المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।
"এবং (আবুকা, আখুকা...) অর্থাৎ আসমায়ে সিত্তাহ মুকাব্বারা যখন ইয়া-এ মুতাকাল্লিম (ياء المتكلم) ছাড়া অন্য কোনো শব্দের দিকে মুযাফ (مضاف) হবে, তখন এদের ই‘রাব হবে: হালতে রাফ‘ঈতে ওয়াও (واو) দ্বারা, হালতে নাসবীতে আলিফ (الف) দ্বারা এবং হালতে জাররীতে ইয়া (ياء) দ্বারা।"
দরসের রূপরেখা (تشریح)
আজকের দরসে মূলত তিনটি মৌলিক বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:
- الْأَسْمَاءُ السِّتَّةُ الْمُكَبَّرَةُ (আসমায়ে সিত্তাহ মুকাব্বারা)-এর ই‘রাব ও তার রূপ।
- আসমায়ে সিত্তাহর প্রতিটি শব্দের শাব্দিক ও আভিধানিক তাহকীক (لفظی اور لغوی تحقیق)।
- আসমায়ে সিত্তাহর শর্তাবলি (فوائدِ قیود), শর্ত ভঙ্গের হুকুম এবং এদেরকে এই বিশেষ ই‘রাব প্রদানের যৌক্তিক কারণসমূহ।
প্রথম বিষয়: আসমায়ে সিত্তাহ মুকাব্বারার ই‘রাব
পূর্ববর্তী দরসগুলোতে ছিল إعراب بالحركة (হরকত দ্বারা ই‘রাব)-এর আলোচনা। সেখান থেকে উত্তরণ ঘটে এখন শুরু হচ্ছে إعراب بالحرف (হরফ দ্বারা ই‘রাব)-এর অধ্যায়।
হরকত দ্বারা ই‘রাবের মধ্যে যেমন সর্বপ্রথম إعراب بالحركة غير نيابي (কোনো প্রতিনিধিত্ব ছাড়া মৌলিক হরকত)-কে আনা হয়েছিল, ঠিক তেমনি হরফ দ্বারা ই‘রাবের ক্ষেত্রেও সর্বপ্রথম إعراب بالحرف غير نيابي (যেখানে তিন হালতের জন্য তিনটি স্বতন্ত্র হরফ—واو, الف এবং ياء নির্ধারিত)-কে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মুসান্নিফ (المصنف) বলেছেন: «بِالْوَاوِ وَالْأَلِفِ وَالْيَاءِ»। পূর্বের কায়েদা অনুযায়ী উহ্য ইবারত মিলিয়ে পূর্ণ বাক্য দাঁড়ায়:
উদাহরণসমূহ:
- حالت رفعي: «جَاءَنِي أَبُوكَ، وَأَخُوكَ، وَحَمُوكَ، وَهَنُوكَ، وَفُوكَ، وَذُو مَالٍ» (সবগুলোতে ‘واو’ এসেছে)।
- حالت نصبي: «رَأَيْتُ أَبَاكَ، وَأَخَاكَ، وَحَمَاكَ، وَهَنَاكَ، وَفَاكَ، وَذَا مَالٍ» (সবগুলোতে ‘الف’ এসেছে)।
- حالت جري: «مَرَرْتُ بِأَبِيكَ، وَأَخِيكَ، وَحَمِيكَ، وَهَنِيكَ، وَفِيكَ، وَذِي مَالٍ» (সবগুলোতে ‘ياء’ এসেছে)।
দ্বিতীয় বিষয়: আসমায়ে সিত্তাহর শাব্দিক ও আভিধানিক তাহকীক
এই ৬টি বিশেষ ইসম মূলত তিনটি পৃথক ভাষাতাত্ত্বিক ধারায় গঠিত:
(أَبٌ، أَخٌ، حَمٌ، هَنٌ)
(فُوكَ - মূল: فَوْهٌ)
(ذُو - মূল: ذَوَوٌ)
১. প্রথম শ্রেণি: «أَبٌ»، «أَخٌ»، «حَمٌ»، «هَنٌ»-এর তাহকীক:
এগুলো মূলত ناقص واوي। এদের মূল ওজন ছিল «فَعَلٌ»-এর ওযনে যথাক্রমে: «أَبَوٌ»، «أَخَوٌ»، «حَمَوٌ»، «هَنَوٌ»।
দলিল: এদের تثنية রূপ হলো: «أَبَوَانِ، أَخَوَانِ، حَمَوَانِ، هَنَوَانِ» এবং تصغير হলো: «أُبَيٌّ، أُخَيٌّ، حُمَيٌّ، هُنَيٌّ»—যা প্রমাণ করে এদের মূল কাঠামোতে তৃতীয় বর্ণ হিসেবে একটি ‘واو’ ছিল।
রূপান্তর: একক (مفرد) অবস্থায় আরবগণ নিয়মবহির্ভূতভাবে (خلاف القياس) এদের শেষাক্ষর واو বিলুপ্ত করে দ্বিতীয় বর্ণ ‘আইন’ কালিমার ওপর اعراب দিয়ে «أَبٌ، أَخٌ، حَمٌ، هَنٌ» বানিয়েছিলেন। কিন্তু যখন এগুলোকে مضاف করা হয় বা تثنية বানানো হয়, তখন সেই বিলুপ্ত ‘واو’ পুনরায় স্বস্থানে ফিরে আসে (যেমন: «أَبُوكَ» ও «أَبَوَانِ»)।
একটি সারফী اشکال ও সমাধান:
আপত্তি: সরফের সুবিদিত কায়েদা (قَالَ/بَاعَ-এর নিয়ম) অনুযায়ী—হরফে ইল্লত (واو) হরকতযুক্ত এবং পূর্বের হরফ যবরযুক্ত হলে واو আলিফে রূপান্তরিত হয়ে «أَبَانْ» হতো; অতঃপর التقاء الساكنين-এর কারণে আলিফ বিলুপ্ত হয়ে «أَبٌ» হতো। তাহলে একে خلاف القياس (নিয়মবহির্ভূত) কেন বলা হলো?
সমাধান: যদি «قال/باع»-এর নিয়ম জারি করা হতো, তবে শব্দটি اسم مقصور হয়ে যেত (যার তিন হালতেই اعراب تقديري হতো)। কিন্তু আরবদের উদ্দেশ্য ছিল একে مقصور না বানিয়ে ইযাফতের সময় মূল হরফ দ্বারা প্রকাশ্য ই‘রাব দেওয়া; তাই তারা সাধারণ কায়েদা পরিহার করে خلاف القياس পথ অবলম্বন করেছিলেন।
২. দ্বিতীয় শ্রেণি: «فُوكَ» (মুখ)-এর তাহকীক:
এটি মূলত اجوف واوي। এর মূল রূপ ছিল «فَوْهٌ» (বহুবচনে আসে «أَفْوَاهٌ»)।
রূপান্তর: خلاف القياس নিয়মে শেষাক্ষর ‘هاء’-কে বিলুপ্ত করে মধ্যবর্তী হরফ ‘واو’-কে ‘مِيم’ দ্বারা পরিবর্তন করে «فَمٌ» বানানো হয়েছিল।
কারণ: যদি ‘واو’-কে مِيم দ্বারা পরিবর্তন না করা হতো, তবে ই‘রাবের কারণে واو হরকতযুক্ত হয়ে «قال/باع» নিয়মে আলিফ হতো এবং التقاء الساكنين-এর কারণে আলিফও পড়ে গিয়ে এক হরফের অর্থহীন শব্দ «فٌ» অবশিষ্ট থাকত—যা আরবিতে নিষিদ্ধ।
তবে যখন একে مضاف করা হয়, তখন ‘مِيم’ দূরীভূত হয়ে পূর্বের মূল ‘واو’ ফিরে আসে (যেমন: «فُوكَ»)।
৩. তৃতীয় শ্রেণি: «ذُو» (অধিকারী)-এর তাহকীক:
এটি মূলত لفيف مقرون। এর মূল ওজন ছিল «فَعَلٌ»-এর ওযনে «ذَوَوٌ»।
রূপান্তর: দ্বিতীয় ‘واو’-কে বিলুপ্ত করে প্রথম واو-এর ওপর اعراب জারি করা হয়; ফলে শব্দটি হয় «ذَوْ» (যেমন: «يَدٌ» ও «دَمٌ»)। ইযাফতের কারণে তানভীন পড়ে গিয়ে যালের যেরকে পেশের সাথে মিলিয়ে «ذُو» গঠিত হয়েছে (যেমন: «ذُو مَالٍ»)।
«ذُو» সংক্রান্ত একটি সূক্ষ্ম اشکال ও তার সমাধান:
আপত্তি: আসমায়ে সিত্তাহর অন্য ৫টি শব্দ যমীর (ضمير)-এর দিকে মুযাফ হতে পারে (যেমন: «أَبُوكَ، أَخُوكَ» ইত্যাদি), কিন্তু «ذُو» কেন কখনোই যমীরের দিকে মুযাফ হয় না, বরং সর্বদা اسم ظاہر এবং اسم جنس-এর দিকে মুযাফ হয় (যেমন: «ذُو مَالٍ»)?
সমাধান: «ذُو» মূলত صفت (গুণ বা বিশেষণ)-এর অর্থ দেওয়ার জন্য সৃষ্টি হয়েছে (যেমন: «زَيْدٌ ذُو مَالٍ» অর্থ—‘যায়েদ সম্পদশালী’)। এটি তার পরবর্তী اسم ظاہر-কে পূর্ববর্তী موصوف-এর গুণে পরিণত করে। কিন্তু যমীর (ضمير) যেহেতু কোনো গুণ বা বৈশিষ্ট্যের অর্থ বহন করতে পারে না, তাই «ذُو» কখনোই যমীরের দিকে মুযাফ হতে পারে না।
তৃতীয় বিষয়: আসমায়ে সিত্তাহর শর্তাবলি ও শর্ত ভঙ্গের হুকুম
আসমায়ে সিত্তাহকে হরফ দ্বারা এই বিশেষ ই‘রাব (واو، الف، ياء) পাওয়ার জন্য ৫টি সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে:
শর্ত ভঙ্গ হলে: যদি এগুলো مصغرة হয়, তবে এদের ই‘রাব হবে مفرد منصرف جاری مجریٰ صحیح-এর ন্যায় (হরকত দ্বারা প্রকাশ্য ই‘রাব)।
যেমন: «جَاءَنِي أُخَيٌّ، وَرَأَيْتُ أُخَيًّا، وَمَرَرْتُ بِأُخَيٍّ»।
দ্বিবচন হলে: تثنية-এর ই‘রাব পাবে (রাফ‘তে الف, নসব ও জারে ياء)। যেমন: «جَاءَنِي أَخَوَانِ، وَرَأَيْتُ أَخَوَيْنِ»।
বহুবচন হলে: جمع مكسر منصرف-এর ই‘রাব পাবে (হরকত দ্বারা)। যেমন: «جَاءَنِي آبَاءٌ وَإِخْوَةٌ»।
মুযাফ না হলে: مفرد منصرف صحيح-এর ন্যায় সাধারণ হরকতের ই‘রাব পাবে।
যেমন: «جَاءَنِي أَبٌ وَأَخٌ، وَرَأَيْتُ أَبًا وَأَخًا، وَمَرَرْتُ بِأَبٍ وَأَخٍ»।
ইয়া-এ মুতাকাল্লিমের দিকে মুযাফ হলে: «غُلَامِي»-এর ন্যায় তিন হালতেই تقديري (উহ্য হরকতের) ই‘রাব হবে।
যেমন: «جَاءَنِي أَبِي وَأَخِي، وَرَأَيْتُ أَبِي وَأَخِي، وَمَرَرْتُ بِأَبِي وَأَخِي»।
এই ৬টি ইসমকে এই বিশেষ ই‘রাব দেওয়ার কারণসমূহ:
- تثنية ও جمع-এর সমতা বিধান: تثنية এবং جمع-এর বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে إعراب بالحرف দেওয়া হয়েছে। مفرد-এর মধ্যেও যেন إعراب بالحرف-এর একটি অংশীদারিত্ব থাকে, তাই আসমায়ে সিত্তাহকে এই ই‘রাব দেওয়া হয়েছে।
- সংখ্যাগত সামঞ্জস্য: تثنية-এর ৩ প্রকার (حقيقي، صوري، معنوي) এবং جمع-এর ৩ প্রকার (حقيقي، صوري، معنوي) মিলে মোট ৬ প্রকার। তাদের সাথে হুবহু মিল রেখে مفرد থেকেও ৬টি ইসমকে মনোনীত করা হয়েছে।
- শব্দগত যোগ্যতা: আরবি ভাষায় এই ৬টি ছাড়া এমন কোনো مفرد ইসম নেই যার শেষাক্ষরে হরফে ইল্লত ছিল এবং ইযাফতের সময় তা ফিরে আসে।
- سماع (সর্বোচ্চ দলিল): এটি মূলত আরবের বিশুদ্ধ ভাষী লোকদের থেকে শ্রুত (سماعي)। আরবরা এই ৬টি ইসমকেই কেবল এই নিয়মে ব্যবহার করেছেন।
তারকীবগত ফায়দা: কিতাবের মূল ইবারতে «مُضَافَةً» শব্দটি زبرযুক্ত বা منصوب হয়েছে; কারণ এটি আসমায়ে সিত্তাহ («أَبُوكَ» ইত্যাদি) থেকে حال (হাল) হিসেবে واقع হয়েছে।