মূল ইবারত ও মতন (المتن) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।
"আর তা (কালিমাহ) হলো: ইসম, ফে‘ল এবং হারফ। কেননা কালিমাহ হয়তো নিজে নিজে তার অর্থ প্রকাশ করতে পারবে, অথবা পারবে না—দ্বিতীয় প্রকারটি হলো ‘হারফ’। আর প্রথম প্রকারটি (যা নিজে অর্থ প্রকাশ করতে পারে) হয়তো তিন কালের কোনো একটি কালের সাথে যুক্ত থাকবে, অথবা থাকবে না—দ্বিতীয়টি হলো ‘ইসম’ এবং প্রথমটি হলো ‘ফে‘ল’। আর নিশ্চিতভাবেই (আমাদের এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে) কালিমাহর তিনটি প্রকারের তারিফও জানা হয়ে গেল।"
দরসের রূপরেখা (تشریح)
আজকের দরসে মূলত তিনটি বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:
- কালিমাহ তিন প্রকার হওয়ার দাবি (دعویٰ)।
- উক্ত দাবির ওপর যৌক্তিক দলিল ও সীমাবদ্ধতার কারণ (وجہِ حصر)।
- তিন স্তরের শিক্ষার্থীর প্রতি মুসান্নিফ (المصنف)-এর শিক্ষণীয় সম্বোধন।
প্রথম বিষয়: কালিমাহ তিন প্রকার হওয়ার দাবি (دعویٰ)
মুসান্নিফ «وَهِيَ اسْمٌ وَفِعْلٌ وَحَرْفٌ» দ্বারা দাবি করেছেন যে, কালিমাহ কেবল তিন প্রকারেই সীমাবদ্ধ; তিনের কমও হতে পারে না, বেশিও হতে পারে না।
তারকীবগত বিশ্লেষণ ও একটি সূক্ষ্ম اشکال (আপত্তি) ও জবাব:
তারকীব: বাক্যে «هِيَ» হলো مبتدأ এবং «اسْمٌ وَفِعْلٌ وَحَرْفٌ» হলো তার خبر।
আপত্তি: নাহব শাস্ত্রের একটি সুপরিচিত কায়েদা হলো:
(অর্থ: জমির যখন তার পূর্ববর্তী مرجع [যার দিকে জমির ফিরে] এবং পরবর্তী خبر-এর মাঝে আবর্তিত হয়, তখন مرجع-এর তুলনায় خبر-এর লিঙ্গকে প্রাধান্য দেওয়া উত্তম। অনুরূপ বিধান اسم اشارة-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।)
কুরআনের দলিল:
এখানে الشَّمْسُ (مشار إليه) স্ত্রীবাচক (مؤنث) হওয়া সত্ত্বেও اسم اشارة হিসেবে পুংলিঙ্গ «هَٰذَا» আনা হয়েছে; কারণ এর খবর «رَبِّي» পুংলিঙ্গ (مذكر)।
তাহলে কাফিয়ার ইবারতে مرجع হচ্ছে «الْكَلِمَةُ» (স্ত্রীবাচক), কিন্তু খবর শুরু হয়েছে «اسْمٌ» (পুংলিঙ্গ) দ্বারা। নিয়ম অনুযায়ী খবরের দিকে লক্ষ্য করে «وَهُوَ اسْمٌ» (পুংলিঙ্গ জমির) বলা উচিত ছিল; মুসান্নিফ কেন স্ত্রীলিঙ্গ জমির এনে «وَهِيَ اسْمٌ» বললেন?
জবাব: কায়েদাটি শতভাগ সত্য। তবে এখানে «اسْمٌ» মূলত «هِيَ» মুবতাদার সরাসরি خبر নয়। বরং এখানে একটি স্ত্রীবাচক শব্দ «مُنْقَسِمَةٌ» (বিভক্ত) خبر হিসেবে محذوف (উহ্য) রয়েছে। আর «اسْمٌ» হলো অন্য একটি উহ্য মুবতাদার خبر।
উহ্য ইবারত (تقدیر عبارت):
সুতরাং, «هِيَ» জমিরটি তার মূল উহ্য স্ত্রীবাচক خبر «منقسمة»-এর সাথে সম্পূর্ণ মিল রেখেই আনা হয়েছে।
ধারাবাহিকতা ও অগ্রাধিকারে সূক্ষ্ম ব্যবধান (ملاحظہ):
- দাবিতে اسم-কে আগে আনা: দাবির ক্ষেত্রে মুসান্নিফ اسم-কে সর্বপ্রথমে এনেছেন। কারণ বাক্যে اسم হলো عمدة (মৌলিক ভিত্তি)। اسم একই সাথে مسند (মুসনাদ) এবং مسند إليه (মুসনাদ ইলাইহি) উভয়টি হতে পারে।
- দলিল বা وجه حصر-এ حرف-কে আগে আনা: কিন্তু وجه حصر বর্ণনার সময় মুসান্নিফ حرف-কে আগে এনেছেন। কারণ اسم ও فعل হলো যৌগিক বা বিশদ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী (مرکب-এর মতো), আর حرف হলো সাদাসিধা বা একক বৈশিষ্ট্যের (مفرد-এর মতো)। আর বিশ্লেষণের সময় সাদাসিধা বা مفرد-কে আগে আনাই স্বাভাবিক নিয়ম।
(নোট: ইসমে কেন ‘ইসম’, ফে‘লকে কেন ‘ফে‘ল’ এবং হারফকে কেন ‘হারফ’ নামকরণ করা হয়েছে—এ বিষয়ে বসরী ও কূফী আলেমদের বিতর্ক ‘হেদায়াতুন্নাহব’ কিতাবে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে।)
দ্বিতীয় বিষয়: দাবির ওপর যৌক্তিক দলিল (وجه حصر)
মুসান্নিফ «لِأَنَّهَا إِمَّا أَنْ تَدُلَّ عَلَى مَعْنًى فِي نَفْسِهَا...» দ্বারা কালিমাহ তিন প্রকার হওয়ার পেছনে একটি অকাট্য যৌক্তিক বিভাজন (تقسیم عقلی) পেশ করেছেন:
فِعْلٌ
اسْمٌ
ইবারতের ওপর একটি গভীর اشکال ও আল্লামা জামী (رحمه الله)-এর সমাধান:
আপত্তি: «لِأَنَّهَا» বাক্যে «هَا» জমিরটি হলো اسم إنّ, যা ‘কালিমাহ’ (একটি ذات বা মূল সত্তা)-এর দিকে নির্দেশ করছে। আর «أَنْ تَدُلَّ...» অংশটি أن مصدرية-এর কারণে মাসদার অর্থাৎ وصف (গুণ বা ভাবার্থ)-এর রূপ ধারণ করেছে। নাহবের নিয়ম হলো—সরাসরি গুণবাচক বিষয়কে মূল সত্তার ওপর চাপানো বা খবর বানানো অবৈধ (حَمْلُ الْوَصْفِ عَلَى الذَّاتِ مَمْنُوعٌ)। যেমন: ‘যায়েদ একজন মানুষ’ বলা যায়, কিন্তু ‘যায়েদ স্বয়ং প্রহার’ বলা যায় না।
আল্লামা জামী (رحمه الله)-এর সমাধান:
এখানে «أَنْ تَدُلَّ» সরাসরি إنّ-এর খবর নয়। বরং এর পূর্বে একটি উহ্য খবর «مِنْ صِفَتِهَا» (খবরে মুকাদ্দাম) রয়েছে এবং «أَنْ تَدُلَّ» হলো মুবতাদায়ে মুয়াখখার।
তারকীবের রূপ:
এটি একটি পূর্ণাঙ্গ جملة اسمية হয়ে إنّ-এর খবর হয়েছে। আর جملة মূলত ذات مع الوصف (গুণবিশিষ্ট সত্তা)-এর ওপর دلالت করে। আর ذات مع الوصف-কে ذات-এর ওপর حمل করা সর্বসম্মতভাবে জায়েয। ফলে কোনো আপত্তি আর অবশিষ্ট থাকে না।
তৃতীয় বিষয়: তিন শ্রেণির শিক্ষার্থীর প্রতি মুসান্নিফের শিক্ষণীয় সম্বোধন
মুসান্নিফ শেষে বলেছেন: «وَقَدْ عُلِمَ بِذَلِكَ حَدُّ كُلٍّ مِنْهَا» (এবং এর দ্বারাই তাদের প্রত্যেকের তারিফও জানা হয়ে গেল)। এখানে মুসান্নিফের ছাত্রদের প্রতি গভীর স্নেহ ও শিক্ষাদানের অনুপম প্রজ্ঞা (شفقت على الطلبة) প্রকাশ পেয়েছে। মেধার বিচারে ছাত্ররা তিন প্রকার:
ذہین (উচ্চ মেধাবী ছাত্র):
তারা وجه حصر-এর যৌক্তিক আলোচনা থেকেই ইসম, ফে‘ল ও হারফের পূর্ণাঙ্গ তারিফ বুঝে নিতে পারে। মুসান্নিফ তাদের জন্য وجه حصر উল্লেখ করেছেন।
متوسط (মধ্যম মেধার ছাত্র):
তাদের সামান্য ইঙ্গিত করতে হয়। মুসান্নিফ তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে বলেছেন—«وَقَدْ عُلِمَ بِذَلِكَ» (একটু খেয়াল করলেই বুঝবে যে তারিফও বলা হয়ে গেছে)।
غبی اور کند ذہن (দুর্বল মেধার ছাত্র):
মুসান্নিফ শুধু এই সংক্ষিপ্ত ইশারায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং দুর্বল ছাত্রদের সুবিধার্থে পরবর্তীতে কিতাবের মধ্যে প্রতিটি প্রকারের (ইসম, ফে‘ল, হারফ) জন্য স্বতন্ত্র শিরোনাম দিয়ে তাদের বিশদ তারিফ ও আলামত আলাদাভাবে বর্ণনা করেছেন।
বালাগাতগত একটি সূক্ষ্ম বিষয় (تَفْخِيمًا لِشَأْنِهِ):
এখানে «بِذَلِكَ» اسم اشارة-এর مشار إليه (وجه حصر) যদিও কাছেই অবস্থিত, তবুও নিকটবর্তী ইশারা (هذا)-এর পরিবর্তে দূরবর্তী ইশারা «ذٰلِكَ» ব্যবহার করা হয়েছে এর গুরুত্ব ও মর্যাদার মহত্ত্ব (تفخيماً لشأنه) বোঝানোর জন্য—ঠিক যেমন কুরআনে বলা হয়েছে: ﴿ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ﴾।