المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।
"মা‘রিফাহ (مَعْرِفَةٌ)-এর শর্ত হলো: তা ‘আলামিয়্যাত (عَلَمِيَّةً / ব্যক্তি, বস্তু বা স্থানের সুনির্দিষ্ট নাম) হতে হবে।"
দরসের রূপরেখা (تشریح)
আজকের দরসে মূলত দুটি মৌলিক বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:
- المعرفة-এর লুগাভী ও ইস্তিলাহী তা'রীফ (تعريف)।
- المعرفة গায়রে মুনসারিফের কার্যকর কারণ হওয়ার শর্ত, মা‘রিফাহর অন্য ৬টি প্রকার বাদ পড়ার কারণ এবং তৎসংশ্লিষ্ট একটি গভীর দার্শনিক اشکال (আপত্তি) ও তার সমাধান।
প্রথম বিষয়: المعرفة-এর লুগাভী ও ইস্তিলাহী তা'রীফ
১. লুগাভী (আভিধানিক) অর্থ:
(অর্থ: কোনো বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ বা বাস্তবতাকে চিনে নেওয়া ও উপলব্ধি করা।)
২. ইস্তিলাহী (পারিভাষিক) তা'রীফ:
নাহব শাস্ত্রবিদদের পরিভাষায় المعرفة-এর তা'রীফ হলো:
(অর্থ: মা‘রিফাহ হলো এমন ইসম, যা কোনো সুনির্দিষ্ট সত্তা বা বস্তুকে বোঝানোর জন্য গঠন করা হয়েছে।)
নির্দিষ্ট সত্তার প্রকারভেদ:
- ذَوِي الْعُقُول (বিবেকবান সত্তা): যেমন—«زَيْدٌ» (যায়েদ), «عَمْرٌو» (আমর), «بَكْرٌ» (বাকর)।
- غَيْرِ ذَوِي الْعُقُول (বিবেকহীন বস্তু): যেমন—«الْكِتَابُ» (নির্দিষ্ট কিতাব), «الْقَلَمُ» (নির্দিষ্ট কলম)।
দ্বিতীয় বিষয়: المعرفة গায়রে মুনসারিফের কারণ হওয়ার শর্ত ও তার যৌক্তিকতা
মুসান্নিফ (المصنف) কাফিয়া কিতাবে বয়ান করেছেন যে, মা‘রিফাহ গায়রে মুনসারিফের কার্যকর কারণ হওয়ার একমাত্র শর্ত হলো:
(অর্থ: মা‘রিফাহকে অবশ্যই اسم عَلَم [ব্যক্তি, বস্তু বা স্থানের নির্দিষ্ট নাম] হতে হবে।)
মা‘রিফাহর ৭টি প্রকারের মধ্য থেকে কেবল ‘اسم عَلَم’-কে কেন খাস করা হলো?
আরবি ব্যাকরণে মা‘রিফাহ সর্বমোট ৭ প্রকার। তন্মধ্যে কেবল اسم عَلَم গায়রে মুনসারিফের কারণ হতে পারে, বাকি ৬টি প্রকার কেন হতে পারে না—তার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:
- ضمائر (যমীরসমূহ)
- أسماء الإشارة (ইঙ্গিতসূচক বিশেষ্য)
- أسماء الموصولة (সংযোজক বিশেষ্য)
- معرف باللام
- مضاف إلى المعرفة
- معرف بالنداء (معرف باللام-এর হুকুমে)
• اسم عَلَم (আলামিয়্যাত / সুনির্দিষ্ট নাম)
এই তিনটি প্রকারের সমস্ত শব্দই মূলগতভাবে مبني (মাবনী)। আর আমাদের বর্তমান অধ্যায়ের মূল আলোচ্য বিষয় হলো اسم معرب। সুতরাং এগুলো শুরুতেই গায়রে মুনসারিফের আলোচনার বাইরে চলে যায়।
• معرف باللام এবং مضاف: এ দুটি গায়রে মুনসারিফের কারণ হওয়া তো দূরের কথা, কোনো গায়রে মুনসারিফ শব্দের শুরুতে যদি এগুলো দাখিল হয়, তবে তা সেই গায়রে মুনসারিফকে উল্টো مُنْصَرِف বানিয়ে দেয় এবং তার শেষে কাসরাহ (যের) গ্রহণ করাকে বৈধ করে তোলে (যেমন: «بِمَسَاجِدِكُمْ» বা «فِي الْمَسَاجِدِ»)। সুতরাং এদেরকে গায়রে মুনসারিফের কারণ বানানো মানে হলো—"বিড়ালকে ইঁদুর পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে নিযুক্ত করার মতো" স্ববিরোধী বিষয়।
• معرف بالنداء: এটি মূলত ‘معرف باللام’-এর হুকুমে থাকে (যেমন: «يَا رَجُلُ» মূলত «يَا أَيُّهَا الرَّجُلُ»-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়)।
উপরোক্ত ৬টি প্রকার বাদ পড়ার পর একমাত্র اسم عَلَم (আলামিয়্যাত) অবশিষ্ট থাকে, যা معرب এবং শব্দের শেষে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না ফেলে গায়রে মুনসারিফের কারণ হতে পারে। তাই মুসান্নিফ কেবল এটিকেই শর্ত হিসেবে খাস করেছেন।
একটি দার্শনিক ও ব্যাকরণিক اشکال এবং তার সমাধান:
আপত্তি: মুসান্নিফ المعرفة-কে ‘মূল কারণ’ (سبب) বানিয়ে তার ওপর العلمية-কে ‘শর্ত’ (شرط) করলেন কেন? এর উল্টো কেন করলেন না—অর্থাৎ العلمية-কে ‘কারণ’ এবং المعرفة-কে ‘শর্ত’ করলেন না কেন?
সমাধান (উভয় দিক থেকে):
- প্রথম জবাব (প্রশ্নটিই ভিত্তিহীন): যদি العلمية-কে মূল কারণ বানানো হতো, তবে তার জন্য المعرفة-এর শর্ত লাগানো সম্পূর্ণরূপে অনর্থক ও বাহুল্য হতো। কারণ اسم علم তো নিজেই মা‘রিফাহর সর্বোচ্চ পর্যায়ের (أَعْرَفُ الْمَعَارِفِ); যা স্বয়ং মা‘রিফাহ, তাকে নতুন করে মা‘রিফাহ হওয়ার শর্ত দেওয়ার কোনো অর্থ নেই।
- দ্বিতীয় জবাব (আসল ও শাখার সামঞ্জস্য): মান‘-এ সারফের সমস্ত কারণ মূলত فرع (শাখা)। আর ইসমের জগতে نكرة (নাকিরাহ) হলো মূল (اصل) এবং معرفة (মা‘রিফাহ) হলো তার শাখা (فرع)। সুতরাং ব্যাপক শাখাগত ধারণা হিসেবে المعرفة-কে মূল কারণ (سبب) নির্ধারণ করা এবং তার বাস্তবায়নের জন্য العلمية-কে শর্ত হিসেবে স্থাপন করাই যুক্তি ও ব্যাকরণগতভাবে সর্বাধিক সঙ্গত।
একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা (فائدة):
المعرفة (العلمية) মান‘-এ সারফের অবশিষ্ট সমস্ত আসবাবের (যথা: عدل, تأنيث, عجمة, تركيب, الف و نون زائدتان, وزن الفعل)—সবগুলোর সাথেই একত্রিত হতে পারে; কেবল وَصْف (ওয়াসফ) ব্যতীত।
কারণ: وَصْف স্বভাবগতভাবে দাবি করে অস্পষ্ট সত্তা (ذات مبهمة), আর مَعْرِفَة দাবি করে সুনির্দিষ্ট সত্তা (ذات معينة)। যেহেতু উভয়ের মূল অর্থগত স্বভাব পরস্পরবিরোধী, তাই এরা কখনো একই শব্দে যুগপৎভাবে জমা হতে পারে না।