دروس الكافية

দরসে কাফিয়া - কাফিয়া কিতাবের পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ডিজিটাল দরসগাহ

আপনি সর্বশেষ পড়েছিলেন:

দরস (১১) : মুফরাদ মুনসারিফ ও জমা মুকাসসার মুনসারিফের ই‘রাব ও তারকীব | দরসে কাফিয়া

موضوع (মূল বিষয়) ইসম মু‘রাবের ই‘রাবের প্রথম প্রকার (المفرد المنصرفالجمع المكسر المنصرف-এর ই‘রাব)
المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
«فَالْمُفْرَدُ الْمُنْصَرِفُ، وَالْجَمْعُ الْمُكَسَّرُ الْمُنْصَرِفُ: بِالضَّمَّةِ رَفْعًا، وَالْفَتْحَةِ نَصْبًا، وَالْكَسْرَةِ جَرًّا.»

শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।

ইবারতের সরল অনুবাদ:

"অতঃপর মুফরাদ মুনসারিফ এবং জমা মুকাসসার মুনসারিফের ই‘রাব হলো: রাফ‘র হালতে যম্মাহ (ضمة/পেশ) দ্বারা, নাসবের হালতে ফাতহাহ (فتحة/যবর) দ্বারা এবং জারের হালতে কাসরাহ (کسرة/যের) দ্বারা।"

[toc]

দরসের রূপরেখা (تشریح)

আজকের দরসে মূলত চারটি বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:

  1. মুফরাদ মুনসারিফ এবং জমা মুকাসসার মুনসারিফ-এর তা'রীফ (تعريف)।
  2. এই দুই প্রকার ইসমের ই‘রাব ও তার দৃষ্টান্ত।
  3. এই দুই প্রকারকে উক্ত মৌলিক ই‘রাব প্রদানের যৌক্তিক কারণ।
  4. ইবারতের «رَفْعًا، نَصْبًا، جَرًّا» শব্দত্রয়ের তারকীবগত (اعرابی) বিশ্লেষণ।

প্রথম বিষয়: মুফরাদ মুনসারিফ ও জমা মুকাসসার-এর তা'রীফ

১. المفرد المنصرف (মুফরাদ মুনসারিফ)-এর তা'রীফ:

«اَلْمُفْرَدُ الْمُنْصَرِفُ: هُوَ الِاسْمُ الَّذِي لَا يَكُونُ مُثَنًّى وَلَا مَجْمُوعًا وَلَا غَيْرَ مُنْصَرِفٍ»

(অর্থ: মুফরাদ মুনসারিফ হলো এমন ইসম, যা তাসনিয়াও [দ্বিবচন] নয়, জমাও [বহুবচন] নয় এবং গায়রে মুনসারিফও নয়।)

উদাহরণ: «زَيْدٌ» (যায়েদ), «رَجُلٌ» (একজন ব্যক্তি)।

মুসান্নিফ (المصنف)-এর সংজ্ঞার বিশেষত্ব:
সাধারণ নাহববিদগণ এ ক্ষেত্রে «المفرد المنصرف الصحيح» বলে ‘সহীহ’ (صحيح)-এর শর্ত যুক্ত করেন। কিন্তু মুসান্নিফ এখানে ‘সহীহ’ শর্তটি উল্লেখ করেননি; যাতে করে মুফরাদ মুনসারিফ জারি মাজরা সহীহ (مفرد منصرف جاری مجریٰ صحیح—যেমন: «دَلْوٌ» ও «ظَبْيٌ»)-ও সরাসরি এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

২. الجمع المكسر المنصرف (জমা মুকাসসার মুনসারিফ)-এর তা'রীফ:

«اَلْجَمْعُ الْمُكَسَّرُ الْمُنْصَرِفُ: هُوَ الْجَمْعُ الَّذِي لَمْ يَسْلَمْ فِيهِ بِنَاءُ الْوَاحِدِ وَلَا يَكُونُ غَيْرَ مُنْصَرِفٍ»

(অর্থ: জমা মুকাসসার মুনসারিফ হলো এমন বহুবচন, যাতে তার একবচনের মূল গঠন ঠিক বা অক্ষুণ্ণ থাকে না এবং শব্দটি গায়রে মুনসারিফও হয় না।)

উদাহরণ: «رِجَالٌ» (পুরুষগণ—যার একবচন رجل), এবং «طَلَبَةٌ» (ছাত্রবৃন্দ—যার একবচন طالب)।

দ্বিতীয় বিষয়: এই দুই প্রকার ইসমের ই‘রাবের বিবরণ

মুসান্নিফ বয়ান করেছেন যে, এই দুই প্রকার ইসমের ই‘রাব হলো إعراب بالحركة لفظي (সরাসরি প্রকাশ্য হরকত দ্বারা ই‘রাব):

حالت رفعي (হালতে রাফ‘ঈ):
ضمة (পেশ) দ্বারা হবে।
حالت نصبي (হালতে নাসবী):
فتحة (যবর) দ্বারা হবে।
حالت جري (হালতে জাররী):
كسرة (যের) দ্বারা হবে।

উদাহরণসমূহ:

  • حالت رفعي-এর উদাহরণ: «جَاءَنِي زَيْدٌ وَرِجَالٌ وَهٰذَا دَلْوٌ»।
  • حالت نصبي-এর উদাহরণ: «رَأَيْتُ زَيْدًا وَرِجَالًا وَدَلْوًا»।
  • حالت جري-এর উদাহরণ: «مَرَرْتُ بِزَيْدٍ وَرِجَالٍ وَدَلْوٍ»।

তৃতীয় বিষয়: এই দুই প্রকারকে উক্ত মৌলিক ই‘রাব প্রদানের কারণ

ইসম মুতামাক্কিন (اسم متمكن)-এর মোট ১৬টি প্রকার রয়েছে। তন্মধ্যে এই দুটি প্রকারকে সর্বপ্রথম উল্লেখ করে কেন এই পূর্ণাঙ্গ ও মৌলিক ই‘রাব (ضمة, فتحة, كسرة) দেওয়া হলো?

যৌক্তিক কারণ:

ই‘রাবের যাবতীয় রূপের মধ্যে সবচেয়ে মূল ও শক্তিশালী রূপ হলো إعراب بالحركة لفظي غير نيابي (কোনো বিকল্প বা প্রতিনিধিত্ব ছাড়া মূল হরকতের প্রকাশ্য ই‘রাব)।

অনুরূপভাবে, ইসম মুতামাক্কিনের প্রকারসমূহের মধ্যে এই দুটি প্রকার হলো সবদিক থেকে ‘আসল’ (الأصل বা মৌলিক):

  • تثنية (দ্বিবচন) ও جمع (বহুবচন)-এর তুলনায় مفرد (একবচন) হলো আসল।
  • غير منصرف-এর তুলনায় منصرف হলো আসল।
  • معتل (দুর্বল)-এর তুলনায় صحيح হলো আসল।
  • جمع مكسر غير منصرف-এর তুলনায় جمع مكسر منصرف হলো আসল।

সিদ্ধান্ত: যেহেতু শব্দগত দিক থেকে এই দুটি প্রকারই ‘আসল’, তাই নাহববিদগণ এদেরকে ই‘রাবের ক্ষেত্রেও ‘আসল’ বা মূল ই‘রাবটিই প্রদান করেছেন।

চতুর্থ বিষয়: «رَفْعًا، نَصْبًا، جَرًّا» শব্দত্রয়ের اعرابی (তারকীবগত) বিশ্লেষণ

ইবারতের মধ্যে «رَفْعًا، نَصْبًا، جَرًّا» শব্দ তিনটি যবরযুক্ত বা মানসূব (منصوب) হওয়ার পেছনে ৩টি ব্যাকরণিক কারণ রয়েছে:

«رَفْعًا، نَصْبًا، جَرًّا» মানসূব হওয়ার ৩টি সম্ভাবনা:
১. مفعول فيه হয়ে ─→ حذف مضاف-এর কারণে
২. مفعول مطلق হয়ে ─→ حذف موصوف-এর কারণে
৩. حال হয়ে ─→ اسم مفعول-এর অর্থে
১ম সম্ভাবনা (مفعول فيه হওয়া):

এখানে একটি مضاف محذوف (উহ্য মুযাফ) রয়েছে।
মূল تقدير عبارت: «حَالَةَ الرَّفْعِ، وَحَالَةَ النَّصْبِ، وَحَالَةَ الْجَرِّ»। মুযাফ «حالة» বিলুপ্ত করে মুযাফ ইলাইহিকে তার স্থলাভিষিক্ত করে مفعول فيه হিসেবে نَصْب দেওয়া হয়েছে।

২য় সম্ভাবনা (مفعول مطلق হওয়া):

এখানে একটি موصوف محذوف (উহ্য মাওসূফ) রয়েছে।
মূল تقدير عبارت: «تُعْرَبُ هَذِهِ الْأَقْسَامُ إِعْرَابًا رَفْعًا، وَنَصْبًا، وَجَرًّا»। মাওসূফ «إعراباً» বাদ দিয়ে সিফাতকে مفعول مطلق হিসেবে نَصْب দেওয়া হয়েছে।

৩য় সম্ভাবনা (حال হওয়া):

আরবি ভাষার কায়েদা হলো—مصدر কখনো কখনো اسم مفعول-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়। এখানে «رَفْعًا» অর্থ «مَرْفُوعًا», «نَصْبًا» অর্থ «مَنْصُوبًا», এবং «جَرًّا» অর্থ «مَجْرُورًا»।
মূল تقدير عبارت: «يُعْرَبَانِ بِالضَّمَّةِ حَالَ كَوْنِهِمَا مَرْفُوعَيْنِ، وَبِالْفَتْحَةِ مَنْصُوبَيْنِ، وَبِالْكَسْرَةِ مَجْرُورَيْنِ»। ফলে এগুলো حال হিসেবে منصوب হয়েছে।

📌 خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ)

আলোচ্য বিষয় প্রধান সারসংক্ষেপ ও বিশ্লেষণ
১. المفرد المنصرف এমন একবচন যা গায়রে মুনসারিফ নয় (যেমন: «زَيْدٌ» ও جاری مجریٰ صحیح «دَلْوٌ»)।
২. الجمع المكسر المنصرف এমন বহুবচন যাতে একবচনের রূপ অক্ষুণ্ণ থাকে না এবং গায়রে মুনসারিফও হয় না (যেমন: «رِجَالٌ»)।
৩. ই‘রাবের রূপ حالت رفعي: ضمة (পেশ) لفظاً
حالت نصبي: فتحة (যবর) لفظاً
حالت جري: کسرة (যের) لفظاً
৪. এই ই‘রাব দেওয়ার কারণ শব্দদ্বয় সবদিক থেকে ‘আসল’ (الأصل); তাই এদেরকে ই‘রাবের ক্ষেত্রেও মূল ও আসল ই‘রাব (ই‘রাব বিল হারাকাত) দেওয়া হয়েছে।
৫. «رَفْعًا، نَصْبًا، جَرًّا»-এর اعراب ৩টি কারণে মানসূব হতে পারে: مفعول فيه হয়ে, مفعول مطلق হয়ে, অথবা حال হয়ে।
পরের দরস আগের দরস