المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।
"এবং ই‘রাবে তাক্বদীরী (إعراب تقديري) দেওয়া হবে এমন সব সুরতে যেখানে (শব্দের শেষাক্ষরে ই‘রাব প্রকাশ পাওয়া) অসম্ভব হয়ে যায়—যেমন ‘আসা’ (عَصَا) এবং ‘গুলামী’ (غُلَامِي)-এর তিন হালতেই; অথবা যেখানে ই‘রাব ভারী বা কষ্টদায়ক মনে হয়—যেমন ‘ক্বাযী’ (قَاضٍ)-এর হালতে রাফ‘ঈ ও জাররীতে; এবং যেমন ‘মুসলিমিয়্যা’ (مُسْلِمِيَّ)-এর হালতে রাফ‘ঈতে। আর এ সমস্ত ক্ষেত্র ছাড়া বাকি সব সুরতে ই‘রাব লফযী (لفظي / প্রকাশ্য) হবে।"
দরসের ভূমিকা ও রূপরেখা (تمہید و تشریح)
ভূমিকা:
মুসান্নিফ (المصنف) ইতিপূর্বে ইসম মুতামাক্কিনের মোট ১৬টি সুরতের মধ্য থেকে ১২টি সুরত আলোচনা করেছেন, যা ছিল মূলত إعراب لفظي (প্রকাশ্য ই‘রাব)-এর ৬টি প্রকারের অধীনে। আজকের দরসে তিনি বাকি ৩টি প্রকার আলোচনা করছেন, যার অধীনে ইসম মুতামাক্কিনের অবশিষ্ট ৪টি সুরত এবং إعراب تقديري (অপ্রকাশ্য ই‘রাব)-এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ রয়েছে।
আজকের দরসে মূলত তিনটি বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:
- إعراب تقديري-এর হাকীকত এবং এর ৩টি প্রকার (৭ম, ৮ম ও ৯ম প্রকার)।
- ইবারতে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ শব্দসমূহের সরফী ও ব্যাকরণিক তাহকীক (چند کلمات کی تحقیق)।
- «وَاللَّفْظِيُّ فِيمَا عَدَاهُ»-এর সার্বিক মূলনীতি ও যমীর (ضمير)-এর মারজি‘ বিশ্লেষণ।
প্রথম বিষয়: إعراب تقديري এবং এর ক্ষেত্রসমূহ
ই‘রাবে তাক্বদীরীর হাকীকত:
إعراب تقديري মানে হলো—শব্দের শেষাক্ষরে বাহ্যিকভাবে কোনো হরকত বা হরফ দেখা যাবে না বা উচ্চারিত হবে না, কিন্তু বুদ্ধি ও ব্যাকরণিক বিবেচনায় আমেলের পূর্ণ প্রভাব কার্যকর থাকবে।
উপমা: যেমন বিদ্যুতের তারের ভেতরে বিদ্যুৎ খালি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু হাত দিলে তার অভ্যন্তরীণ শক্তির তীব্র অনুভূতি পাওয়া যায়; ঠিক তেমনি «جَاءَنِي مُوسَى» বাক্যে «مُوسَى»-এর শেষে পেশ দেখা না গেলেও আমেল «جَاءَ»-এর কারণে সে فاعل হিসেবে হুকমীভাবে মারফূ‘ (مرفوع تقديراً)।
ই‘রাবের ৭ম প্রকার (তিন হালতেই إعراب تقديري):
মুসান্নিফ বলেছেন: «التَّقْدِيرُ فِيمَا تَعَذَّرَ كَعَصَا وَغُلَامِي مُطْلَقًا»। অর্থাৎ যেখানে হরকত উচ্চারণ করা সম্পূর্ণরূপে অসম্ভব (تعذر), সেখানে তিন হালতেই ই‘রাব তাক্বদীরী হবে:
- حالت رفعي: ضمة تقديري (উহ্য পেশ) দ্বারা।
- حالت نصبي: فتحة تقديري (উহ্য যবর) দ্বারা।
- حالت جري: كسرة تقديري (উহ্য যের) দ্বারা।
এর অধীনে দুটি বিশেষ ইসম অন্তর্ভুক্ত:
-
اسم مقصور: এমন ইসম যার শেষে الف مقصورة থাকে। যেমন: «عَصَا»।
উদাহরণ: «هَذِهِ عَصَا» (حالت رفعي), «رَأَيْتُ عَصَا» (حالت نصبي), «مَرَرْتُ بِعَصَا» (حالت جري)। -
مضاف إلى ياء المتكلم: جمع مذكر سالم ব্যতীত অন্য যেকোনো ইসম যখন ‘ইয়া-এ মুতাকাল্লিম’-এর দিকে মুযাফ হয়। যেমন: «غُلَامِي», «كِتَابِي»।
উদাহরণ: «هَذَا غُلَامِي» (حالت رفعي), «رَأَيْتُ غُلَامِي» (حالت نصبي), «مَرَرْتُ بِغُلَامِي» (حالت جري)।
ই‘রাবের ৮ম প্রকার (দুই হালতে تقديري এবং এক হালতে لفظي):
মুসান্নিফ বলেছেন: «أَوِ اسْتُثْقِلَ كَقَاضٍ رَفْعًا وَجَرًّا»। অর্থাৎ যেখানে হরকত উচ্চারণ করা অসম্ভব নয় কিন্তু জিহ্বার ওপর অত্যন্ত ভারী ও কষ্টদায়ক (استثقال), সেখানে হালতে রাফ‘ঈ ও জাররীতে তাক্বদীরী হবে এবং হালতে নাসবীতে লফযী হবে।
নির্দিষ্ট ইসম: اسم منقوص — এমন ইসম যার শেষে ياء ما قبل مكسور (পূর্বে যেরযুক্ত ইয়া) থাকে। যেমন: «قَاضٍ» (আলিফ-লামসহ: «الْقَاضِي»)।
ই‘রাবের রূপ:
- حالت رفعي: ضمة تقديري দ্বারা (পেশ উচ্চারণ ভারী হওয়ায় তা উহ্য রাখা হয়)। যেমন: «جَاءَنِي الْقَاضِي»।
- حالت جري: كسرة تقديري দ্বারা (যের উচ্চারণ ভারী হওয়ায় তা উহ্য রাখা হয়)। যেমন: «مَرَرْتُ بِالْقَاضِي»।
- حالت نصبي: فتحة لفظي (প্রকাশ্য যবর) দ্বারা; কারণ ياء-এর ওপর যবর উচ্চারণ করা অত্যন্ত সহজ ও হালকা। যেমন: «رَأَيْتُ الْقَاضِيَ»।
ই‘রাবের ৯ম প্রকার (হালতে রাফ‘ঈতে تقديري এবং বাকিগুলোতে لفظي):
মুসান্নিফ বলেছেন: «وَنَحْوِ: مُسْلِمِيَّ رَفْعًا»।
নির্দিষ্ট ইসম: جمع مذكر سالم যখন ياء المتكلم-এর দিকে মুযাফ হয়। যেমন: «مُسْلِمِيَّ» (আমার মুসলমানগণ)।
ই‘রাবের রূপ:
- حالت رفعي: واو تقديري (উহ্য ওয়াও) দ্বারা। যেমন: «جَاءَنِي مُسْلِمِيَّ»।
- حالت نصبي ও حالت جري: উভয় হালতে ياء لفظي ما قبل مكسور (প্রকাশ্য ইয়া) দ্বারা। যেমন: «رَأَيْتُ مُسْلِمِيَّ» এবং «مَرَرْتُ بِمُسْلِمِيَّ»।
দ্বিতীয় বিষয়: গুরুত্বপূর্ণ শব্দসমূহের সারফী ও ব্যাকরণিক তাহকীক
এটি باب تَفَعُّل থেকে ماضی معروف-এর সীগাহ্। এর আভিধানিক অর্থ: এমন কিছুতে পৌঁছা যা অতিশয় কষ্টসাধ্য। তবে এখানে পরিভাষাগত অর্থ হলো «الِامْتِنَاعُ» অর্থাৎ ‘সম্পূর্ণ অসম্ভব হওয়া’।
এটি باب اسْتِفْعَال থেকে ماضی مجہول-এর সীগাহ্। এর অর্থ হলো ‘ভারী বা কষ্টদায়ক মনে করা’।
تَعَذُّر এবং اسْتِثْقَال-এর পার্থক্য:
• تَعَذُّر (যেমন: عَصَا): الف কখনো কোনো হরকত গ্রহণ করতে পারে না। জোরপূর্বক হরকত দিলে তা আর আলিফ থাকে না, বরং হামযায় (ء) পরিণত হয়। তাই এখানে হরকত দেওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব।
• اسْتِثْقَال (যেমন: قَاضٍ): এখানে ياء-এর ওপর পেশ বা যের উচ্চারণ করা অসম্ভব নয়, কিন্তু তা মুখে উচ্চারণ করা অত্যন্ত ভারী ও শ্রুতিকটু।
এটি ناقص واوي। মূল রূপ ছিল «عَصَوٌ»। 'قَالَ/بَاعَ'-এর কায়েদা অনুযায়ী واو হরকতযুক্ত ও পূর্বের হরফ যবরযুক্ত হওয়ায় واو আলিফে পরিণত হয়ে «عَصَانْ» হয়। অতঃপর তানভীনের সাথে التقاء الساكنين-এর কারণে আলিফ বিলুপ্ত হয়ে «عَصًى» হয়। তবে আলিফ-লাম যুক্ত হলে আলিফ ফিরে আসে—«الْعَصَا»।
এটি باب إِفْعَال থেকে اسم مفعول-এর সীগাহ্। এর অর্থ ‘সর্বাবস্থায়’ (তিন হালতেই)।
তারকীব: এটি «عَصَا» এবং «غُلَامِي» থেকে حال (হাল) হিসেবে منصوب হয়েছে।
নাহবী খণ্ডন: কিছু নাহববিদ মনে করেন «غُلَامِي»-এর হালতে জাররীতে মীমের নিচে বিদ্যমান کسرة-টি لفظي। মুসান্নিফ «مُطْلَقًا» এনে তাঁদের মত খণ্ডন করেছেন; কারণ মীমের নিচের যের আমেলের কারণে আসেনি, বরং ইয়া-এর সাথে মিল রাখার স্বার্থে এসেছে। সুতরাং এটিও تقديراً مجرور।
এটি اسم منقوص ও اسم فاعل। মূল রূপ ছিল «قَاضِيٌ»। ياء-এর ওপর ضمة ভারী হওয়ায় তা বিলুপ্ত করা হয়। ফলে ياء সাকিন ও তানভীনের নূন সাকিনের মাঝে التقاء الساكنين হওয়ায় ياء বিলুপ্ত হয়ে «قَاضٍ» রূপ ধারণ করে।
এর মূল রূপ ছিল «مُسْلِمُونَ لِي»। ইযাফতের কারণে লাম (ل) এবং نون বিলুপ্ত হয়ে দাঁড়ায় «مُسْلِمُويَ»। অতঃপর 'سَيِّدٌ'-এর কায়েদা অনুযায়ী واو ও ياء একত্রিত হওয়ায় এবং প্রথমটি সাকিন থাকায় واو-কে ياء দ্বারা পরিবর্তন করে ياء-কে ياء-এর সাথে ইদগাম করা হয় এবং মীমের পেশকে যের দ্বারা পরিবর্তন করে «مُسْلِمِيَّ» গঠিত হয়। যেহেতু হালতে রাফ‘ঈতে এর মূল ‘واو’ বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তাই এর ই‘রাব واو تقديري দ্বারা হয়েছে।
তৃতীয় বিষয়: «وَاللَّفْظِيُّ فِيمَا عَدَاهُ»-এর ব্যাখ্যা
মুসান্নিফ কিতাবের এই অংশে একটি সার্বজনীন মূলনীতি বা ضابطة বয়ান করেছেন:
যে যে ক্ষেত্রে হরকতের ই‘রাব অসম্ভব (যেমন: عَصَا ও غُلَامِي) বা ভারী (যেমন: قَاضٍ), অথবা যেখানে হরফের ই‘রাব ভারী হয়ে বিলুপ্ত হয়ে যায় (যেমন: مُسْلِمِيَّ)—কেবল এই ৪টি সুরতেই ই‘রাব تَقْدِيرِي (উহ্য) হবে। আর এ ৪টি সুরত ছাড়া ইতিপূর্বে আলোচিত বাকি সমস্ত সুরতে ই‘রাব لَفْظِي (প্রকাশ্য) হবে।
যমীরের মারজি‘ (مرجع):
আল্লামা তাশকান্দী (رحمه الله)-এর তাহকীক অনুযায়ী «فِيمَا عَدَاهُ» বাক্যাংশের ‘هُ’ যমীরটি পূর্ববর্তী «فِيمَا تَعَذَّرَ» বাক্যের «مَا» শব্দের দিকে ফিরেছে। অর্থাৎ "যেখানে تعذر বা استثقال রয়েছে তা ব্যতীত অন্য সমস্ত ক্ষেত্রে..."।