دروس الكافية

দরসে কাফিয়া - কাফিয়া কিতাবের পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ডিজিটাল দরসগাহ

আপনি সর্বশেষ পড়েছিলেন:

দরস (২২) : ‘উজমাহ (العجمة)-এর তা'রীফ, আবশ্যকীয় শর্তাবলি ও ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ | দরসে কাফিয়া

موضوع (মূল বিষয়) গায়রে মুনসারিফের পঞ্চম কারণ: العجمة (‘উজমাহ/অনারবীয় শব্দ)-এর তা'রীফ, শর্তাবলি এবং অন্তর্নিহিত ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
«اَلْعُجْمَةُ شَرْطُهَا أَنْ تَكُونَ عَلَمِيَّةً فِي الْعُجْمَةِ، وَتَحَرُّكَ الْأَوْسَطِ، أَوِ الزِّيَادَةَ عَلَى الثَّلَاثَةِ، فَنُوحٌ مُنْصَرِفٌ، وَشَتَرُ وَإِبْرَاهِيمُ مُمْتَنِعٌ.»

শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।

ইবারতের সরল অনুবাদ:

"‘উজমাহ (عُجْمَةٌ / অনারবীয় শব্দ)-এর শর্ত হলো: তা অনারবীয় ভাষাতেই ‘আলামিয়্যাত (عَلَمِيَّةً فِي الْعُجْمَةِ / নির্দিষ্ট নাম) হতে হবে; এবং (৩ অক্ষরের হলে) মধ্যাক্ষর হরকতযুক্ত (تَحَرُّكَ الْأَوْسَطِ) হতে হবে, অথবা তিন অক্ষরের অধিক (الزِّيَادَةَ عَلَى الثَّلَاثَةِ) হতে হবে। সুতরাং ‘নূহ’ (نُوحٌ) মুনসারিফ; এবং ‘শাতার’ (شَتَرُ) ও ‘ইবরাহীম’ (إِبْرَاهِيمُ) গায়রে মুনসারিফ (مُمْتَنِعُ الصَّرْفِ)।"

[toc]

দরসের রূপরেখা (تشریح)

আজকের দরসে মূলত তিনটি মৌলিক বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:

  1. العجمة-এর লুগাভী ও ইস্তিলাহী তা'রীফ (تعريف)।
  2. ‘উজমাহ গায়রে মুনসারিফের কার্যকর কারণ হওয়ার আবশ্যকীয় শর্তাবলি।
  3. উক্ত শর্তাবলি নির্ধারণের অন্তর্নিহিত ভাষাতাত্ত্বিক কারণসমূহ (شرائط کی وجہ)।

প্রথম বিষয়: العجمة-এর লুগাভী ও ইস্তিলাহী তা'রীফ

১. লুগাভী (আভিধানিক) অর্থ:

আরবি অভিধানে ‘উজমাহ শব্দের অর্থ হলো:

«اَللُّكْنَةُ وَعَدَمُ إِفْصَاحِ الْكَلَامِ»

(অর্থ: কথার অস্পষ্টতা, তোতলামি বা জড়তা—অর্থাৎ বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল আরবি ভাষায় কথা বলতে অক্ষম হওয়া।)

২. ইস্তিলাহী (পারিভাষিক) তা'রীফ:

ইলমে নাহবের পরিভাষায় ‘উজমাহ বলা হয়:

«كَوْنُ اللَّفْظِ غَيْرَ عَرَبِيٍّ»

(অর্থ: কোনো শব্দ মূলত আরবি ভাষা ছাড়া অন্য কোনো অনারবীয় [যেমন: ফার্সি, হিব্রু, রোমান, সুরইয়ানি ইত্যাদি] ভাষার অন্তর্ভুক্ত হওয়া।)

দ্বিতীয় বিষয়: ‘উজমাহ গায়রে মুনসারিফ হওয়ার শর্তাবলি

মুসান্নিফ (المصنف) কিতাবে বয়ান করেছেন যে, কোনো অনারবীয় শব্দ গায়রে মুনসারিফ হওয়ার জন্য দুটি মৌলিক শর্ত পূর্ণ হওয়া অপরিহার্য:

العجمة-এর আবশ্যকীয় শর্তাবলি:
১ম শর্ত: عَلَمِيَّةً فِي الْعُجْمَةِ
অনারবীয় ভাষাতেই নির্দিষ্ট নাম হওয়া
২য় শর্ত: বাহ্যিক গঠনের শর্ত
(ক) ৩ অক্ষরের বেশি হওয়া, অথবা (খ) মধ্যবর্ণ সচল হওয়া

১. প্রথম শর্ত: «أَنْ تَكُونَ عَلَمِيَّةً فِي الْعُجْمَةِ»

শব্দটি কেবল আরবিতে এসে নাম হলে চলবে না, বরং অনারবীয় ভাষাতেই কারো নাম (اسم عَلَم) হতে হবে। এটি দুইভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে:

  • (ক) হাকীক্বী নাম (حقيقتاً): অনারবীয় ভাষাতেই তা কোনো ব্যক্তির মূল নাম ছিল। যেমন: «إِبْرَاهِيمُ», «إِسْمَاعِيلُ», «إِسْحَاقُ»।
  • (খ) হুকমী নাম (حكماً): অনারবীয় ভাষায় শব্দটি মূলত اسم جنس (সাধারণ বস্তুবাচক শব্দ) ছিল, কিন্তু আরবিতে ব্যবহারের সময় তাকে নাম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

দৃষ্টান্ত: «قَالُونُ» (ক্বালূন — ক্বিরাআতের ইমাম নাফে‘ রহ.-এর বিশিষ্ট ছাত্র ঈসা ইবনে মীনার উপাধি)। রোমান ভাষায় ‘ক্বালূন’ শব্দের অর্থ ছিল ‘উত্তম বা সুন্দর’ (রোমানরা যেকোনো ভালো জিনিসকে ক্বালূন বলত)। পরবর্তীতে আরবে তাঁর সুললিত ও অনুপম তিলাওয়াতের কারণে এটি তাঁর ব্যক্তিনাম (اسم علم) হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়ে যায়।

২. দ্বিতীয় শর্ত: শাব্দিক গঠন ও অক্ষরের শর্ত

শব্দটিকে অবশ্যই নিম্নোক্ত দুটি সুরতের যেকোনো একটি সুরত গ্রহণ করতে হবে:

(ক) الزِّيَادَةُ عَلَى الثَّلَاثَةِ (তিন অক্ষরের অধিক হওয়া):
শব্দটি চার বা ততোধিক অক্ষরের হতে হবে। যেমন: «إِبْرَاهِيمُ», «إِسْمَاعِيلُ»। এখানে ‘উজমাহ এবং ‘আলামিয়্যাত একত্রিত হওয়ায় এগুলো সর্বসম্মতভাবে غير منصرف
(খ) تَحَرُّكُ الْأَوْسَطِ (৩ অক্ষরের হলে মধ্যবর্ণ হরকতযুক্ত হওয়া):
শব্দটি যদি তিন অক্ষরবিশিষ্ট হয়, তবে তার মধ্যবর্তী বর্ণটি অবশ্যই হরকতযুক্ত (متحرك الأوسط) হতে হবে। যেমন: «شَتَرُ» (শাতার — দিয়ারে বাকরের একটি প্রাচীন দুর্গের নাম)। এতে তিন অক্ষর হওয়া সত্ত্বেও মধ্যাক্ষর ‘তা’ হরকতযুক্ত থাকায় এটি غير منصرف

«نُوحٌ» এবং «لُوطٌ» মুনসারিফ হওয়ার কারণ:

মুসান্নিফ বলেছেন: «فَنُوحٌ مُنْصَرِفٌ»।

পর্যালোচনা: হযরত নূহ (عليه السلام) এবং হযরত লূত (عليه السلام)-এর নাম অনারবীয় (‘উজমাহ) এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম (العلمية)—অর্থাৎ প্রথম শর্ত পূর্ণ বিদ্যমান। তা সত্ত্বেও এগুলো গায়রে মুনসারিফ নয়; বরং তানভীন ও যেরসহ مُنْصَرِفنُوحٌ»، «لُوطٌ»)।

কারণ: এ দুটি নাম তিন অক্ষরবিশিষ্ট এবং এদের মধ্যবর্তী বর্ণ সাকিন বা স্থির (ساكن الأوسط)। ফলে গায়রে মুনসারিফ হওয়ার দ্বিতীয় শর্ত অনুপস্থিত থাকায় এগুলো তার আসল অবস্থা অর্থাৎ منصرف হিসেবেই বহাল থাকে।

তৃতীয় বিষয়: শর্তাবলি নির্ধারণের অন্তর্নিহিত ভাষাতাত্ত্বিক কারণ

আরবদের স্বভাবগত নীতি: আরবদের সাধারণ ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য হলো—যেকোনো অপ্রচলিত ও ভারী শব্দকে (তা আরবি হোক বা অনারবীয় হোক) উচ্চারণ সহজ করার জন্য তারা তাতে পরিবর্তন ও রূপান্তর (تغيير و تبديل) সাধন করে থাকে।
‘উজমাহর প্রভাবের হাকীকত: ‘উজমাহ মান‘-এ সারফের কারণ হয় শব্দের মধ্যে বিদ্যমান অনারবীয় অপ্রচলিত ভার ও বৈশিষ্ট্যের (ثقل العجمة) কারণে।
শর্তের যৌক্তিকতা:

যদি কোনো অনারবীয় শব্দ মাত্র তিন অক্ষরের হয় এবং তার মধ্যাক্ষর সাকিন (হালকা) হয় (যেমন: «نُوْحٌ»), তবে আরবরা অতি সহজেই তা নিজেদের সাধারণ আরবি শব্দের ছাঁচে ফেলে দেয়; ফলে শব্দের মধ্যকার ‘উজমাহজনিত ভারী ভাব (ثقل) বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর ثقل নষ্ট হয়ে গেলে তা গায়রে মুনসারিফ হওয়ার যোগ্যতা হারায়।

তাই মুসান্নিফ এই শর্তারোপ করেছেন—যাতে শব্দটি ৪ অক্ষরের দীর্ঘ হয় অথবা ৩ অক্ষরের মধ্যবর্ণ সচল হয়ে তার অনারবীয় গুরুত্ব ও ثقل অক্ষুণ্ণ থাকে এবং তা আরবদের পরিবর্তন থেকে সুরক্ষিত থাকে।

📌 خلاصة الدرس (দরসের সার্বিক সারসংক্ষেপ)

প্রকারভেদ দৃষ্টান্তসমূহ শর্তাবলির অবস্থা ব্যাকরণিক হুকুম
১. ৪ বা ততোধিক অক্ষরের অনারবীয় নাম إِبْرَاهِيمُ، إِسْمَاعِيلُ • অনারবীয় ভাষায় علم
الزيادة على الثلاثة
واجب غیر منصرف
২. ৩ অক্ষরের মধ্যবর্ণ সচল নাম شَتَرُ • অনারবীয় ভাষায় علم
تحرك الأوسط
واجب غیر منصرف
৩. ৩ অক্ষরের মধ্যবর্ণ সাকিন নাম نُوحٌ، لُوطٌ • অনারবীয় ভাষায় علم আছে
• কিন্তু ساكن الأوسط (২য় শর্ত অনুপস্থিত)
مُنْصَرِفٌ
(তানভীন ও যের গ্রহণ করবে)
৪. অনারবীয় ভাষায় علم না হওয়া শব্দ دِيبَاجٌ، فَيْرُوزَجٌ
(রেশমি কাপড় ও রত্ন)
আরবিতে علم হলেও অনারবীয় ভাষায় اسم جنس ছিল مُنْصَرِفٌ
পরের দরস আগের দরস