دروس الكافية

দরসে কাফিয়া - কাফিয়া কিতাবের পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ডিজিটাল দরসগাহ

আপনি সর্বশেষ পড়েছিলেন:

দরস (১৬) : গায়রে মুনসারিফের তা'রীফ, ৯টি কারণ, তারকীব ও ‘তাক্বরীব’-এর তাৎপর্য | দরসে কাফিয়া

موضوع (মূল বিষয়) গায়রে মুনসারিফ (غير المنصرف)-এর তা'রীফ, মান‘-এ সারফের ৯টি কারণ, তারকীবগত জটিলতা এবং «وَهٰذَا الْقَوْلُ تَقْرِيبٌ»-এর তাৎপর্য
المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
«غَيْرُ الْمُنْصَرِفِ مَا فِيهِ عِلَّتَانِ مِنْ تِسْعٍ، أَوْ وَاحِدَةٌ مِنْهَا تَقُومُ مَقَامَهُمَا، وَهِيَ:
عَدْلٌ وَوَصْفٌ وَتَأْنِيثٌ وَمَعْرِفَةٌ ... وَعُجْمَةٌ ثُمَّ جَمْعٌ ثُمَّ تَرْكِيبُ
وَالنُّونُ زَائِدَةً مِنْ قَبْلِهَا أَلِفٌ ... وَوَزْنُ الْفِعْلِ وَهٰذَا الْقَوْلُ تَقْرِيبُ
مِثْلُ: عُمَرَ، وَأَحْمَرَ، وَطَلْحَةَ، وَزَيْنَبَ، وَإِبْرَاهِيمَ، وَمَسَاجِدَ، وَمَعْدِيكَرِبَ، وَعِمْرَانَ، وَأَحْمَدَ.»

শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।

ইবারতের সরল অনুবাদ:

"গায়রে মুনসারিফ হলো এমন (ইসম মু‘রাব), যার মধ্যে মান‘-এ সারফ (منع صرف)-এর ৯টি কারণের মধ্য থেকে দুটি কারণ পাওয়া যায়, অথবা এমন একটি কারণ পাওয়া যায় যা দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত (قائم مقام)। আর সে কারণগুলো হলো: ১. ‘আদল (عَدْلٌ), ২. ওয়াসফ (وَصْفٌ), ৩. তা’নীস (تَأْنِيثٌ), ৪. মা‘রিফাহ (مَعْرِفَةٌ), ৫. ‘উজমাহ (عُجْمَةٌ), ৬. জমা (جَمْعٌ), ৭. তারকীব (تَرْكِيبٌ), ৮. আলিফের পর অতিরিক্ত নূন (النُّونُ زَائِدَةً مِنْ قَبْلِهَا أَلِفٌ), এবং ৯. ওযনে ফে‘ল (وَزْنُ الْفِعْلِ)। আর এই গণনা বা উক্তিটি সত্যের অধিক নিকটবর্তী (تقريب)। যেমন: উমার (عُمَرُ), আহমার (أَحْمَرُ), তালহা (طَلْحَةُ), যায়নাব (زَيْنَبُ), ইবরাহীম (إِبْرَاهِيمُ), মাসাজিদ (مَسَاجِدُ), মা‘দীকারিব (مَعْدِيكَرِبَ), ‘ইমরান (عِمْرَانُ) এবং আহমাদ (أَحْمَدُ)।"

[toc]

দরসের ভূমিকা ও রূপরেখা (تمہید و تشریح)

ভূমিকা:

মুসান্নিফ (المصنف) যখন ইসম মুতামাক্কিনের ই‘রাবের আলোচনা সমাপ্ত করলেন, তখন তিনি গায়রে মুনসারিফের বিশদ অধ্যায় শুরু করলেন। তিনি আলাদাভাবে ‘মুনসারিফ’-এর আলোচনা আনেননি; কারণ মুনসারিফ আরবি ভাষায় বহুল ব্যবহৃত ও সবার নিকট পরিচিত। তাছাড়া একটি আরবি মূলনীতি রয়েছে: «وَبِضِدِّهَا تَتَبَيَّنُ الْأَشْيَاءُ» (বিপরীত বস্তুর আলোচনার দ্বারাই অপর বস্তুটি পরিষ্কার হয়ে যায়)। তাই গায়রে মুনসারিফের আলোচনা সম্পন্ন হলে মুনসারিফ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই স্পষ্ট হয়ে যায়।

আজকের দরসে মূলত চারটি বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:

  1. গায়রে মুনসারিফের লুগাভী ও ইস্তিলাহী তা'রীফ (تعريف) এবং এর নামকরণের কারণ (وجہِ تسمیہ)।
  2. ইবারত ও কবিতার ছন্দগত সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা।
  3. «وَالنُّونُ زَائِدَةً مِنْ قَبْلِهَا أَلِفٌ»-এর বিভিন্ন তারকীবগত (ترکیب) সুরত।
  4. «وَهٰذَا الْقَوْلُ تَقْرِيبٌ»-এর ৩টি গভীর ব্যাখ্যা (توجيهات)।

প্রথম বিষয়: গায়রে মুনসারিফের তা'রীফ ও নামকরণের কারণ

১. লুগাভী (আভিধানিক) অর্থ:

«هُوَ اسْمٌ غَيْرُ قَابِلٍ لِلزِّيَادَةِ، أَيِ: الْكَسْرَةِ وَالتَّنْوِينِ»

(অর্থ: গায়রে মুনসারিফ হলো এমন ইসম, যা বৃদ্ধি অর্থাৎ কাসরাহ [যের] এবং তানভীন গ্রহণ করতে সক্ষম নয়।)

২. ইস্তিলাহী (পারিভাষিক) তা'রীফ:

«هُوَ مَا فِيهِ عِلَّتَانِ مِنْ تِسْعٍ، أَوْ وَاحِدَةٌ مِنْهَا تَقُومُ مَقَامَهُمَا»

(অর্থ: গায়রে মুনসারিফ হলো এমন ইসম মু‘রাব, যার মধ্যে মান‘-এ সারফের ৯টি কারণের দুটি কারণ, অথবা দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত একটি শক্তিশালী কারণ পাওয়া যায়।)

তা'রীফের ক্বাইদসমূহের সূক্ষ্ম পর্যালোচনা:

তা'রীফে ব্যবহৃত «مَا» দ্বারা মূলত «الِاسْمُ الْمُعْرَبُ» উদ্দেশ্য।

  • প্রশ্ন ১: «ضَرَبَتْ» (সে একজন নারী প্রহার করেছে)-এর মধ্যে তো তা’নীস (تأنيث) এবং ওযনে ফে‘ল (وزن الفعل)—উভয় কারণ বিদ্যমান; তবুও এটি গায়রে মুনসারিফ নয় কেন?
    উত্তর: কারণ «ضَرَبَتْ» হলো একটি فعل (ক্রিয়া) এবং এটি مبني। পক্ষান্তরে গায়রে মুনসারিফের সংজ্ঞায় «مَا» দ্বারা কেবল اسم معرب উদ্দেশ্য।
  • প্রশ্ন ২: «حَضَارِ», «قَطَامِ», এবং «نَزَالِ»-এর মধ্যে ‘আদল (عدل) ও তা’নীস (تأنيث) থাকা সত্ত্বেও এগুলো গায়রে মুনসারিফ নয় কেন?
    উত্তর: কারণ এগুলো مبني (মাবনী), আর আমাদের আলোচ্য বিষয় কেবল معرب
  • প্রশ্ন ৩: «نُوحٌ» (নূহ আ.)-এর মধ্যে মা‘রিফাহ (معرفة) এবং অনারবীয় নাম বা ‘উজমাহ (عجمة) থাকা সত্ত্বেও এটি মুনসারিফ কেন?
    উত্তর: কারণ عجمة কার্যকর হওয়ার শর্ত হলো নামটি ৩ অক্ষরের অধিক হতে হবে (যেমন: إِبْرَاهِيمُ) অথবা ৩ অক্ষর হলে মধ্যবর্তী বর্ণ হরকতযুক্ত হতে হবে (যেমন: شَتَرُ)। কিন্তু «نُوْحٌ» তিন অক্ষরবিশিষ্ট এবং এর মধ্যবর্তী বর্ণ সাকিন (ساكن الأوسط); তাই এর عجمة অকার্যকর থাকায় এটি মুনসারিফ হয়েছে।

৩. নামকরণের যৌক্তিক কারণ (وجہِ تسمیہ):

صَرْفٌ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ‘ঘোরা বা বিভিন্ন অবস্থায় রূপান্তর হওয়া’ (پھرنا)। মুনসারিফ বিভিন্ন আমেলের প্রভাবে সম্পূর্ণ আবর্তিত হয় (অর্থাৎ পেশ, যবর, যের এবং তানভীন সবই গ্রহণ করে)।

পক্ষান্তরে غَيْرُ مُنْصَرِف আমেলের প্রভাবে পূর্ণরূপে আবর্তিত হতে পারে না (এতে যের ও তানভীন প্রবেশ করতে পারে না)। এই অসম্পূর্ণ রূপান্তরের কারণেই একে ‘গায়রে মুনসারিফ’ নামকরণ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় বিষয়: ইবারত ও কবিতার ব্যাখ্যা

মান‘-এ সারফের ৯টি কারণকে শাইখ আবু সাঈদ আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-আম্বারী (رحمه الله) সুন্দর কবিতার মাধ্যমে একত্রিত করেছিলেন। কাফিয়ার মুসান্নিফ সেই পঙ্ক্তিটি পরিমার্জন করে তুলে ধরেছেন:

মান‘-এ সারফ (مانع صرف)-এর ৯টি কারণ:
১. عَدْلٌ
২. وَصْفٌ
৩. تَأْنِيثٌ
৪. مَعْرِفَةٌ
৫. عُجْمَةٌ
৬. جَمْعٌ
৭. تَرْكِيبٌ
৮. الف-نون
৯. وزن الفعل

কবিতায় ব্যবহৃত সংযোজক অব্যয়ের হিকমত:

  • «وَوَصْفٌ», «وَعُجْمَةٌ» ইত্যাদিতে واو এসেছে সাধারণ সংযোজনের (عطف مطلق) জন্য।
  • «ثُمَّ جَمْعٌ ثُمَّ تَرْكِيبُ»-এ ‘ثُمَّ’ কোনো ক্রম বা দেরির (تراخي) জন্য আসেনি, বরং কেবল কবিতার ছন্দ ও ওযন ঠিক রাখার জন্য এসেছে।

তৃতীয় বিষয়: «وَالنُّونُ زَائِدَةً مِنْ قَبْلِهَا أَلِفٌ»-এর তারকীব

১. «زَائِدَةً» শব্দ পড়ার নিয়ম:
  • مرفوع (زَائِدَةٌ): পেশ দিয়ে পড়লে এটি «النُّونُ»-এর জন্য صفت (সিফাত) হবে।
    আপত্তি ও জবাব: النُّونُ হলো معرفة আর زائدةٌ হলো نكرة। উভয়ের মাঝে সামঞ্জস্য কীভাবে হলো? উত্তর হলো—النُّونُ-এর الف لام-টি ‘যাইদাহ’ অথবা ‘আহদে যিহনী’, যা হুকুমগতভাবে نكرة; ফলে উভয়েই নাকিরাহ হিসেবে মিলে গেছে।
  • منصوب (زَائِدَةً): যবর দিয়ে পড়লে এটি উহ্য ফে‘ল «تَمْنَعُ»-এর ফায়িল (যা النون)-এর থেকে حال (হাল) হবে। (تقدير: تَمْنَعُ النُّونُ الصَّرْفَ حَالَ كَوْنِهَا زَائِدَةً)।
২. «مِنْ قَبْلِهَا أَلِفٌ»-এর তারকীব:

«مِنْ قَبْلِهَا» হলো خبر مقدم এবং «أَلِفٌ» হলো مبتدأ مؤخر। এই পূর্ণ جملة اسمية-টি «زَائِدَةً»-এর ভেতরের مستتر যমীর থেকে حال (হাল) হয়েছে।

৩. আলিফ ও নূন উভয়ের অতিরিক্ত হওয়া:

ইবারতে বাহ্যত কেবল ‘নূন’ অতিরিক্ত মনে হলেও মূলত আলিফ ও নূন উভয়টিই অতিরিক্ত (الف و نون زائدتان)।

ভাষাগত প্রমাণ: আরবদের প্রবাদ হলো—«جَاءَ زَيْدٌ رَاكِبًا مِنْ قَبْلِهِ أَخُوهُ» (যায়েদ এমন অবস্থায় এলো যে তার পূর্বে তার ভাইও আরোহী ছিল)। এখানে যেমন দুই ভাইয়ের উভয়েই আরোহী হওয়ার ক্ষেত্রে শরিক, তেমনি এখানে আলিফ ও নূন উভয়টিই শব্দে অতিরিক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সমান শরিক।

মুসান্নিফের ৯টি দৃষ্টান্তের সুবিন্যস্ত বিন্যাস:

মুসান্নিফ কবিতার ৯টি কারণের বিপরীতে হুবহু ৯টি উদাহরণ ধারাবাহিকভাবে পেশ করেছেন:

عُمَرُ ─→ عَدْل + معرفة (عَلَم)
أَحْمَرُ ─→ وَصْف + وزن الفعل
طَلْحَةُ ─→ تَأْنِيث (لفظي) + معرفة
زَيْنَبُ ─→ تَأْنِيث (معنوي) + معرفة
إِبْرَاهِيمُ ─→ عُجْمَة + معرفة
مَسَاجِدُ ─→ جَمْع (صيغة منتهى الجموع)
مَعْدِيكَرِبَ ─→ تَرْكِيب (مزجي) + معرفة
عِمْرَانُ ─→ أَلِف وَنُون زَائِدَتَان + معرفة
أَحْمَدُ ─→ وَزْنُ الْفِعْل + معرفة

第四 বিষয়: «وَهٰذَا الْقَوْلُ تَقْرِيبٌ»-এর ৩টি গভীর ব্যাখ্যা (توجيهات)

আল্লামা জামী (رحمه الله) কাফিয়ার এই বাক্যের ৩টি অনন্য ব্যাখ্যা পেশ করেছেন:

১ম ব্যাখ্যা (মুখস্থ করার নৈকট্য অর্থে):

«تَقْرِيبٌ» এসেছে اسم فاعل অর্থাৎ «مُقَرِّبٌ إِلَى الْحِفْظِ»-এর অর্থে। কবিতার ছন্দে এই ৯টি কারণকে বিন্যস্ত করায় শিক্ষার্থীদের জন্য এগুলো সহজে মুখস্থ ও আয়ত্ত করা সম্ভবপর হয়েছে।

২য় ব্যাখ্যা (রূপক বা বাস্তবের কাছাকাছি অর্থে):

প্রকৃতপক্ষে মান‘-এ সারফের কারণ ৯টি নয়, বরং মূল কারণ হলো ৩টি (বাকি ৬টি হলো রূপক)। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সহজে বোঝানোর সুবিধার্থে রূপকভাবে ৯টি বলা হয়েছে; তাই এটি একটি تقريب (বাস্তবের কাছাকাছি উপস্থাপন)।

৩য় ব্যাখ্যা (বিশুদ্ধতম মতের নৈকট্য অর্থে):

«تَقْرِيبٌ» এসেছে اسم مفعول অর্থাৎ «مُقَرَّبٌ إِلَى الصَّوَابِ»-এর অর্থে। মান‘-এ সারফের কারণের সংখ্যা নিয়ে নাহববিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে—কারো মতে ৯টি, কারো মতে ১১টি, আবার কারো মতে ৭টি। মুসান্নিফ এই ৯টি কারণের মতকে সত্য ও সঠিকতার সর্বাধিক নিকটবর্তী (أقرب إلى الصواب) বলে সাব্যস্ত করেছেন।

📌 خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ)

আলোচ্য বিষয় প্রধান বক্তব্য ও ব্যাকরণিক তত্ত্ব
১. গায়রে মুনসারিফের তা'রীফ এমন ইসম মু‘রাব যাতে মান‘-এ সারফের ৯টি কারণের দুটি কারণ, অথবা দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত একটি কারণ পাওয়া যায়।
২. মান‘-এ সারফের ৯টি কারণ ১. عَدْلٌ ২. وَصْفٌ ৩. تَأْنِيثٌ ৪. مَعْرِفَةٌ ৫. عُجْمَةٌ ৬. جَمْعٌ ৭. تَرْكِيبٌ ৮. الف و نون زائدتان ৯. وَزْنُ الْفِعْلِ
৩. গায়রে মুনসারিফের হুকুম এতে কখনো کسرة (যের) এবং تنوین (তানভীন) প্রবেশ করতে পারে না (হালতে নাসবী ও জাররীতে فتحة হয়)।
৪. «وَالنُّونُ زَائِدَةً»-এর হাকীকত এখানে ‘নূন’ ও ‘আলিফ’ উভয়টিই অতিরিক্ত। তারকীবের দিক থেকে «زَائِدَةً» শব্দটি حال হিসেবে منصوب
৫. «وَهٰذَا الْقَوْلُ تَقْرِيبٌ»-এর অর্থ • শিক্ষার্থীদের সহজে মুখস্থ করার সহায়ক (مقرب إلى الحفظ)।
• মূল বাস্তবতার কাছাকাছি উপস্থাপন।
• মতভেদের মাঝে সত্যের সর্বাধিক নিকটবর্তী মত (مقرب إلى الصواب)।
পরের দরস আগের দরস