المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।
"কালাম হলো এমন লাফয, যা ইসনাদসহ দুটি কালিমাহকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এটি দুটি ইসম অথবা একটি ইসম ও একটি ফে‘ল ছাড়া বাস্তবায়িত হয় না।"
দরসের রূপরেখা (تشریح)
আজকের দরসে মূলত তিনটি বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:
- কালাম-এর লুগাভী (لغوی) ও ইস্তিলাহী (اصطلاحی) তা'রীফ।
- উল্লেখিত তা'রীফে ব্যবহৃত শর্তাবলির ফায়দা ও উপযোগিতা (فوائدِ قیود)।
- কালাম গঠিত হওয়ার সুরতসমূহ (حصولِ کلام کی صورتیں)।
প্রথম বিষয়: কালাম-এর লুগাভী ও ইস্তিলাহী তা'রীফ
মুসান্নিফ (المصنف) যখন কালিমাহর তা'রীফ ও তার প্রকারভেদের আলোচনা সমাপ্ত করলেন, তখন তিনি الكلام (কালাম)-এর তা'রীফ আরম্ভ করলেন।
১. কালাম-এর লুগাভী (আভিধানিক) তা'রীফ:
(অর্থ: মানুষ মুখ দিয়ে যে কথাই উচ্চারণ করে—তা অল্প হোক বা অধিক হোক, তাই আভিধানিক কালাম।)
২. কালাম-এর ইস্তিলাহী (পারিভাষিক) তা'রীফ:
নাহব শাস্ত্রবিদদের পরিভাষায় কালাম-এর তা'রীফ হলো:
(অর্থ: কালাম হলো এমন একটি লাফয, যা কমপক্ষে দুটি কালিমাহকে [হাকীক্বীভাবে হোক বা হুকমীভাবে] নিসবতে ইসনাদীসহ নিজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে।)
সহজ ব্যাখ্যা: কালাম হতে হলে কমপক্ষে দুটি কালিমাহ থাকতে হবে এবং তাদের মাঝে نسبت اسنادی (ইসনাদী সম্পর্ক) থাকতে হবে; অর্থাৎ একটি কালিমাহ হবে مُسْنَدٌ (মুসনাদ) এবং অপর কালিমাহটি হবে مُسْنَدٌ إِلَيْهِ (মুসনাদ ইলাইহি)।
উদাহরণসমূহ:
হাকীক্বী উদাহরণ: «قَرَأَ بَكْرٌ» (বাকর পড়েছে)। এখানে «قَرَأَ» হলো ফে‘ল (মুসনাদ) এবং «بَكْرٌ» হলো ইসম (মুসনাদ ইলাইহি)। এখানে দুটি কালিমাহ-ই বাহ্যিকভাবে বিদ্যমান।
হুকমী উদাহরণ: «اِقْرَأْ» (তুমি পড়ো)। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি শব্দ মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি পূর্ণ কালাম। কারণ এর ভেতরে হুকমীভাবে «أَنْتَ» যমীরটি লুক্কায়িত (مستتر) রয়েছে, যা মুসনাদ ইলাইহি।
অনুরূপ উদাহরণ: কেউ যদি প্রশ্ন করে: «هَلْ زَيْدٌ عَالِمٌ؟» (যায়েদ কি আলেম?), আর উত্তরে অপর ব্যক্তি বলে: «نَعَمْ» (হ্যাঁ)—তবে এই «نَعَمْ» শব্দটিই একটি পূর্ণ কালাম হিসেবে গণ্য হবে। কারণ এখানে পুরো বাক্যটি উহ্য (محذوف) রয়েছে; যার মূল تقدير عبارت হলো: «نَعَمْ زَيْدٌ عَالِمٌ» (হ্যাঁ, যায়েদ আলেম)।
দ্বিতীয় বিষয়: কালাম-এর তা'রীফে উল্লেখিত শর্তাবলির উপযোগিতা (فوائدِ قیود)
মুসান্নিফের এই তা'রীফে «الْكَلَامُ» হলো مُعَرَّفٌ (যাকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে), আর «مَا تَضَمَّنَ كَلِمَتَيْنِ بِالْإِسْنَادِ» হলো তার تعريف (তা'রীফ)। منطق (যুক্তিবিদ্যা) অনুসারে এই তা'রীফের ক্বাইদসমূহের বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:
[تَضَمَّنَ كَلِمَتَيْنِ] ──→ فصل اول (মুহমালাত ও মুফরাদাত বাদ)
[بِالْإِسْنَادِ] ─────────→ فصل ثانی (মুরাক্কাবে নাক্বিস বাদ)
এখানে «مَا» অর্থ হলো ‘লাফয’। এর মাধ্যমে যাবতীয় مُهْمَلَات (অর্থহীন শব্দ), مُفْرَدَات (একক শব্দ), এবং مُرَكَّبَات (যৌগিক রূপ—তা তাম হোক বা নাক্বিস হোক, কালাম হোক বা গায়রে কালাম হোক) সবকিছু প্রাথমিকভাবে তা'রীফের আওতায় চলে আসে।
এর দ্বারা সমস্ত مُهْمَلَات (অর্থহীন শব্দ) এবং مُفْرَدَات (একক শব্দ—যেমন: زَيْدٌ) কালামের তা'রীফ থেকে বের হয়ে যায়; কারণ এগুলোতে দুটি কালিমাহর সমাবেশ থাকে না।
এর দ্বারা সমস্ত مُرَكَّبَاتِ غَيْرِ كَلَامِيَّة অর্থাৎ مُرَكَّبِ نَاقِص (অসম্পূর্ণ বাক্য—যেমন: মুরাক্কাবে ইযাফী «كِتَابُ زَيْدٍ» বা যায়েদের কিতাব, মুরাক্কাবে তাওসীফী «رَجُلٌ عَالِمٌ» ইত্যাদি) কালামের তা'রীফ থেকে বের হয়ে যায়।
الإسناد (ইসনাহদ)-এর তা'রীফ (হেদায়াতুন্নাহব কিতাবের আলোকে):
(অর্থ: ইসনাদ হলো দুটি কালিমার একটিকে অপরটির সাথে এমনভাবে সম্পর্কিত করা, যা শ্রোতাকে একটি পরিপূর্ণ ভাবার্থ প্রদান করে এবং যার ওপর বক্তার নীরব থাকা বিশুদ্ধ হয়; অর্থাৎ শ্রোতার মনে আর কোনো কিছু জানার প্রতীক্ষা থাকে না। যেমন: «زَيْدٌ عَالِمٌ» - যায়েদ একজন আলেম।)
তৃতীয় বিষয়: কালাম গঠিত হওয়ার সুরতসমূহ (حصولِ کلام کی صورتیں)
আরবি ভাষায় কালিমাহ মূলত তিন প্রকার: اسم, فعل, এবং حرف। বুদ্ধিবৃত্তিক হিসাব (عقلی اعتبار) অনুযায়ী এই তিনটি উপাদান মিলিয়ে কালাম গঠিত হওয়ার মোট ৬টি সুরত হতে পারে:
عقلی صورتیں (৬টি বুদ্ধিবৃত্তিক সুরত)
জায়েয
বাতিল
বাতিল
জায়েয
বাতিল
বাতিল
কিন্তু মুসান্নিফ কিতাবে উল্লেখ করেছেন: «وَلَا يَتَأَتَّى ذٰلِكَ إِلَّا فِي اسْمَيْنِ أَوْ اسْمٍ وَفِعْلٍ»; অর্থাৎ বাস্তবে এই ৬টি সুরতের মধ্যে কেবল ২টি সুরত দ্বারাই কালাম গঠিত হতে পারে। বাকি ৪টি সুরত বাতিল ও অসম্ভব।
বাস্তবায়নযোগ্য ২টি সুরতের বিশদ বিবরণ:
সুরত ১ দুটি ইসম মিলে কালাম গঠন (اسم + اسم):
কারণ: কালামের মূল ভিত্তি হলো মুসনাদ (مسند) ও মুসনাদ ইলাইহি (مسند اليه)-এর সমন্বয়। আর اسم এমন এক স্বয়ংসম্পূর্ণ কালিমাহ, যা একই সাথে মুসনাদ এবং মুসনাদ ইলাইহি উভয়টি হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা রাখে। তাই দুটি ইসম মিলে অনায়াসেই কালাম গঠিত হয়।
উদাহরণ: «زَيْدٌ تِلْمِيذٌ» (যায়েদ একজন ছাত্র)।
এখানে «زَيْدٌ» হলো مبتدأ / مسند اليه এবং «تِلْمِيذٌ» হলো خبر / مسند।
সুরত ২ একটি ইসম ও একটি ফে‘ল মিলে কালাম গঠন (اسم + فعل):
কারণ: ফে‘ল সবসময় মুসনাদ (مسند) হয়ে থাকে এবং ইসম মুসনাদ ইলাইহি (مسند اليه) হতে পারে। ফলে উভয়ের মিলনে পরিপূর্ণ অর্থবোধক বাক্য তৈরি হয়।
উদাহরণ: «قَرَأَ سَعِيدٌ» (সাঈদ পড়েছে)।
এখানে «قَرَأَ» ফে‘লটি হলো مسند এবং «سَعِيدٌ» ইসমটি হলো مسند اليه।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ (حرف نداء-এর সুরত):
«يَا زَيْدُ» (হে যায়েদ!) অথবা «يَا سَعِيدُ» (হে সাঈদ!)—আপাতদৃষ্টিতে এগুলো একটি হারফ এবং একটি ইসমের যৌগিক রূপ মনে হলেও মূলত এগুলোও اسم + فعل-এর সুরতের অন্তর্ভুক্ত।
কারণ: আরবি ব্যাকরণে حرف نداء «يَا» মূলত «أَدْعُو» (আমি ডাকছি) ফে‘লটির স্থলাভিষিক্ত বা قائم مقام।
মূল تقدير عبارت: «أَدْعُو زَيْدًا» (আমি যায়েদকে ডাকছি)। সুতরাং, এখানে «أَدْعُو» ফে‘ল এবং «زَيْدٌ» ইসম মিলে এটিও মূলত একটি ফে‘ল ও একটি ইসমের কালাম।