المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।
"ই‘রাব হলো এমন বিষয়, যার মাধ্যমে ইসম মু‘রাবের শেষাংশ পরিবর্তিত হয়; যাতে তা ইসমের ওপর একের পর এক আপতিত অর্থসমূহের ওপর নির্দেশ করতে পারে। আর এর প্রকারসমূহ হলো: রাফ‘ (رفع), নাসব (نصب) এবং জার (جرّ)। অতঃপর রাফ‘ হলো ফায়িলিয়্যাত (কর্তৃপদ)-এর আলামত, নাসব হলো মাফ‘উলিয়্যাত (কর্মপদ)-এর আলামত, এবং জার হলো ইযাফতের আলামত। আর আমেল (عامل) হলো এমন বিষয়, যার মাধ্যমে ই‘রাব তলবকারী অর্থটি বাস্তবায়িত হয়।"
দরসের রূপরেখা (تشریح)
আজকের দরসে মূলত চারটি বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:
- ই‘রাবের তা'রীফ (تعريف)।
- ই‘রাবের হিকমত ও উদ্দেশ্য (حکمت اور وجہ)।
- ই‘রাবের প্রকারভেদ (اقسامِ اعراب)।
- আমেল (العامل)-এর তা'রীফ ও স্বরূপ।
প্রথম বিষয়: ই‘রাবের তা'রীফ
মুসান্নিফ (المصنف) যখন ইসম মু‘রাবের তা'রীফ থেকে ফারেগ হলেন, তখন তিনি মু‘রাবের শেষাংশে কার্যকর হওয়া الإعراب (ই‘রাব)-এর তা'রীফ বর্ণনা করলেন:
(অর্থ: ই‘রাব হলো এমন হরকত বা হরফ, যার দ্বারা ইসম মু‘রাবের শেষাক্ষর বিভিন্ন আমেলের কারণে পরিবর্তিত হয়।)
উদাহরণসহ বিশ্লেষণ:
إعراب بالحركة (হরকত দ্বারা ই‘রাব):
«جَاءَنِي زَيْدٌ، وَرَأَيْتُ زَيْدًا، وَمَرَرْتُ بِزَيْدٍ»।
এখানে «جَاءَ» হলো আমেল, ‘দাল’ (د) হলো محل الإعراب (ই‘রাবের স্থান), এবং ‘দাল’-এর ওপর আপতিত পেশ (ضمة) হলো ই‘রাব।
إعراب بالحرف (হরফ দ্বারা ই‘রাব):
«جَاءَنِي أَبُوكَ، وَرَأَيْتُ أَبَاكَ، وَمَرَرْتُ بِأَبِيكَ»।
এখানে واو, الف এবং ياء হলো যথাক্রমে ই‘রাব।
দ্বিতীয় বিষয়: ই‘রাবের হিকমত ও উদ্দেশ্য
আমেলের কারণে ইসম মু‘রাবের শেষাক্ষর কেন পরিবর্তিত হয়? এর রহস্য ও উদ্দেশ্য কী?
মুসান্নিফ কিতাবে উল্লেখ করেছেন:
(অর্থ: যাতে তা ইসমের ওপর একের পর এক আপতিত অর্থসমূহ—যেমন: فاعلية, مفعولية এবং اضافة-এর ওপর নির্দেশ করতে পারে।)
«الْمُعْتَوِرَةِ» শব্দ সংক্রান্ত একটি ব্যাকরণিক ফায়দা:
শব্দরূপ: এটি باب افتعال থেকে اسم فاعل-এর সীগাহ্, যার মূল ধাতু হলো ‘عَوْرٌ’। এটি একটি فعل متعدي।
আপত্তি: আরবিতে فعل متعدي সাধারণত ‘عَلَى’ হরফে জার দ্বারা ব্যবহৃত হয় না। তাহলে কিতাবের ইবারতে «المعتورة»-এর পর «عَلَيْهِ» কেন আসলো?
সমাধান (صنعتِ تضمين): এখানে বালাগাতের تضمين (অর্থের অন্তর্ভুক্তি)-এর নিয়ম অনুযায়ী «المعتورة» শব্দটি «الْوَارِدَةِ» (আপতিত হওয়া বা আসা)-এর অর্থ শামিল করেছে। যেহেতু «الواردة»-এর সাথে ‘عَلَى’ ব্যবহৃত হয়, তাই এখানেও «عَلَيْهِ» আনা সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ।
তৃতীয় বিষয়: ই‘রাবের প্রকারভেদ (أَنْوَاعُ الْإِعْرَابِ)
মুসান্নিফ বলেছেন: «وَأَنْوَاعُهُ: رَفْعٌ وَنَصْبٌ وَجَرٌّ»।
(নোট: সামগ্রিকভাবে আরবি ভাষায় ই‘রাব চার প্রকার যথা: رفع، نصب، جر، جزم। কিন্তু এখানে যেহেতু কেবল ইসমের ই‘রাব আলোচনা করা হচ্ছে, তাই মুসান্নিফ কেবল ৩টি উল্লেখ করেছেন। কারণ جزم কেবল ফে‘লের সাথে খাস।)
«أَقْسَامُهُ» না বলে «أَنْوَاعُهُ» বলার হিকমত:
মুসান্নিফ «أقسامه» (এর ভাগসমূহ) না বলে «أنواعه» (এর প্রজাতিসমূহ) শব্দ ব্যবহার করেছেন। কারণ منطق-এর পরিভাষায় نوع (প্রজাতি)-এর অধীনে বহু ব্যক্তি বা একক (افراد) থাকে। এখানেও ই‘রাবের এই ৩টি প্রকারের প্রতিটির অধীনে একাধিক রূপ বা ব্যক্তি বিদ্যমান:
এর অধীনে ৩টি রূপ:
- ضمة (পেশ)
- واو (ওয়াও)
- الف (আলিফ)
এর অধীনে ৪টি রূপ:
- فتحة (যবর)
- الف (আলিফ)
- ياء (ইয়া)
- كسرة (যের - জমা মুয়ান্নাসে)
এর অধীনে ৩টি রূপ:
- كسرة (যের)
- ياء (ইয়া)
- فتحة (যবর - গায়রে মুনসারিফে)
ইসমের ই‘রাব কেন ৩টিতে সীমাবদ্ধ?
মুসান্নিফ দলিল হিসেবে পেশ করেছেন:
(অর্থ: অতঃপর রাফ‘ হলো ফায়িলিয়্যাতের আলামত, নাসব হলো মাফ‘উলিয়্যাতের আলামত এবং জার হলো ইযাফতের আলামত।)
ব্যাখ্যা: বাক্যে ইসমের মূল ব্যবহারিক ক্ষেত্র মাত্র ৩টি: مرفوعات, منصوبات, এবং مجرورات। এর বাইরে ইসমের আর কোনো অবস্থা হতে পারে না। তাই:
- رَفْعٌ: ফায়িলিয়্যাত বা مرفوعات-এর আলামত।
- نَصْبٌ: মাফ‘উলিয়্যাত বা منصوبات-এর আলামত।
- جَرٌّ: ইযাফত বা مجرورات-এর আলামত।
مصدر-এর প্রকারভেদ ও শব্দের গঠনগত ফায়দা:
প্রশ্ন: মুসান্নিফ ফায়িলিয়্যাত ও মাফ‘উলিয়্যাত শব্দে শেষে ‘ياء مشددة’ ও ‘تاء’ এনে «فاعلية» ও «مفعولية» বললেন, কিন্তু ইযাফত শব্দে তা না এনে সরাসরি «إضافة» কেন বললেন?
উত্তর: কারণ «فاعلية» ও «مفعولية» মূল مصدر নয়; তাই মাসদারী অর্থ তৈরির জন্য এগুলোর শেষে ياء ও تاء যোগ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে «الإضافة» শব্দটি নিজেই একটি মূল مصدر أصلي (باب إفعال থেকে); তাই এতে নতুন করে ياء ও تاء যোগ করার প্রয়োজন হয়নি।
مصدر মূলত ৩ প্রকার:
- مصدر أصلي (মৌলিক মাসদার): যাতে কোনো অতিরিক্ত বর্ণ থাকে না। যেমন: «فَهْمٌ», «عِلْمٌ»।
- مصدر ميمي (মীমযুক্ত মাসদার): যার শুরুতে একটি অতিরিক্ত م থাকে। যেমন: «مَطْلَبٌ», «مَجْلِسٌ»।
- مصدر صناعي (কৃত্রিম মাসদার): কোনো শব্দের শেষে ياء مشددة ও تاء যোগ করে যে মাসদার তৈরি করা হয়। যেমন: «فَاعِلِيَّةٌ», «مَفْعُولِيَّةٌ», «إِنْسَانِيَّةٌ»।
চতুর্থ বিষয়: আমেল (العامل)-এর তা'রীফ
মুসান্নিফ ই‘রাব বর্ণনার পর আমেলের হাকীকত স্পষ্ট করতে আমেলের তা'রীফ পেশ করেছেন:
(অর্থ: আমেল হলো এমন বিষয় [لفظي বা معنوي], যার মাধ্যমে ই‘রাব তলবকারী সেই অর্থটি শব্দে প্রতিষ্ঠিত ও বাস্তবায়িত হয়।)
উদাহরণসহ তা'রীফের প্রয়োগ:
উদাহরণ ১: «جَاءَ زَيْدٌ»।
এখানে «زَيْدٌ» শব্দটির শেষে পেশ (رفع) দাবি করছে তার ভেতরের ‘فَاعِلِيَّة’ (কর্তা হওয়ার ভাব)। আর যায়েদের মধ্যে এই فاعلية প্রতিষ্ঠিত করেছে «جَاءَ» ফে‘লটি। সুতরাং «جَاءَ» হলো عامل।
উদাহরণ ২: «رَأَيْتُ زَيْدًا»।
এখানে «زَيْدًا»-এর শেষে যবর (نصب) দাবি করছে তার ভেতরের ‘مَفْعُولِيَّة’ (কর্ম হওয়ার ভাব)। আর এই مفعولية প্রতিষ্ঠিত করেছে «رَأَيْتُ» ফে‘লটি। তাই «رَأَيْتُ» হলো عامل।
উদাহরণ ৩: «مَرَرْتُ بِزَيْدٍ»।
এখানে ‘জার’ দাবি করছে হরফে জার «بِ», যা যায়েদকে মাজরূর বানিয়েছে। সুতরাং «بِ» হলো عامل।