المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।
"আর তা (ইসম) দুই প্রকার: মু‘রাব এবং মাবনী। অতঃপর মু‘রাব (হলো এমন ইসম যা নিজের আমেলের সাথে মিলে) এমন মুরাক্কাব হয়েছে, যা ‘মাবনী আসল’ (مبني الأصل)-এর সাথে কোনো সাদৃশ্য রাখে না।"
দরসের রূপরেখা (تشریح)
আজকের দরসে মূলত তিনটি বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:
- কিতাবের ইবারতের তারকীব (ترکیب) সংক্রান্ত একটি সূক্ষ্ম اشکال (আপত্তি) ও তার সমাধান।
- মু‘রাব ও মাবনীর তা'রীফ (تعريف) এবং মুসান্নিফ (المصنف) কর্তৃক প্রদত্ত তা'রীফের ক্বাইদসমূহের ফায়দা (فوائدِ قیود)।
- মু‘রাব ও মাবনী নামকরণের যৌক্তিক কারণ (وجہِ تسمیہ)।
প্রথম বিষয়: ইবারতের তারকীব সংক্রান্ত আপত্তি ও সমাধান
মুসান্নিফের ইবারত: «وَهُوَ مُعْرَبٌ وَمَبْنِيٌّ»
বাহ্যিক তারকীব: এখানে «هُوَ» যমীরটি হলো مبتدأ এবং «مُعْرَبٌ وَمَبْنِيٌّ» (মা'তূফ ও মা'তূফ আলাইহি মিলে) হলো তার خبر।
আপত্তি (اشکال):
«هُوَ» যমীরটি عام (ব্যাপক), যা ইসমের সমস্ত প্রকার ও ব্যক্তিবর্গকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর নাহব শাস্ত্রের কায়েদা হলো—মুবতাদার ওপর খবরের حَمْل (বাস্তবায়ন) হতে হয়; অর্থাৎ মুবতাদার প্রতিটি একক সত্তার ওপর খবরের হুকুম প্রযোজ্য হতে হবে। কিন্তু এখানে খবর হলো «مُعْرَبٌ وَمَبْنِيٌّ» (যা خاص বা বিশেষ)। তাহলে বাহ্যিক অর্থ দাঁড়াবে: "ইসমের প্রত্যেকটি ব্যক্তি বা শব্দ একই সাথে মু‘রাব এবং মাবনী"—অথচ একটি শব্দ একই অবস্থায় যুগপৎভাবে মু‘রাব এবং মাবনী হওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব ও বাতিল।
সমাধান (جواب):
«هُوَ» যমীরের সরাসরি খবর «مُعْرَبٌ وَمَبْنِيٌّ» নয়। বরং এখানে خبر হিসেবে একটি শব্দ محذوف (উহ্য) রয়েছে, যা হলো «قِسْمَانِ» অথবা «نَوْعَانِ»।
মূল تقدير عبارت:
(অর্থ: আর তা [অর্থাৎ ইসম] দুই প্রকার: তাদের একটি হলো মু‘রাব এবং অপরটি হলো মাবনী।)
সুতরাং, উহ্য خبر মানার কারণে অর্থের বিকৃতি দূর হয়ে যায় এবং কোনো আপত্তি অবশিষ্ট থাকে না।
দ্বিতীয় বিষয়: মু‘রাব ও মাবনীর তা'রীফ
১. মু‘রাব শব্দের শব্দগত বিশ্লেষণ:
- সারফী রূপ: مُعْرَبٌ শব্দটি باب إِفْعَال (أَعْرَبَ - يُعْرِبُ - إِعْرَابًا) থেকে اسم مفعول অথবা اسم ظرف-এর সীগাহ্।
- আভিধানিক অর্থ: «أَوْضَحَ» অর্থাৎ ‘সুস্পষ্ট করা বা উন্মোচিত করা’।
২. সাধারণ নাহববিদদের প্রচলিত তা'রীফ:
অধিকাংশ নাহববিদ মু‘রাবের সাধারণ তা'রীফ এভাবে করেছেন:
(অর্থ: মু‘রাব হলো এমন ইসম, বিভিন্ন আমেল [عوامل] প্রবেশের কারণে যার শেষাংশের অবস্থা পরিবর্তিত হয়ে যায়।)
ফার্সি কবিতায় মু‘রাব ও মাবনীর পার্থক্য:
(অর্থ: মাবনী হলো তা যা সবসময় অপরিবর্তিত থাকে, আর মু‘রাব হলো তা যা আমেলের পরিবর্তনে বারবার রূপ পরিবর্তন করে।)
৩. মুসান্নিফ আল্লামা ইবনুল হাজিব (رحمه الله)-এর নির্বাচিত তা'রীফ:
মুসান্নিফ কিতাবে সাধারণ নাহববিদদের প্রচলিত তা'রীফ বাদ দিয়ে এক অনন্য তা'রীফ পেশ করেছেন:
(অর্থ: মু‘রাব হলো এমন মুরাক্কাব ইসম, যা মাবনী আসল [مبني الأصل]-এর সাথে কোনো সাদৃশ্য রাখে না।)
মুসান্নিফের এই তা'রীফ গ্রহণের তাৎপর্য:
সাধারণ নাহববিদগণ মু‘রাবের পরিচয় দিতে গিয়ে তার একটি বাহ্যিক অবস্থা বা উপসর্গ (صفت / عارض)—অর্থাৎ আমেলের কারণে রূপ পরিবর্তন হওয়া—উল্লেখ করেছেন। পক্ষান্তরে মুসান্নিফ মু‘রাবের মূল সত্তাগত স্বরূপ (ذات)-কে উন্মোচিত করেছেন। منطق (যুক্তিবিদ্যা) ও নাহবের মূলনীতি অনুযায়ী, কোনো বস্তুর صفت-এর মাধ্যমে পরিচয় দেওয়ার চেয়ে তার ذات-এর মাধ্যমে তা'রীফ করা বহুগুণে শ্রেষ্ঠ ও নির্ভুল।
৪. মুসান্নিফের তা'রীফে ব্যবহৃত শর্তাবলির বিশ্লেষণ (فوائدِ قیود):
এর দ্বারা সমস্ত مُفْرَدَات (একক শব্দাবলী—যেমন: اسماء اصوات, اسماء معدودة, حروف هجاء এবং বাক্যে ব্যবহারের পূর্বের একক নাম যেমন: «زَيْدٌ» ও «عَمْرٌو») মু‘রাবের তা'রীফ থেকে বের হয়ে যায়। কারণ কোনো ইসম যতক্ষণ পর্যন্ত অন্য শব্দের সাথে বাক্যে ترکیب না পায়, ততক্ষণ তা মু‘রাব হয় না; বরং তা موقوف বা মাবনীর ন্যায় সাকিন অবস্থায় থাকে। মু‘রাব হওয়ার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত (مركب) হওয়া পূর্বশর্ত।
এর দ্বারা সেই সমস্ত মুরাক্কাব ইসম বের হয়ে যায়, যা বাক্যে ব্যবহৃত হওয়া সত্ত্বেও مبني الأصل (যথা: হরফ, ফে‘লে মাযী, আমর হাযের মারূফ)-এর সাথে কোনো না কোনো দিক থেকে সাদৃশ্য রাখে।
যেমন: «قَامَ هٰؤُلَاءِ» বাক্যে «هٰؤُلَاءِ» শব্দটি মুরাক্কাব হওয়া সত্ত্বেও হরফের ন্যায় অর্থ প্রকাশের জন্য অপর শব্দের (مشار إليه) মুখাপেক্ষী। তাই مبني الأصل-এর সাথে সাদৃশ্য রাখার কারণে এটি মু‘রাব নয়, বরং مبني।
তৃতীয় বিষয়: মু‘রাব নামকরণের যৌক্তিক কারণ (وجہِ تسمیہ)
ইসমকে معرب নামকরণের পেছনে দুটি চমৎকার ভাষাতাত্ত্বিক কারণ রয়েছে:
১. প্রথম وجه تسمیہ (প্রকাশ করা অর্থে):
«مُعْرَبٌ» শব্দটি باب إِفْعَال-এর مصدر «إِعْرَابٌ» থেকে গঠিত, যার মূল অর্থ ‘ظاہر کرنا’ (প্রকাশ করা)। اسم مفعول বা اسم ظرف হিসেবে এর অর্থ দাঁড়ায়—‘যা প্রকাশ করা হয়েছে’ অথবা ‘প্রকাশ করার স্থান’।
যৌক্তিকতা: যেহেতু মু‘রাব ইসমের শেষাক্ষরে اعراب (পেশ, যবর, যের ইত্যাদি) সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় এবং এর মাধ্যমে বাক্যে তার ব্যাকরণিক পরিচয় (যেমন: فاعل, مفعول ইত্যাদি) স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তাই একে معرب বলা হয়।
২. দ্বিতীয় وجه تسمیہ (ত্রুটি বা বিকৃতি দূর করা অর্থে - سلبِ مأخذ):
আরবি ব্যাকরণে باب إِفْعَال-এর হামযা কখনো কখনো سَلْبِ مَأْخَذ (মূল ধাতুর অর্থকে দূর করা বা অপসারণ করা)-এর অর্থে আসে।
- ধাতুগত অর্থ: ثلاثي مجرد অর্থাৎ باب سَمِعَ يَسْمَعُ থেকে «عَرِبَ يَعْرَبُ»-এর অর্থ হলো ‘নষ্ট হওয়া বা বিকৃত হওয়া’ (فاسد اور خراب ہونا)। যেমন বলা হয়: «عَرِبَتْ مَعِدَةُ فُلَانٍ» (অমুক ব্যক্তির পাকস্থলী নষ্ট হয়ে গেছে)।
- باب إِفْعَال-এ রূপান্তর: কিন্তু যখন একে باب إِفْعَال-এ রূপান্তর করে «أَعْرَبَ» বলা হয়, তখন سلب مأخذ-এর নিয়মে এর অর্থ হয় ‘বিকৃতি বা ত্রুটি দূর করা’ (خرابی کو زائل کرنا)।
যৌক্তিকতা: বাক্যে যখন ইসমের শেষে اعراب প্রকাশ পায়, তখন অর্থের যাবতীয় অস্পষ্টতা, সংশয় ও বিকৃতি দূর হয়ে যায় (অর্থাৎ কোনটি فاعل আর কোনটি مفعول তা সুস্পষ্ট হয়ে যায়)। অর্থগত বিকৃতি দূর করার এই অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই একে معرب নামকরণ করা হয়েছে।