নং ৩৪

মূল বিষয়বস্তুর রূপরেখা:

  • কূফীদের মতানুযায়ী প্রথম ক্রিয়াকে ‘আমল’ দিলে দ্বিতীয় ক্রিয়ার ‘ফায়েল’ (فاعل)-এর বিধান ও তার যৌক্তিক বিশ্লেষণ।
  • প্রথম ক্রিয়াকে ‘আমল’ দিলে দ্বিতীয় ক্রিয়ার ‘মাফ‘ঊল’ (مفعول)-এর বিধান (সাধারণ ক্রিয়া ও ‘আফ‘আলুল কুলূব’-এর ক্ষেত্রে বিধান)।
  • ইমরুল কায়েসের কবিতার পূর্ণাঙ্গ তাহকীক, ব্যাকরণগত তারকীব এবং কূফীদের দলিলের তাত্ত্বিক খণ্ডন (‘ফাসাদুল মা‘না’ বা অর্থগত বিপর্যয়)

১. প্রথম ক্রিয়াকে ‘আমল’ দিলে দ্বিতীয় ক্রিয়ার ‘ফায়েল’ (فاعل)-এর বিধান

ক. মূল ব্যাকরণিক মূলনীতি

যখন কোনো বাক্যে দুটি ক্রিয়া (فعل أولفعل ثان) পরবর্তী একটিমাত্র বাহ্যিক বিশেষ্য (اسم ظاهر)-এর ওপর আমল করতে চায় এবং আমরা কূফী মাযহাব অনুযায়ী প্রথম ক্রিয়াকে আমল দেই, তখন দ্বিতীয় ক্রিয়াটি যদি ‘ফায়েল’ দাবি করে, তবে দ্বিতীয় ক্রিয়ার মধ্যে ওই বাহ্যিক বিশেষ্যের অনুরূপ একটি সর্বনাম (ضمیر) সংযুক্ত করা ওয়াজিব বা আবশ্যক

খ. এই বিধানের যৌক্তিক প্রমাণ (عقلي دليل)

দ্বিতীয় ক্রিয়ার ফায়েল পূর্ণ করার জন্য ব্যাকরণগতভাবে ৩টি সম্ভাবনাই থাকতে পারত:

১. ফায়েলকে বিলুপ্ত (حذف) করা:

এটি সম্পূর্ণ নাজায়েয ও অসম্ভব। কারণ ফায়েল হলো বাক্যের মূল ভিত্তি বা স্তম্ভ (عمدة)। মূল উপাদানকে ফেলে দিলে বাক্য অসম্পূর্ণ ও অর্থহীন হয়ে যায়।

২. বাহ্যিক বিশেষ্যটিকে পুনরায় স্পষ্ট শব্দে মুখে উচ্চারণ করা (إظهار/ذكر):

এটিও অনুচিত। কারণ একই বাক্যে অপ্রয়োজনে একই শব্দের পুনরাবৃত্তি (تكرار) ঘটে, যা আরবি সাহিত্যের প্রাঞ্জলতা ও অলংকারশাস্ত্রের (بلاغت) পরিপন্থী।

৩. ফায়েলের স্থানে যমীর (সর্বনাম) আনা (إضمار):

যেহেতু ওপরের দুটি পথ বন্ধ, তাই একমাত্র ও বাধ্যতামূলক সমাধান হলো দ্বিতীয় ক্রিয়ার সাথে একটি যমীর (সর্বনাম) আনা।

গ. একটি জটিল প্রশ্নের উত্থাপন ও তার নিরসন (ইযমার কাবলায যিকরের সংশয়)

প্রশ্ন (الإشكال):

যদি দ্বিতীয় ক্রিয়ায় সর্বনাম আনা হয়, তবে সর্বনামের মূল বিশেষ্য (مرجع) বাক্যের শেষে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী, যে বিশেষ্যের দিকে সর্বনাম ফিরে যায়, তা বাক্যে সর্বনামের পূর্বে উল্লেখ থাকা আবশ্যক। পূর্বে উল্লেখ ছাড়া সর্বনাম আনলে তাকে আরবি ব্যাকরণে ‘ইযমার কাবলায যিকর’ (إضمار قبل الذكر) বলা হয়, যা সাধারণভাবে নাজায়েয। তাহলে এখানে তা কীভাবে জায়েয হলো?

উত্তর (الجواب):

‘ইযমার কাবলায যিকর’ দুই প্রকার:

  1. উচ্চারণ ও পদমর্যাদা উভয় দিক থেকেই পূর্বে আনা: এটি সর্বসম্মতভাবে নাজায়েয।
  2. উচ্চারণে পরে (لفظاً مؤخر) হলেও পদমর্যাদায় পূর্বে হওয়া (رتبةً مقدم): এটি ব্যাকরণে সম্পূর্ণ জায়েয।

এখানে কেন জায়েয: বাহ্যিক বিশেষ্যটি মূলত প্রথম ক্রিয়ার ‘ফায়েল’। আর ফায়েলের স্বাভাবিক পদমর্যাদা হলো ক্রিয়ার সাথে সাথেই থাকা। সুতরাং, শব্দটি উচ্চারণে শেষে আসলেও পদমর্যাদার দিক থেকে সে পূর্বে অবস্থিত। তাই এখানে যমীর আনা সম্পূর্ণ বৈধ।

ঘ. বিস্তারিত উদাহরণসমূহ

১. যখন উভয় ক্রিয়াই ‘ফায়েল’ দাবি করে:

  • একবচনের ক্ষেত্রে:
    ضَرَبَنِي وَأَكْرَمَنِي زَيْدٌ
    (অর্থ: যায়েদ আমাকে প্রহার করেছে এবং সে আমাকে সম্মান করেছে।)
    ➔ বিশ্লেষণ: এখানে প্রথম ক্রিয়া ضَرَبَنِي বাহ্যিক বিশেষ্য زَيْدٌ-কে ফায়েল হিসেবে পেশ (رفع) দিয়েছে। আর দ্বিতীয় ক্রিয়া أَكْرَمَنِي-এর মধ্যে هُوَ (সে) যমীরটি উহ্য ফায়েল রয়েছে।
  • দ্বিবচনের ক্ষেত্রে:
    ضَرَبَنِي وَأَكْرَمَانِي الزَّيْدَانِ
    (অর্থ: উভয় যায়েদ আমাকে প্রহার করেছে এবং তারা দুজন আমাকে সম্মান করেছে।)
    ➔ বিশ্লেষণ: এখানে দ্বিতীয় ক্রিয়ায় দ্বিবচনের আলিফ (ا) যমীর আনা হয়েছে।
  • বহুবচনের ক্ষেত্রে:
    ضَرَبَنِي وَأَكْرَمُونِي الزَّيْدُونَ
    (অর্থ: যায়েদগণ আমাকে প্রহার করেছে এবং তারা সকলে আমাকে সম্মান করেছে।)
    ➔ বিশ্লেষণ: এখানে বহুবচনের ওয়াও (و) যমীর আনা হয়েছে।

২. যখন প্রথম ক্রিয়া ‘মাফ‘ঊল’ এবং দ্বিতীয় ক্রিয়া ‘ফায়েল’ দাবি করে:

  • একবচন: ضَرَبْتُ وَأَكْرَمَنِي زَيْدٌ (আমি প্রহার করেছি এবং যায়েদ আমাকে সম্মান করেছে)।
  • দ্বিবচন: ضَرَبْتُ وَأَكْرَمَانِي الزَّيْدَانِ
  • বহুবচন: ضَرَبْتُ وَأَكْرَمُونِي الزَّيْدُونَ

২. প্রথম ক্রিয়াকে ‘আমল’ দিলে দ্বিতীয় ক্রিয়ার ‘মাফ‘ঊল’ (مفعول)-এর বিধান

যদি প্রথম ক্রিয়াকে আমল দেওয়া হয় এবং দ্বিতীয় ক্রিয়াটি ‘মাফ‘ঊল’ (কর্ম) দাবি করে, তবে আরবি ব্যাকরণে এর দুটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়:

প্রেক্ষাপট ক: সাধারণ ক্রিয়াসমূহের ক্ষেত্রে (عام أفعال)

যদি ক্রিয়াগুলো সাধারণ প্রকৃতির হয়, তবে এখানেও মাফঊল প্রকাশের জন্য ৩টি পদ্ধতি বিবেচনা করা যায়:

  1. মাফঊল পুনরায় স্পষ্ট শব্দে উল্লেখ করা (ذكر مفعول): শব্দের পুনরাবৃত্তির কারণে এটি বর্জনীয়।
  2. মাফঊলকে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করে দেওয়া (حذف مفعول): এটি জায়েয। কারণ মাফঊল হলো বাক্যের অতিরিক্ত অংশ (فضلة - ফযলাহ)। ফায়েলের মতো তা বাক্যের অপরিহার্য স্তম্ভ নয়, তাই একে বাদ দিলে বাক্য ব্যাকরণগতভাবে ভেঙে পড়ে না।
    বিলুপ্তির উদাহরণ: ضَرَبْتُ وَأَكْرَمْتُ زَيْدًا (মূলত ছিল أكرمته, কিন্তু ‘হু’ যমীরটি ফেলে দেওয়া হয়েছে)।
  3. মাফঊলের স্থানে সর্বনাম (যমীর) নিয়ে আসা (إضمار مفعول): এটিই হলো ইমাম ইবনুল হাজিব ও জমহুর নাহুবিদদের মতে সর্বোত্তম ও পছন্দনীয় মত (المختار বা মুখতার)
    যমীর আনার কারণ: যমীর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করলে শ্রোতার মনে কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ থাকে না এবং বক্তার উদ্দেশ্য পুরোপুরি প্রকাশ পায়।

মাফ‘ঊলের ক্ষেত্রে যমীর ব্যবহারের উদাহরণ:

উভয় ক্রিয়া মাফ‘ঊল চাইলে:

  • একবচন: ضَرَبْتُ وَأَكْرَمْتُهُ زَيْدًا (আমি প্রহার করেছি এবং তাকে অর্থাৎ যায়েদকে সম্মান করেছি)।
  • দ্বিবচন: ضَرَبْتُ وَأَكْرَمْتُهُمَا الزَّيْدَيْنِ
  • বহুবচন: ضَرَبْتُ وَأَكْرَمْتُهُمُ الزَّيْدِينَ

প্রথম ক্রিয়া ফায়েল এবং দ্বিতীয় ক্রিয়া মাফ‘ঊল চাইলে:

  • একবচন: ضَرَبَنِي وَأَكْرَمْتُهُ زَيْدٌ
  • দ্বিবচন: ضَرَبَنِي وَأَكْرَمْتُهُمَا الزَّيْدَانِ
  • বহুবচন: ضَرَبَنِي وَأَكْرَمْتُهُمُ الزَّيْدُونَ

প্রেক্ষাপট খ: বিশেষ অবস্থা — যেখানে বাধা রয়েছে

إِلَّا أَنْ يَمْنَعَ مَانِعٌ فَتُظْهِرَ

গ্রন্থকার বলেন: "যদি কোনো বাধা থাকে, তবে মাফ‘ঊলকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে হবে (فَتُظْهِرَ)।"

এই বাধা (مانع) কী এবং কখন সৃষ্টি হয়?
এই বাধাটি সৃষ্টি হয় ‘আফ‘আলুল কুলূব’ (أفعال القلوب - মনস্তাত্ত্বিক উপলব্ধি প্রকাশের ক্রিয়া, যেমন: حَسِبَ, ظَنَّ, عَلِمَ ইত্যাদি)-এর ক্ষেত্রে। কারণ এই ক্রিয়াগুলো সর্বদা দুটি মাফ‘ঊল গ্রহণ করে, যা মূলত একটি বাক্যের ‘মুবতাদা’ ও ‘খবর’ ছিল।

এই ক্ষেত্রে দুটি মারাত্মক জটিলতা তৈরি হয়:

১. মাফ‘ঊল বিলুপ্ত (حذف) করা অসম্ভব কেন?
আফ‘আলুল কুলূবের নিয়ম হলো—কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ (قرينة) ছাড়া এর যেকোনো একটি বা উভয় মাফ‘ঊলকে বিলুপ্ত করা সম্পূর্ণ নাজায়েয। তাই এখানে মাফ‘ঊল বাদ দেওয়া যাবে না।

২. মাফ‘ঊলের জন্য যমীর (সর্বনাম) আনা অসম্ভব কেন?
যদি দ্বিতীয় ক্রিয়ার দ্বিতীয় মাফ‘ঊলটিতে যমীর আনা হয়, তবে বচন ও লিঙ্গের সামঞ্জস্যে (مطابقت) এক অসম্ভব বিরোধ দেখা দেয়।

উদাহরণস্বরূপ বাক্য: حَسَبَنِيْ وَحَسِبْتُهُمَا الزَّيْدَانِ مُنْطَلِقًا

  • যদি একবচনের যমীর আনা হয় (إِيَّاهُ / مُنْطَلِقًا): তাহলে এটি প্রথম ক্রিয়ার প্রথম মাফ‘ঊল (ي - মুতাকাল্লিম)-এর সাথে তো মেলে, কিন্তু যার দিকে ইঙ্গিত করা হচ্ছে (مرجع - অর্থাৎ الزَّيْدَانِ), তার সাথে মিল থাকে না; কারণ الزيدان হলো দ্বিবচন আর যমীর আনা হলো একবচন।
  • যদি দ্বিবচনের যমীর আনা হয় (إِيَّاهُمَا / مُنْطَلِقَيْنِ): তাহলে তা مرجع (الزَّيْدَانِ)-এর সাথে মিললেও, প্রথম ক্রিয়ার দ্বিতীয় মাফ‘ঊলের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে যায়।
চূড়ান্ত সমাধান:

যেহেতু বিলুপ্তি (حذف) এবং সর্বনাম (إضمار)—উভয় পথই রুদ্ধ হয়ে গেল, তাই এখানে বাধ্যতামূলকভাবে দ্বিতীয় মাফ‘ঊলকে বাহ্যিক শব্দে স্পষ্ট করে মুখে উচ্চারণ করতে হবে (إظهار করা ওয়াজিব)।

حَسَبَنِي وَحَسِبْتُهُمَا مُنْطَلِقَيْنِ الزَّيْدَانِ مُنْطَلِقًا

৩. ইমরুল কায়েসের কবিতার পূর্ণাঙ্গ তাহকীক ও কূফীদের দলিলের খণ্ডন

কূফী ব্যাকরণবিদরা তাদের দাবির সপক্ষে (অর্থাৎ প্রথম ক্রিয়াকে আমল দেওয়াই যে উত্তম) আরবের জাহেলী যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি ইমরুল কায়েসের একটি বিখ্যাত কবিতা প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন।

وَلَوْ أَنَّمَا أَسْعَىٰ لِأَدْنَىٰ مَعِيشَةٍ ٭ كَفَانِي وَلَمْ أَطْلُبْ قَلِيلٌ مِنَ الْمَالِ

(অর্থ: আমি যদি সামান্য পার্থিব জীবিকার জন্য চেষ্টা করতাম, তবে অল্প সম্পদই আমার জন্য যথেষ্ট হতো এবং আমি বড় কিছুর অন্বেষণ করতাম না।)

কূফীদের দাবি ও যুক্তি (استدلال كوفيين)

কূফীরা বলেন, এই চরণে দুটি ক্রিয়া রয়েছে:

  • প্রথম ক্রিয়া: كَفَانِي (এটি ফায়েল চায়, কারণ এতে ‘ইয়া’ মাফঊল বিদ্যমান)।
  • দ্বিতীয় ক্রিয়া: لَمْ أَطْلُبْ (এটি মাফ‘ঊল চায়, কারণ এর ফায়েল ‘আনা’ ভেতরেই আছে)।

বাক্যে একটিমাত্র মারফূ’ (পেশযুক্ত) বিশেষ্য এসেছে, তা হলো: قَلِيلٌ مِنَ الْمَالِ। কবি এখানে দ্বিতীয় ক্রিয়াকে আমল না দিয়ে প্রথম ক্রিয়া كَفَانِي-কে আমল দিয়েছেন এবং قَلِيلٌ-কে তার ‘ফায়েল’ হিসেবে পেশ (رفع) দিয়েছেন। ইমরুল কায়েস আরবের সবচেয়ে বিশুদ্ধভাষী কবি। তিনি যেহেতু প্রথম ক্রিয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন, সেহেতু প্রমাণিত হয় যে প্রথম ক্রিয়াকে আমল দেওয়াই আসল ও শ্রেষ্ঠ নিয়ম।

গ্রন্থকার (মুসান্নিফ) ও বসরীদের খণ্ডন

لَيْسَ مِنْهُ؛ لِفَسَادِ الْمَعْنَى

ইমাম ইবনুল হাজিব অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে কূফীদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন: "এই কবিতাটি তানাযু’ ফিল আমল অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্তই হতে পারে না; কারণ এটিকে তানাযু বানালে কবিতার অর্থ সম্পূর্ণ বিকৃত, হাস্যকর ও ধ্বংস হয়ে যায়।"

অর্থ বিকৃতির পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (قاعدة لو):

আরবি ব্যাকরণে لَوْ (লাও) হলো حرف امتناع لامتناع (শর্ত না পাওয়ার কারণে ফলাফল না পাওয়ার অব্যয়)।

‘লাও’-এর ব্যাকরণিক কার্যকারিতা: ‘লাও’ যে বাক্যে প্রবেশ করে, তার অর্থকে বিপরীত করে দেয়। অর্থাৎ:

  • বাক্যটি যদি বাচনিকভাবে ইতিবাচক (مُثبَت) হয় ➔ বাস্তবে তার অর্থ হয়ে যায় নেতিবাচক (مَنفِي)
  • বাক্যটি যদি বাচনিকভাবে নেতিবাচক (مَنفِي) হয় ➔ বাস্তবে তার অর্থ হয়ে যায় ইতিবাচক (مُثبَت)

এখন যদি কূফীদের কথামতো قَلِيلٌ مِنَ الْمَالِ-কে উভয় ক্রিয়ার মধ্যে ‘তানাযু’ (বণ্টনযোগ্য) ধরা হয়, তবে অর্থ কী দাঁড়ায় দেখুন:

  • শর্তের অংশ: أَسْعَى (আমি চেষ্টা করছি - ইতিবাচক) ➔ ‘লাও’-এর কারণে অর্থ হবে: "আমি সাধারণ জীবিকার চেষ্টা করিনি।"
  • ফলাফলের ১ম অংশ: كَفَانِي (আমার জন্য যথেষ্ট হয়েছিল - ইতিবাচক) ➔ ‘লাও’-এর কারণে অর্থ হবে: "অল্প সম্পদ আমার জন্য যথেষ্ট হয়নি।"
  • ফলাফলের ২য় অংশ: لَمْ أَطْلُبْ (আমি অন্বেষণ করিনি - নেতিবাচক) ➔ ‘লাও’-এর কারণে অর্থ ইতিবাচক হয়ে যাবে, অর্থাৎ: "আমি অল্প সম্পদই অন্বেষণ করছিলাম।"

মারাত্মক অর্থগত বৈপরীত্য (اجتماع ضدين):

এই ব্যাখ্যার ফলে একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে দুটি সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী বিষয়ের সমাবেশ ঘটে। কবির বক্তব্যের অর্থ দাঁড়ায়: "অল্প সম্পদ আমার জন্য যথেষ্টও হয়নি, আবার আমি সেই অল্প সম্পদের পেছনেই ছুটছিলাম!" একজন আত্মমর্যাদাশীল রাজা ও বীর কবির পক্ষে নিজের ব্যাপারে এমন স্ববিরোধী ও মূর্খতাসূচক কথা বলা অসম্ভব। এটি স্পষ্টতই অর্থের চরম বিপর্যয় (فساد المعنى)।

কবিতার সঠিক তারকীব ও বিশুদ্ধ অর্থ

কবিতাটির আসল অর্থ বুঝতে হলে তার পরবর্তী চরণটি মিলিয়ে পড়তে হবে:

وَلَـٰكِنَّمَا أَسْعَىٰ لِمَجْدٍ مُؤَثَّلٍ ٭ وَقَدْ يُدْرِكُ الْمَجْدَ الْمُؤَثَّلَ أَمْثَالِي

(অনুবাদ: কিন্তু আমি তো চেষ্টা করছি চিরস্থায়ী ও বংশগত মহান মর্যাদার জন্য; আর আমার মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী লোকেরাই এমন মর্যাদা অর্জন করতে পারে।)

সঠিক ব্যাকরণগত তারকীব (صحيح تركيب):

  • এখানে কোনো ‘তানাযু’ (تنازع) নেই
  • قَلِيلٌ مِنَ الْمَالِ শব্দটি শুধুমাত্র এবং কেবলমাত্র প্রথম ক্রিয়া كَفَانِي-এর ‘ফায়েল’।
  • দ্বিতীয় ক্রিয়া لَمْ أَطْلُبْ-এর কর্ম (মাফ‘ঊল) এই বাক্যে নেই; বরং তা সম্পূর্ণ উহ্য (محذوف) রয়েছে।
  • সেই উহ্য মাফ‘ঊলটি হলো পরবর্তী লাইনে বর্ণিত الْمَجْدَ الْمُؤَثَّلَ (চিরস্থায়ী মর্যাদা)

কবিতার প্রকৃত ও বিশুদ্ধ ভাবার্থ:
"আমি যদি সাধারণ মানুষের মতো হীন জীবিকার জন্য চেষ্টা করতাম, তবে অল্প সম্পদই আমার বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট হতো এবং আমি কোনো রাজকীয় চিরস্থায়ী মর্যাদা অন্বেষণ করতাম না। কিন্তু আমার লক্ষ্য তো সামান্য সম্পদ নয়; বরং আমি মহান মর্যাদার পেছনে ছুটছি..."


৪. পূর্ণাঙ্গ সারসংক্ষেপ টেবিল

ক্ষেত্র কূফী মতে ১ম ক্রিয়াকে আমল দিলে ২য় ক্রিয়ার নিয়ম বিধান কারণ
ফায়েল (فاعل) যমীর (সর্বনাম) সংযুক্ত করা ওয়াজিব (واجب) ফায়েল বাক্যের মূল স্তম্ভ (عمدة), একে ফেলে দেওয়া অসম্ভব।
মাফ‘ঊল (عام أفعال) যমীর আনা অথবা বিলুপ্ত (حذف) করা যমীর উত্তম (المختار) মাফ‘ঊল অতিরিক্ত অংশ (فضلة), তবে যমীর আনলে অর্থ স্পষ্ট হয়।
মাফ‘ঊল (أفعال القلوب) স্পষ্ট বিশেষ্য মুখে উচ্চারণ করা ইযহার ওয়াজিব حذف করলে বাক্য নষ্ট হয়, আর যমীর আনলে লিঙ্গ-বচনে গরমিল হয়।
ইমরুল কায়েসের কবিতা তানাযুর দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য ‘লাও’ (لو)-এর নিয়মানুযায়ী অর্থ স্ববিরোধী ও বিকৃত হয়ে যায়।
পরের দরস