دروس الكافية

দরসে কাফিয়া - কাফিয়া কিতাবের পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ডিজিটাল দরসগাহ

আপনি সর্বশেষ পড়েছিলেন:

দরস (১৪) : তাসনিয়া ও জমা মুযাক্কার সালেমের ই‘রাব এবং মুলহাক্বাত | দরসে কাফিয়া

موضوع (মূল বিষয়) ইসম মু‘রাবের ই‘রাবের পঞ্চম ও ষষ্ঠ প্রকার (تثنيةجمع مذكر سالم এবং এদের ملحقات-এর ই‘রাব ও বিশ্লেষণ)
المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
«اَلْمُثَنَّى وَ(كِلَا) مُضَافًا إِلَى مُضْمَرٍ، وَاثْنَانِ وَاثْنَتَانِ: بِالْأَلِفِ وَالْيَاءِ، جَمْعُ الْمُذَكَّرِ السَّالِمِ، وَأُولُو، وَعِشْرُونَ وَأَخَوَاتُهَا: بِالْوَاوِ وَالْيَاءِ.»

শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।

ইবারতের সরল অনুবাদ:

"এবং মুসান্না (تثنية), আর ‘কিলা’ (كِلَا) যখন তা কোনো যমীরের (ضمير)-এর দিকে মুযাফ হবে, এবং ‘ইছনানি’ (اِثْنَانِ) ও ‘ইছনাতানি’ (اِثْنَتَانِ)—এদের ই‘রাব হলো: হালতে রাফ‘ঈতে আলিফ (الف) দ্বারা এবং হালতে নাসবী ও জাররীতে ইয়া (ياء ما قبل مفتوح) দ্বারা। আর জমা মুযাক্কার সালেম (جمع المذكر السالم), ‘উলূ’ (أُولُو), এবং ‘ইশরূনা’ (عِشْرُونَ) ও তার সমগোত্রীয় শব্দগুলোর ই‘রাব হলো: হালতে রাফ‘ঈতে ওয়াও (واو) দ্বারা এবং হালতে নাসবী ও জাররীতে ইয়া (ياء ما قبل مكسور) দ্বারা।"

[toc]

দরসের রূপরেখা (تشریح)

আজকের দরসে মূলত দুটি প্রধান বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:

  1. تثنية, جمع এবং এদের ملحقات (সম্পর্কিত শব্দসমূহ)-এর শ্রেণিবিভাগ ও তা'রীফ (تعريف)।
  2. উল্লেখিত প্রকারসমূহের ই‘রাবের বিস্তারিত বিবরণ ও ব্যাকরণিক রহস্য।

প্রথম বিষয়: تثنية, جمع এবং এদের ملحقات-এর তা'রীফ

মুসান্নিফ (المصنف) কিতাবের ইবারতে অত্যন্ত সংক্ষেপ করেছেন। শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ ধারণার জন্য এদের প্রতিটি প্রকারের তা'রীফ জেনে নেওয়া আবশ্যক:

১. تثنية (দ্বিবচন)-এর ৩টি প্রকার:

تثنية-এর প্রকারভেদ:
১. تثنية حقيقي
مفرد ও আলামত বিদ্যমান (যেমন: رَجُلَانِ)
২. تثنية صوري
আলামত আছে, مفرد নেই (যেমন: اِثْنَانِ، اِثْنَتَانِ)
৩. تثنية معنوي
আলামত ও مفرد কোনটিই নেই (যেমন: كِلَا، كِلْتَا)
تثنية حقيقي (প্রকৃত দ্বিবচন): যে শব্দের মধ্যে ৩টি বৈশিষ্ট্য পূর্ণরূপে পাওয়া যায়:
  • (ক) তা স্পষ্টত দুই ব্যক্তির ওপর নির্দেশ করে।
  • (খ) একই মূল ধাতু (مادہ) থেকে তার مفرد (একবচন) ব্যবহৃত হয়।
  • (গ) তার শেষে تثنية-এর বিশেষ আলামত (الفنون অথবা ياءنون) বিদ্যমান থাকে।
উদাহরণ: «رَجُلَانِ» (একবচন: رجل), «تِلْمِيذَانِ» (একবচন: تلميذ)।
تثنية صوري / ملحق بالمثنى لفظاً (গঠনগত দ্বিবচন): যাতে উল্লেখিত ৩টি বিষয়ের মধ্যে ২টি বিষয় পাওয়া যায়:
  • (ক) দুইয়ের ওপর নির্দেশ করে, এবং
  • (খ) শেষে تثنية-এর আলামত থাকে; কিন্তু এর নিজস্ব কোনো একবচন (مفرد) থাকে না।
উদাহরণ: «اِثْنَانِ» (দুইজন পুরুষ) এবং «اِثْنَتَانِ» (দুইজন নারী)।
تثنية معنوي / ملحق بالمثنى معنىً (অর্থগত দ্বিবচন): যাতে ৩টি বিষয়ের মধ্যে কেবল ১টি বিষয় পাওয়া যায়:

এটি শুধুমাত্র দুইয়ের অর্থ প্রকাশ করে; কিন্তু এর কোনো একবচনও নেই এবং এর শেষে تثنية-এর আলামতও যুক্ত থাকে না।

উদাহরণ: «كِلَا» (উভয় পুরুষ) এবং «كِلْتَا» (উভয় নারী)।

২. جمع (বহুবচন)-এর ৩টি প্রকার:

جمع حقيقي (প্রকৃত বহুবচন): যাতে ৩টি বিষয় পাওয়া যায়:
  • (ক) দুইয়ের অধিক ব্যক্তির ওপর নির্দেশ করে।
  • (খ) একই মূল ধাতু থেকে তার مفردتثنية ব্যবহৃত হয়।
  • (গ) শেষে جمع-এর আলামত (واونون অথবা ياءنون) বিদ্যমান থাকে।
উদাহরণ: «مُسْلِمُونَ» (একবচন: مسلم, দ্বিবচন: مسلمان)।
جمع صوري / ملحق بالجمع لفظاً (গঠনগত বহুবচন): যাতে ২টি বিষয় পাওয়া যায়:
  • (ক) দুইয়ের অধিক বোঝায়, এবং
  • (খ) শেষে جمع-এর আলামত বিদ্যমান থাকে; কিন্তু এর কোনো নিজস্ব مفرد থাকে না।
উদাহরণ: «عِشْرُونَ» থেকে «تِسْعُونَ» (২০ থেকে ৯০ পর্যন্ত দশকবাচক সংখ্যাগুলো—যাদের عقود বলা হয়)।
جمع معنوي / ملحق بالجمع معنىً (অর্থগত বহুবচন): যাতে কেবল ১টি বিষয় পাওয়া যায়:

এটি দুইয়ের অধিক অর্থ প্রকাশ করে; কিন্তু এর নিজস্ব কোনো مفرد এবং বহুবচনের সীগাহ থাকে না।

উদাহরণ: «أُولُو» (অধিকারীগণ—এটি «ذُو»-এর বহুবচন, তবে غير من لفظه বা ভিন্ন শব্দমূল থেকে গঠিত)।

দ্বিতীয় বিষয়: উল্লেখিত প্রকারসমূহের ই‘রাব

ই‘রাবের ৫ম প্রকার: تثنية এবং তার ملحقات-এর ই‘রাব

حالت رفعي: الف দ্বারা হবে।
حالت نصبي ও حالت جري: উভয় হালতে ياء ما قبل مفتوح (পূর্বের হরফে যবরযুক্ত ياء) দ্বারা হবে।

উদাহরণসমূহ:

  • حالت رفعي: «جَاءَنِي رَجُلَانِ، وَاثْنَانِ، وَكِلَاهُمَا»।
  • حالت نصبي: «رَأَيْتُ رَجُلَيْنِ، وَاثْنَيْنِ، وَكِلَيْهِمَا»।
  • حالت جري: «مَرَرْتُ بِرَجُلَيْنِ، وَاثْنَيْنِ، وَكِلَيْهِمَا»।

«كِلَا» শব্দের শর্ত ও বিশেষ সূক্ষ্মতাসমূহ:

  • «مُضَافًا إِلَى مُضْمَرٍ» শর্তের হিকমত:
    ‘কিলা’ (كِلَا) শব্দটি হরফ দ্বারা এই ই‘রাব তখনই লাভ করবে, যখন তা কোনো যমীর (ضمير)-এর দিকে মুযাফ হবে (যেমন: «كِلَاهُمَا»)।
    যদি اسم ظاهر-এর দিকে মুযাফ হয়: তখন এর ই‘রাব আর হরফ দ্বারা হবে না, বরং ইসমে মাকসূর-এর ন্যায় তিন হালতেই تقديري (উহ্য হরকত) দ্বারা হবে।
    যেমন: «جَاءَنِي كِلَا الرَّجُلَيْنِ، وَرَأَيْتُ كِلَا الرَّجُلَيْنِ، وَمَرَرْتُ بِكِلَا الرَّجُلَيْنِ»।
  • «كِلْتَا» উল্লেখ না করার কারণ:
    মুসান্নিফ শুধু «كِلَا» উল্লেখ করেছেন, এর স্ত্রীলিঙ্গ «كِلْتَا» উল্লেখ করেননি। কারণ আরবি ভাষার কায়েদা হলো—«ذِكْرُ الْأَصْلِ يَسْتَلْزِمُ ذِكْرَ الْفَرْعِ» (মূল উল্লেখ করলেই তার শাখা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাব্যস্ত হয়ে যায়)। যেহেতু ‘কিলা’ হলো اصل এবং ‘কিলতা’ তার فرع, তাই কিলা উল্লেখ করার দ্বারাই কিলতাও অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।
  • «اثْنَتَانِ» আলাদাভাবে উল্লেখ করার রহস্য:
    মুসান্নিফ «اثْنَانِ»-এর সাথে «اثْنَتَانِ»-কে আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন। কারণ সংখ্যাবাচক শব্দ বা أسماء العدد-এর ক্ষেত্রে পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গের মাঝে প্রায়ই বৈপরীত্য ঘটে থাকে (যেমন: ثلاثة رجال কিন্তু ثلاث نساء)। ফলে কারও মনে সন্দেহ হতে পারত যে সংখ্যা হিসেবে হয়তো ‘ইছনানি’ ও ‘ইছনাতানি’-এর ই‘রাবেও কোনো তফাত রয়েছে। সেই বিভ্রান্তি দূর করতে মুসান্নিফ উভয়টিকে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন।
  • «مُضَافًا»-এর তারকীব: কিতাবের ইবারতে «مُضَافًا» শব্দটি منصوب হয়েছে, কারণ এটি «كِلَا» থেকে حال (হাল) হয়েছে। আর «كِلَا» মূলত উহ্য ফে‘ল «يُعْرَبُ»-এর জন্য نائب فاعل। (تقدير عبارت: «وَيُعْرَبُ الْمُثَنَّى وَكِلَا حَالَ كَوْنِهِ مُضَافًا إِلَى مُضْمَرٍ»)।

ই‘রাবের ৬ষ্ঠ প্রকার: جمع مذكر سالم এবং তার ملحقات-এর ই‘রাব

حالت رفعي: واو দ্বারা হবে।
حالت نصبي ও حالت جري: উভয় হালতে ياء ما قبل مكسور (পূর্বের হরফে যেরযুক্ত ياء) দ্বারা হবে।

উদাহরণসমূহ:

  • حالت رفعي: «جَاءَنِي مُسْلِمُونَ، وَعِشْرُونَ، وَأُولُو مَالٍ»।
  • حالت نصبي: «رَأَيْتُ مُسْلِمِينَ، وَعِشْرِينَ، وَأُولِي مَالٍ»।
  • حالت جري: «مَرَرْتُ بِمُسْلِمِينَ، وَعِشْرِينَ، وَأُولِي مَالٍ»।

«أُولُو»-এর বিশেষ শর্ত:
যেহেতু «أُولُو» হলো আসমায়ে সিত্তাহ মুকাব্বারার «ذُو»-এর বহুবচন, তাই «ذُو»-এর মতো «أُولُو»-এর ক্ষেত্রেও একই শর্ত প্রযোজ্য—এটি সর্বদা اسم ظاہر-এর দিকে মুযাফ হবে (যেমন: «أُولُو مَالٍ» বা সম্পদশালী ব্যক্তিগণ), কখনোই যমীরের দিকে মুযাফ হতে পারবে না।

📌 خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ)

প্রকারভেদ অন্তর্ভুক্ত শব্দসমূহ حالت رفعي حالت نصبي ও جري বিশেষ শর্ত ও নিয়ম
৫ম প্রকার:
تثنية ও তার ملحقات
المثنى (رجلان)
اثنان / اثنتان
كلا / كلتا
الف
(যেমন: رجلانِ)
ياء ما قبل مفتوح
(যেমন: رجلَيْنِ)
كلا / كلتا কেবল যমীরের দিকে মুযাফ হলেই এই ই‘রাব পাবে। اسم ظاہر-এর দিকে মুযাফ হলে تقديري ই‘রাব হবে।
৬ষ্ঠ প্রকার:
جمع مذكر سالم ও তার ملحقات
جمع المذكر السالم (مسلمون)
أولو
عشرون وأخواتها (২০-৯০)
واو
(যেমন: مسلمُونَ)
ياء ما قبل مكسور
(যেমন: مسلمِينَ)
أولو সর্বদা اسم ظاہر-এর দিকে মুযাফ হয়ে ব্যবহৃত হয়।
পরের দরস আগের দরস