دروس الكافية

দরসে কাফিয়া - কাফিয়া কিতাবের পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ডিজিটাল দরসগাহ

আপনি সর্বশেষ পড়েছিলেন:

দরস (১২) : জমা মুয়ান্নাস সালেম ও গায়রে মুনসারিফের ই‘রাব এবং অন্তর্নিহিত কারণসমূহ | দরসে কাফিয়া

موضوع (মূল বিষয়) ইসম মু‘রাবের ই‘রাবের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রকার (جمع المؤنث السالم এবং غير المنصرف-এর ই‘রাব ও তার অন্তর্নিহিত কারণসমূহ)
المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
«جَمْعُ الْمُؤَنَّثِ السَّالِمُ بِالضَّمَّةِ وَالْكَسْرَةِ، غَيْرُ الْمُنْصَرِفِ بِالضَّمَّةِ وَالْفَتْحَةِ.»

শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।

ইবারতের সরল অনুবাদ:

"জমা মুয়ান্নাস সালেম-এর ই‘রাব হলো: যম্মাহ (ضمة) এবং কাসরাহ (کسرة) দ্বারা; অর্থাৎ হালতে রাফ‘ঈতে যম্মাহ এবং হালতে নাসবী ও জাররীতে কাসরাহ দ্বারা। আর গায়রে মুনসারিফের ই‘রাব হলো: যম্মাহ এবং ফাতহাহ (فتحة) দ্বারা; অর্থাৎ হালতে রাফ‘ঈতে যম্মাহ এবং হালতে নাসবী ও জাররীতে ফাতহাহ দ্বারা।"

[toc]

দরসের রূপরেখা (تشریح)

আজকের দরসে মূলত চারটি বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:

  1. جَمْعُ الْمُؤَنَّثِ السَّالِمُ-এর তা'রীফ (تعريف) ও তার ই‘রাব।
  2. جمع مؤنث سالم-এ نَصْب (নাসব)-কে جَرّ (জার)-এর অনুগামী (تابع) করার কারণ।
  3. غَيْرُ الْمُنْصَرِفِ-এর ই‘রাবের বিবরণ।
  4. غير منصرف-এ جَرّ (জার)-কে نَصْب (নাসব)-এর অনুগামী করার কারণ ও তাকে إعراب بالحركة প্রদানের ৩টি যৌক্তিক রহস্য।

প্রথম বিষয়: جمع مؤنث سالم-এর তা'রীফ ও তার ই‘রাব

১. তা'রীফ (تعريف):

নাহব শাস্ত্রবিদদের পরিভাষায় جمع مؤنث سالم-এর তা'রীফ হলো:

«اَلَّذِي يَكُونُ جَمْعُهُ بِالْأَلِفِ وَالتَّاءِ»

(অর্থ: জমা মুয়ান্নাস সালেম হলো এমন বহুবচন, যার একবচনের শেষে অতিরিক্ত আলিফ এবং তা [الفتاء] যুক্ত করে বহুবচন রূপ গঠন করা হয়েছে।)

একবচনের রূপভেদ: এর একবচন (مفرد) মুয়ান্নাসও হতে পারে, আবার মুযাক্কারও হতে পারে:

  • একবচন مؤنث হলে: যেমন—«مُؤْمِنَةٌ» থেকে «مُؤْمِنَاتٌ», «مُسْلِمَةٌ» থেকে «مُسْلِمَاتٌ»।
  • একবচন مذكر হলে: যেমন—«مَرْفُوعٌ» থেকে «مَرْفُوعَاتٌ», «مَنْصُوبٌ» থেকে «مَنْصُوبَاتٌ»।

২. جمع مؤنث سالم-এর ই‘রাব:

মুসান্নিফ (المصنف) অত্যন্ত সংক্ষেপে বলেছেন: «بِالضَّمَّةِ وَالْكَسْرَةِ»। পূর্ববর্তী দরসের উহ্য বাক্য মিলিয়ে পূর্ণ বাক্য দাঁড়ায়:

«جَمْعُ الْمُؤَنَّثِ السَّالِمُ: بِالضَّمَّةِ رَفْعًا، وَالْكَسْرَةِ نَصْبًا وَجَرًّا»
حالت رفعي: ضمة (পেশ) দ্বারা হবে।
حالت نصبي ও حالت جري: উভয় হালতে كسرة (যের) দ্বারা হবে।

উদাহরণসমূহ:

  • حالت رفعي: «جَاءَنِي مُسْلِمَاتٌ» (পেশসহ)।
  • حالت نصبي: «رَأَيْتُ مُسْلِمَاتٍ» (যেরসহ—فتحة-এর পরিবর্তে كسرة)।
  • حالت جري: «مَرَرْتُ بِمُسْلِمَاتٍ» (যেরসহ)।

দ্বিতীয় বিষয়: جمع مؤنث سالم-এ نَصْب-কে جَرّ-এর অনুগামী করার কারণ

প্রশ্ন: জমা মুয়ান্নাস সালেমে নসবের হালতে যবর (فتحة) না দিয়ে যের (كسرة) কেন দেওয়া হলো? অর্থাৎ نَصْب-কে কেন جَرّ-এর তাবে‘ (অনুগামী) করা হলো?

উত্তর (اصلفرع-এর সামঞ্জস্য বিধান):

পুংলিঙ্গ বহুবচন অর্থাৎ جمع مذكر سالم হলো মূল বা اصل, আর স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন অর্থাৎ جمع مؤنث سالم হলো তার শাখা বা فرع

جمع مذكر سالم-এর ক্ষেত্রে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সেখানেও نَصْب-কে جَرّ-এর অনুগামী করে উভয় হালতেই ‘ياء’ দেওয়া হয়েছে (যেমন: «رَأَيْتُ مُسْلِمِينَ» এবং «مَرَرْتُ بِمُسْلِمِينَ»)।

যেহেতু اصل (জমা মুযাক্কার)-এ نَصْب অনুগামী হয়েছিল جَرّ-এর, তাই اصلفرع-এর মাঝে সমতা ও সামঞ্জস্য বজায় রাখার স্বার্থে فرع (জমা মুয়ান্নাস)-এও نَصْب-কে جَرّ-এর অনুগামী করে كسرة দেওয়া হয়েছে।

একটি اشکال (আপত্তি) ও তার সমাধান:
আপত্তি: জমা মুয়ান্নাস সালেম যদি জমা মুযাক্কার সালেমের শাখাই হয়, তবে জমা মুযাক্কারের মতো একেও হরফ দ্বারা ই‘রাব (إعراب بالحرف) দেওয়া হলো না কেন? একে হরকত দ্বারা ই‘রাব (إعراب بالحركة) কেন দেওয়া হলো?

সমাধান: إعراب بالحرف কেবল সেই সমস্ত শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যার শেষাক্ষরে হরফে ইল্লত (حرف علت) থাকে (যেমন جمع مذكر سالم-এর শেষে واوياء রয়েছে)। কিন্তু جمع مؤنث سالم-এর শেষে ‘তা’ (تاء) রয়েছে, যা একটি হরফে সহীহ (حرف صحيح)। তাই সহীহ হরফের স্বাভাবিক দাবি অনুযায়ী একে মূল ই‘রাব অর্থাৎ إعراب بالحركة দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় বিষয়: غَيْرُ الْمُنْصَرِفِ-এর ই‘রাবের বিবরণ

মুসান্নিফ বলেছেন: «غَيْرُ الْمُنْصَرِفِ بِالضَّمَّةِ وَالْفَتْحَةِ»। উহ্য বাক্য মিলিয়ে পূর্ণ রূপ দাঁড়ায়:

«غَيْرُ الْمُنْصَرِفِ: بِالضَّمَّةِ رَفْعًا، وَالْفَتْحَةِ نَصْبًا وَجَرًّا»
حالت رفعي: ضمة (পেশ) দ্বারা হবে।
حالت نصبي ও حالت جري: উভয় হালতে فتحة (যবর) দ্বারা হবে।

উদাহরণসমূহ:

  • حالت رفعي: «جَاءَنِي عُمَرُ» (পেশসহ এবং তানভীন ছাড়া)।
  • حالت نصبي: «رَأَيْتُ عُمَرَ» (যবরসহ)।
  • حالت جري: «مَرَرْتُ بِعُمَرَ» (যেরের পরিবর্তে যবরসহ)।

চতুর্থ বিষয়: غير منصرف-এ جَرّ-কে نَصْب-এর অনুগামী করার কারণ

প্রশ্ন: গায়রে মুনসারিফে জারের হালতে যের (كسرة) না দিয়ে যবর (فتحة) কেন দেওয়া হলো? অর্থাৎ جَرّ-কে কেন نَصْب-এর অনুগামী করা হলো?

উত্তর (فعل-এর সাথে সাদৃশ্যতা):

আরবি ভাষায় ইসম হলো اصل এবং فعل (ক্রিয়া) হলো فرع (শাখা)। আর গায়রে মুনসারিফ এমন এক বিশেষ ইসম যার মধ্যে ফে‘লের দুটি বৈশিষ্ট্য/শাখা (বা এক শাখা যা দুই শাখার স্থলাভিষিক্ত) পাওয়া যায়। ফলে এটি ফে‘লের সাথে গভীর সাদৃশ্য লাভ করে।

আরবি ব্যাকরণে কোনো ফে‘লের ওপর কখনো كسرة (যের) এবং تنوین (তানভীন) প্রবেশ করতে পারে না।

যেহেতু গায়রে মুনসারিফ ফে‘লের সদৃশ ও অনুসারী, তাই ফে‘লের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করতে গিয়ে গায়রে মুনসারিফের ওপর থেকেও كسرة ও তানভীনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর كسرة না আসার কারণে জারের হালতে فتحة দিয়ে একে نَصْب-এর অনুগামী করা হয়েছে।

গায়রে মুনসারিফকে ‘إعراب بالحركة’ দেওয়ার ৩টি যৌক্তিক কারণ:

প্রশ্ন: গায়রে মুনসারিফ যখন ফে‘লের শাখা, তখন একেও শাখাগত ই‘রাব অর্থাৎ إعراب بالحرف না দিয়ে মূল ই‘রাব إعراب بالحركة কেন দেওয়া হলো?

উত্তর (৩টি শক্তিশালী কারণ):

  1. ১ম কারণ (ফে‘লের প্রত্যক্ষ সাদৃশ্য): গায়রে মুনসারিফ হলো ফে‘লের শাখা। আর ফে‘লের স্বাভাবিক ই‘রাব হরকত দ্বারাই হয়ে থাকে (যেমন: يَضْرِبُ، لَنْ يَضْرِبَ)। তাই ফে‘লের অনুকরণে একেও إعراب بالحركة দেওয়া হয়েছে।
  2. ২য় কারণ (বাস্তবে এটি فرعي ই‘রাব): বাহ্যত এটি হরকত মনে হলেও মূলত এটি একটি فرعي (শাখাগত) ই‘রাব। কারণ তিন হালতের মধ্যে এখানে কেবল দুটি হরকত প্রকাশ পায় (حالت جري-এর জন্য স্বতন্ত্র কোনো হরকত নেই, বরং نَصْب-এর فتحة-ই ব্যবহৃত হয়)। এভাবে এক হালত অপর হালতের অনুগামী হওয়া স্বয়ং فرعي ই‘রাবের প্রমাণ।
  3. ৩য় কারণ (দ্বিমুখী বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়): গায়রে মুনসারিফের মধ্যে দুটি বিপরীতমুখী দিক বিদ্যমান:
    • ফে‘লের সাদৃশ্যের দিক থেকে এটি فرع (শাখা)।
    • مفرد (একবচন) হওয়ার দিক থেকে এটি তাসনিয়া ও জমার তুলনায় اصل (মূল)।
    সমন্বয়: ফে‘লের শাখা হওয়ার দিক বিবেচনা করে এর ওপর كسرة আসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে; আর مفرد বা আসল হওয়ার দিক বিবেচনা করে একে إعراب بالحركة দেওয়া হয়েছে।

📌 خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ)

প্রকারভেদ حالت رفعي حالت نصبي حالت جري অনুগামী করার কারণ ও রহস্য
১. جَمْعُ الْمُؤَنَّثِ السَّالِمُ
(যেমন: مُسْلِمَاتٌ)
ضمة
(পেশ)
كسرة
(যের)
كسرة
(যের)
মূল جمع مذكر سالم-এর অনুকরণে এর نَصْب-কে جَرّ-এর অনুগামী করা হয়েছে। হরফে সহীহ (تاء) থাকায় এটি إعراب بالحركة পেয়েছে।
২. غَيْرُ الْمُنْصَرِفِ
(যেমন: عُمَرُ)
ضمة
(পেশ)
فتحة
(যবর)
فتحة
(যবর)
فعل-এর সাদৃশ্যের কারণে كسرة নিষিদ্ধ করে এর جَرّ-কে نَصْب-এর অনুগামী করা হয়েছে। ফে‘ল ও مفرد-এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে এটি إعراب بالحركة পেয়েছে।
পরের দরস আগের দরস