دروس الكافية

দরসে কাফিয়া - কাফিয়া কিতাবের পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ডিজিটাল দরসগাহ

আপনি সর্বশেষ পড়েছিলেন:

দরসে কাফিয়া (দরস-৩৫) | নায়েবে ফায়েল (نائب الفاعل): সংজ্ঞা, শর্তাবলী, অগ্রাধিকারের নীতিমালা ও পূর্ণাঙ্গ তাহকীক

দরসে কাফিয়া — দরস নং ৩৫

মূল বিষয়বস্তুর সূচিপত্র:

  1. ‘মাফ‘ঊলু মা লাম ইউসাম্মা ফা‘ইলুহু’ (নায়েবে ফায়েল)-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা এবং এর দার্শনিক ও যৌক্তিক প্রেক্ষাপট।
  2. সংজ্ঞার ভেতরে ‘হুওয়া’ (هُوَ) সর্বনাম ব্যবহারের ওপর আপত্তি ও তার সূক্ষ্ম জবাব।
  3. মাফ‘ঊল ‘নায়েবে ফায়েল’ হওয়ার জন্য প্রধান শর্ত (ক্রিয়ার রূপান্তর)।
  4. যেসব বিশেষ্য কখনো ‘নায়েবে ফায়েল’ হতে পারে না (৪টি নিষিদ্ধ ক্ষেত্র ও তাদের কারণ)।
  5. ‘কা-যালিকা’ (كَذَلِكَ) শব্দের ব্যবহারিক রহস্য।
  6. নায়েবে ফায়েল হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের নীতিমালা (مفعول به এবং অন্যান্যদের মধ্যে ক্রমবিন্যাস)।
  7. ‘বাব-ই আ‘তায়তু’ (باب أعطيت)-এর বিশেষ বিধান।
  8. মাজহূল ক্রিয়ার সাথে নায়েবে ফায়েলের বচন ও লিঙ্গগত সামঞ্জস্যের (تذكير و تأنِيث) পূর্ণাঙ্গ নিয়ম।
  9. মূল উদাহরণটির বিশদ ব্যাকরণগত তারকীব (صحيح تركيب)।

১. নায়েবে ফায়েল-এর সংজ্ঞা ও যৌক্তিক ভিত্তি

ক. শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা

শাব্দিক অর্থ: এমন মাফ‘ঊল (কর্ম), যার ফায়েল (কর্তা)-এর নাম উল্লেখ করা হয়নি।

«كُلُّ مَفْعُولٍ حُذِفَ فَاعِلُهُ وَأُقِيمَ هُوَ مَقَامَهُ»

(পারিভাষিক অর্থ: এমন প্রত্যেক মাফ‘ঊল, যার ফায়েলকে বাক্য থেকে বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে এবং সেই মাফ‘ঊলকে ফায়েলের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।)

খ. ফায়েল বিলুপ্তির পেছনের যুক্তি ও দর্শন

১. দার্শনিক ভিত্তি (নাস্তিক্যবাদের খণ্ডন):

যুক্তি অনুযায়ী জগতে কর্তা (ফায়েল) ছাড়া কোনো কাজ (ফে‘ল) সংঘটিত হতে পারে না। জড়বাদী বা প্রকৃতিবাদীদের দাবি (বিশ্বজগৎ নিজে নিজে সৃষ্টি হয়েছে) ব্যাকরণ ও নিখুঁত যুক্তির দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও অসম্ভব।

২. বাক্যে ফায়েল কেন উহ্য রাখা হয়:

বিভিন্ন অলংকারিক ও বাস্তবিক কারণে ফায়েলকে উহ্য রাখা হয়; যেমন:

  • ফায়েল সকলের জানা থাকা: যেমন কুরআনে এসেছে—خُلِقَ الْإِنسَانُ (‘মানুষ সৃষ্টি করা হয়েছে’—এখানে স্রষ্টা যে আল্লাহ তা সবার জানা)।
  • ফায়েল কে তা বক্তার অজ্ঞাত থাকা: যেমন—‘টাকা চুরি হয়েছে’ (চোর অজ্ঞাত)।
  • ফায়েলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন বা ভয় প্রকাশ করা ইত্যাদি।
৩. মাফ‘ঊলকে কেন ফায়েলের স্থলাভিষিক্ত (نائب) করা হয়:

যেহেতু ফায়েল ছাড়া বাক্য গঠন অসম্ভব এবং ক্রিয়া কখনোই কর্তা ছাড়া স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় না, তাই ফায়েলকে ফেলে দেওয়ার পর তার জায়গায় মাফ‘ঊলকে বসিয়ে ফায়েলের আসল চিহ্ন পেশ (رفع বা মারফূ‘) প্রদান করা হয়।

রূপান্তরের উদাহরণ:

মূল বাক্য ছিল: كَتَبَ زَيْدٌ الدَّرْسَ (যায়েদ পাঠটি লিখেছে)।
ফায়েল زَيْدٌ-কে ফেলে দিয়ে মাফ‘ঊল الدَّرْسَ-কে তার স্থলাভিষিক্ত করা হলো, ফলে রূপ দাঁড়াল: كُتِبَ الدَّرْسُ (পাঠটি লেখা হয়েছে)।


২. ‘হুওয়া’ (هُوَ) যমীর ব্যবহারের ওপর আপত্তি ও তার সূক্ষ্ম জবাব

আপত্তি (الإشكال):

গ্রন্থকার সংজ্ঞার মধ্যে বলেছেন: وَأُقِيمَ هُوَ مَقَامَهُ। এখানে أُقِيمَ (মাজহূল ক্রিয়া)-এর পর পৃথকভাবে منفصل যমীর هُوَ (হুওয়া) আনা হয়েছে। অথচ ব্যাকরণের নিয়ম হলো—মুনফাসিল যমীর তখনই আনা হয় যখন তার ওপর অন্য কিছু মা‘তূফ (সংযুক্ত) করার প্রয়োজন হয় (যেমন কুরআনে এসেছে: اسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ)। কিন্তু এখানে তো কোনো ‘আত্বফ’ নেই। তাহলে কেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে هُوَ যমীর আনা হলো?

জবাব (الجواب):

এখানে هُوَ যমীর আনার দুটি অত্যন্ত গভীর ও সূক্ষ্ম কারণ রয়েছে:

  1. সংশয় দূরীকরণ (دفع تشبّه): যদি هُوَ উল্লেখ না করা হতো, তবে শ্রোতা মনে করতে পারত أُقِيمَ-এর ভেতরের গোপন যমীরটি তার নিকটবর্তী বিশেষ্য ‘ফায়েল’ (الفاعل)-এর দিকে ফিরছে। অথচ এই ক্রিয়াটি স্থলাভিষিক্ত করছে দূরবর্তী বিশেষ্য ‘মাফ‘ঊল’ (المفعول)-কে।
  2. দূরবর্তী বিশেষ্যকে প্রাধান্য দেওয়া (خلاف القياس): সাধারণ নিয়ম হলো যমীর নিকটবর্তী শব্দের দিকে ফেরে। কিন্তু এখানে যমীর ফিরছে দূরবর্তী শব্দ المفعول-এর দিকে, যা সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম (خلاف القياس)। এই ব্যতিক্রমী উদ্দেশ্যকে সুস্পষ্ট করার জন্যই গ্রন্থকার স্পষ্টভাবে هُوَ যমীর উল্লেখ করেছেন।

৩. নায়েবে ফায়েল হওয়ার প্রধান শর্ত (ক্রিয়ার রূপান্তর)

কোনো বিশেষ্যকে ‘নায়েবে ফায়েল’ বানাতে হলে তার পূর্ববর্তী ক্রিয়াটিকে অবশ্যই মারূফ (সক্রিয়) থেকে মাজহূল (নিষ্ক্রিয়/Passive)-এ রূপান্তর করতে হবে। গ্রন্থকার সংক্ষেপে দুটি ওযন উল্লেখ করেছেন:

অতীতকালীন ক্রিয়া (ماضي)

فُعِلَ

প্রথম অক্ষরে পেশ এবং শেষ অক্ষরের পূর্বের অক্ষরে যের।

বর্তমান/ভবিষ্যৎ ক্রিয়া (مضارع)

يُفْعَلُ

আলামতে মুযারিতে পেশ এবং শেষ অক্ষরের পূর্বের অক্ষরে যবর।

গুরুত্বপূর্ণ টীকা:

গ্রন্থকার যদিও সংক্ষেপে ‘সুলাসী মুজাররাদ’-এর দুটি ওযন উল্লেখ করেছেন, কিন্তু এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যেকোনো বাবের মাজহূল রূপ; চাই তা সুলাসী মুজাররাদ হোক, সুলাসী মাযীদ ফীহ হোক বা রুবা‘ঈ হোক (যেমন: اُفْتُعِلَ, اُسْتُفْعِلَ, يُسْتَفْعَلُ, فُعِّلَ ইত্যাদি)।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: শুধু মাজহূল ফে‘লই নয়, বরং ইসমুল মাফ‘ঊল (اسم مفعول)-ও তার পরবর্তী শব্দকে নায়েবে ফায়েল হিসেবে পেশ (رفع) প্রদান করে। কারণ ইসমুল মাফ‘ঊল মূলত ফে‘লে মুযারি মাজহূল থেকেই গঠিত হয়।


৪. যেসব বিশেষ্য কখনো ‘নায়েবে ফায়েল’ হতে পারে না

আরবি ব্যাকরণে এমন ৪টি মাফ‘ঊল রয়েছে, যা কোনো অবস্থাতেই নায়েবে ফায়েল হতে পারে না:

যেসব মাফ‘ঊল কখনো নায়েবে ফায়েল হতে পারে না
১. বাব-ই ‘আলিমতুর
২য় মাফ‘ঊল
২. বাব-ই আ‘লামতুর
৩য় মাফ‘ঊল
৩. মাফ‘ঊল লাহু
المفعول له
৪. মাফ‘ঊল মা‘আহু
المفعول معه

নিষিদ্ধ ক্ষেত্রগুলোর কারণভিত্তিক বিশ্লেষণ:

  1. ‘বাব-ই ‘আলিমতু’ (أفعال القلوب)-এর ২য় মাফ‘ঊল:
    মূল বাক্য: عَلِمْتُ زَيْدًا فَاضِلًا (আমি যায়েদকে গুণী হিসেবে জেনেছি)।
    ➔ কেন নায়েবে ফায়েল হতে পারবে না: এই বাবের দুটি মাফ‘ঊল মূলত ছিল ‘মুবতাদা’ ও ‘খবর’। زَيْدًا ছিল মুসনাদ ইলাইহ (উদ্দেশ্য) এবং فَاضِلًا ছিল মুসনাদ (বিধেয়/গুণ)। যদি ২য় মাফ‘ঊল فَاضِلًا-কে নায়েবে ফায়েল বানিয়ে পেশ দেওয়া হয় (যেমন: عُلِمَ فاضلٌ زيداً), তবে বিধেয়টি উদ্দেশ্য হয়ে যাবে এবং উদ্দেশ্যটি বিধেয় হয়ে যাবে, যা বাক্যের মূল অর্থ ও বিধেয়-কাঠামোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়।
  2. ‘বাব-ই আ‘লামতু’ (باب أعلمت)-এর ৩য় মাফ‘ঊল:
    মূল বাক্য: أَعْلَمَ اللهُ زَيْدًا عَمْرًا فَاضِلًا
    ➔ কারণ: এই বাবের ২য় ও ৩য় মাফ‘ঊল হুবহু ‘বাব-ই আলিমতু’-এর ১ম ও ২য় মাফ‘ঊলের মতো (অর্থাৎ মূলত মুবতাদা ও খবর)। সুতরাং একই কারণে এর ৩য় মাফ‘ঊলকে নায়েবে ফায়েল বানানো নাজায়েয।
  3. মাফ‘ঊল লাহু (المفعول له / لأجله):
    মাফ‘ঊল লাহু ব্যবহারের দুটি রূপ আছে:
    • ‘লাম’ (لـ) হরফে জার সহ: এটি নায়েবে ফায়েল হতে পারে (যেমন: ضُرِبَ للتأديبِ)।
    • ‘লাম’ ছাড়া সরাসরি মানসূব অবস্থা: এটি কখনো নায়েবে ফায়েল হতে পারে না (যেমন: ضَرَبْتُ زَيْدًا تَأْدِيبًا থেকে زَيْدٌ ضُرِبَ تأديبٌ বলা যাবে না)।
    ➔ কারণ: ‘লাম’ ছাড়া আসলে তার একমাত্র বৈশিষ্ট্য হলো সে মানসূব (যবরযুক্ত) হয়ে কাজের কারণ (علت) প্রকাশ করবে। তাকে নায়েবে ফায়েল বানিয়ে মারফূ’ (পেশযুক্ত) করলে সে আর মাফ‘ঊল লাহু হিসেবে টিকে থাকে না।
  4. মাফ‘ঊল মা‘আহু (المفعول معه):
    মূল বাক্য: جَاءَ الْبَرْدُ وَالطَّيَالِسَةَ (চাদরসহ শীত এসে গেছে)।
    ➔ কারণ: নায়েবে ফায়েল বানাতে হলে ক্রিয়ার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে হয়।
    • যদি সাথে থাকা ‘ওয়াও’ (و) রেখে দেওয়া হয়, তবে তা সাধারণ ‘আত্বফ’ (সংযোজক)-এর সাথে মিশে বিভ্রান্তি তৈরি করবে।
    • আর যদি ‘ওয়াও’ ফেলে দেওয়া হয়, তবে তা আর মাফ‘ঊল মা‘আহুই থাকবে না।
অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ টীকা: উপরোক্ত ৪টি ছাড়াও হাল (حال), তামীয (تمیز) এবং মুসতাসনা (مستثنى) কখনো নায়েবে ফায়েল হতে পারে না; কারণ এদের মূল পরিচয় ও অস্তিত্বই হলো মানসূব (نصب) হওয়া।

৫. ‘কা-যালিকা’ (كَذَلِكَ) শব্দের ব্যবহারিক রহস্য

প্রশ্ন:

গ্রন্থকার চারটিকে একসাথে না বলে প্রথম দুটি বলার পর কেন আলাদাভাবে وَالْمَفْعُولُ لَهُ، وَالْمَفْعُولُ مَعَهُ كَذَلِكَ বললেন?

উত্তর:

প্রথম দুটি মাফ‘ঊল (বাব-ই আলিমতু ও বাব-ই আ‘লামতু) নায়েবে ফায়েল না হওয়ার কারণটি অভিন্ন এবং অত্যন্ত শক্তিশালী (উভয়টি মুবতাদা-খবরের সাথে সংশ্লিষ্ট)। পক্ষান্তরে শেষ দুটির (মাফ‘ঊল লাহু ও মাফ‘ঊল মা‘আহু) না হওয়ার কারণ ভিন্ন এবং প্রথম দুটির তুলনায় কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির। এই সূক্ষ্ম পার্থক্য বুঝানোর জন্যই গ্রন্থকার كَذَلِكَ শব্দ দিয়ে তাদের পৃথক করেছেন।


৬. নায়েবে ফায়েল হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের নীতিমালা

যদি বাক্যে একাধিক উপাদান থাকে, তবে কোনটি নায়েবে ফায়েল হবে? এর ২টি সুনির্দিষ্ট মূলনীতি রয়েছে:

নায়েবে ফায়েল নির্বাচনের ক্রমবিন্যাস
১. বাক্যে 'মাফ‘ঊল বিহী' (مفعول به) আছে

➔ মাফ‘ঊল বিহী নির্দিষ্ট ও ওয়াজিব

(যারফ, মাজরূর বা মাসদার নায়েবে ফায়েল হতে পারবে না)
২. বাক্যে 'মাফ‘ঊল বিহী' নেই

➔ সবাই সমান অধিকারপ্রাপ্ত

(যারফ, মাজরূর বা মাসদার যে কাউকে বানানো যাবে)

নিয়ম ১: বাক্যে ‘মাফ‘ঊল বিহী’ উপস্থিত থাকলে

وَإِذَا وُجِدَ الْمَفْعُولُ بِهِ تَعَيَّنَ لَهُ

বাক্যের মধ্যে যদি মাফ‘ঊল বিহী বিদ্যমান থাকে, তবে শুধুমাত্র মাফ‘ঊল বিহী-কেই নায়েবে ফায়েল বানানো ওয়াজিব বা আবশ্যক। তখন যারফ, মাসদার বা জার-মাজরূর কোনোটিই নায়েবে ফায়েল হতে পারবে না; তারা নিজ নিজ অবস্থায় মানসূব থাকবে।

নিয়ম ২: বাক্যে ‘মাফ‘ঊল বিহী’ না থাকলে

فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فَالْجَمِيعُ سَوَاءٌ

যদি বাক্যে মাফ‘ঊল বিহী না থাকে, তবে বাকি ৩টি বিষয়ের যেকোনো একটিকে ইচ্ছানুযায়ী নায়েবে ফায়েল বানানো জায়েয এবং মর্যাদায় তারা সবাই সমান:

  • মাসদার বা মাফ‘ঊল মুতলাক (مصدر): শর্ত হলো তা বর্ণনামূলক (مختص) হতে হবে। যেমন: فُهِمَ فَهْمٌ عَمِيقٌ
  • যারফ বা সময়/স্থানবাচক বিশেষ্য (ظرف): শর্ত হলো তা সুনির্দিষ্ট হতে হবে। যেমন: سِيرَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ
  • জার-মাজরূর (جار مجرور): যেমন: نُظِرَ فِي الْأَمْرِ

৭. ‘বাব-ই আ‘তায়তু’ (باب أعطيت)-এর বিশেষ বিধান

وَالأَوَّلُ مِنْ "بَابِ أَعْطَيْتُ" أَوْلَى مِنَ الثَّانِي

যে সকল ক্রিয়া দুটি মাফ‘ঊল গ্রহণ করে কিন্তু তাদের মাফ‘ঊল দুটি মূলত মুবতাদা-খবর নয় (যেমন: أَعْطَى, كَسَا ইত্যাদি), তাদের যেকোনো একটিকে নায়েবে ফায়েল বানানো জায়েয। তবে ১ম মাফ‘ঊলটিকে নায়েবে ফায়েল বানানো উত্তম ও অধিক পছন্দনীয় (أولى)

মূল বাক্য: أَعْطَيْتُ زَيْدًا دِرْهَمًا (আমি যায়েদকে একটি দিরহাম দিয়েছি)।

  • উত্তম রূপ: أُعْطِيَ زَيْدٌ دِرْهَمًا
    (যায়েদকে নায়েবে ফায়েল করা উত্তম, কারণ অর্থের দিক থেকে যায়েদই গ্রহণকারী, যা ফায়েলের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ)।
  • জায়েয রূপ: أُعْطِيَ دِرْهَمٌ زَيْدًا
    (দিরহামকে নায়েবে ফায়েল করাও ব্যাকরণগতভাবে সম্পূর্ণ জায়েয)।

৮. মাজহূল ক্রিয়ার সাথে নায়েবে ফায়েলের বচন ও লিঙ্গগত সামঞ্জস্যের বিধান

মাজহূল ফে‘লের সাথে নায়েবে ফায়েলের বচন (একবচন, দ্বিবচন, বহুবচন) এবং লিঙ্গ (পুংলিঙ্গ, স্ত্রীলিঙ্গ)-এর বিধান হুবহু মারূফ ফে‘ল ও ফায়েলের মতো:

ক. বচনের বিধান (إفراد، تثنية، جمع)

  • নায়েবে ফায়েল যদি বাহ্যিক বিশেষ্য (اسم ظاهر) হয়: তবে ফে‘ল সর্বদা একবচন (واحد) হবে; চাই নায়েবে ফায়েল একবচন, দ্বিবচন বা বহুবচন যাই হোক না কেন।
    যেমন: ضُرِبَ زَيْدٌ / ضُرِبَ الزَّيْدَانِ / ضُرِبَ الزَّيْدُونَ
  • নায়েবে ফায়েল যদি যমীর (সর্বনাম) হয়: তবে ফে‘ল নায়েবে ফায়েলের বচন অনুযায়ী পরিবর্তিত হবে।
    যেমন: زَيْدٌ ضُرِبَ / الزَّيْدَانِ ضُرِبَا / الزَّيْدُونَ ضُرِبُوا

খ. লিঙ্গের বিধান (تذكير ও تأنيث)

ক্ষেত্র বিধান শর্ত / প্রেক্ষাপট উদাহরণ
১. ওয়াজিবাতুত তানিস مؤنث ওয়াজিব ক) নায়েবে ফায়েল প্রকৃত স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث حقيقي) হয়ে ফে‘লের সাথে সরাসরি যুক্ত হলে。
খ) নায়েবে ফায়েল স্ত্রীলিঙ্গের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী যমীর হলে।
ক) ضُرِبَتْ هِنْدٌ
খ) هِنْدٌ ضُرِبَتْ
২. জায়েযুত তানিস উভয়টি জায়েয ক) প্রকৃত স্ত্রীলিঙ্গ কিন্তু মাঝে ব্যবধান থাকলে।
খ) অপ্রকৃত স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث مجازي) হলে।
গ) জমা তকসীর (جمع تكسير) হলে।
ঘ) জমা মুয়ান্নাস সালেম হলে।
ক) ضُرِبَ الْيَوْمَ هِنْدٌ / ضُرِبَتْ الْيَوْمَ هِنْدٌ
খ) طُلِعَ الشَّمْسُ / طُلِعَتِ الشَّمْسُ
গ) ضُرِبَ الرِّجَالُ / ضُرِبَتِ الرِّجَالُ
৩. ওয়াজিবাতুত তাযকীর مذكر ওয়াজিব ক) নায়েবে ফায়েল পুংলিঙ্গ হলে।
খ) নায়েবে ফায়েল ও ফে‘লের মাঝে ‘ইল্লা’ (إِلَّا) দ্বারা ব্যবধান হলে।
ক) ضُرِبَ زَيْدٌ
খ) مَا ضُرِبَ إِلَّا هِنْدٌ

৯. কিতাবে উল্লেখিত কেন্দ্রীয় উদাহরণের পূর্ণাঙ্গ তারকীব

«ضُرِبَ زَيْدٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، أَمَامَ الْأَمِيرِ، ضَرْبًا شَدِيدًا، فِي دَارِهِ»

(অর্থ: যায়েদকে জুমার দিন আমীরের সামনে তার ঘরের ভেতর কঠোরভাবে প্রহার করা হয়েছে।)

শব্দভিত্তিক ব্যাকরণগত তারকীব (الإعراب والتركيب):

ضُرِبَ : ফে‘লে মাযী মাজহূল (فعل ماضي مجهول)।

زَيْدٌ : নায়েবে ফায়েল (نائب الفاعل), মারফূ‘ বা পেশযুক্ত (যেহেতু বাক্যে মাফ‘ঊল বিহী উপস্থিত, তাই এটিই নায়েবে ফায়েল হিসেবে নির্দিষ্ট)।

يَوْمَ الْجُمُعَةِ : মুযাফ ও মুযাফ ইলাইহ মিলে ➔ মাফ‘ঊলে ফীহ / যারফে যামান (ظرف زمان), মানসূব।

أَمَامَ الْأَمِيرِ : মুযাফ ও মুযাফ ইলাইহ মিলে ➔ মাফ‘ঊলে ফীহ / যারফে মাকান (ظرف مكان), মানসূব।

ضَرْبًا شَدِيدًا : মাওসূফ ও সিফাত মিলে ➔ মাফ‘ঊলে মুতলাক (مفعول مطلق), মানসূব।

فِي دَارِهِ : জার ও মাজরূর (মুযাফ-মুযাফ ইলাইহ সহ) মিলে ➔ মুতা‘আল্লিক্ব (متعلق - সম্পৃক্ত)।

চূড়ান্ত বাক্য গঠন:

ফে‘লে মাজহূল (ضُرِبَ) তার নায়েবে ফায়েল (زَيْدٌ), উভয় যারফ, মাফ‘ঊলে মুতলাক ও মুতা‘আল্লিক্বকে সাথে নিয়ে ‘জুমলায়ে ফে‘লিয়্যাহ খবরিয়্যাহ’ (جملة فعلية خبرية) গঠিত হলো।

পরের দরস আগের দরস