المتن الأصلي (মূল ইবারত) — দেখতে বা লুকাতে ক্লিক করুন
শব্দার্থ দেখতে যেকোনো আরবি শব্দের ওপর মাউস নিন (কম্পিউটারে) বা আলতো ট্যাপ করুন (মোবাইলে)।
"জমা (الْجَمْعُ)-এর শর্ত হলো: তা গোল ‘তা’ (هاء / ة) ছাড়া ‘মুনতাহাল জুমূ‘’-এর সীগাহ্ হতে হবে; যেমন: «مَسَاجِدُ» এবং «مَصَابِيحُ»। আর «فَرَازِنَةٌ»-এর মতো শব্দসমূহ মুনসারিফ। আর ‘হাযাজিরু’ (حَضَاجِرُ) যখন হায়েনার নির্দিষ্ট নাম হবে, তখন তা গায়রে মুনসারিফ হবে; কারণ এটি বহুবচন থেকে নাম হিসেবে স্থানান্তরিত (مَنْقُولٌ عَنِ الْجَمْعِ) হয়েছে। আর ‘সারাবীল’ (سَرَاوِيلُ)-কে যখন গায়রে মুনসারিফ পড়া হয়—আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটিই প্রচলিত—তখন বলা হয়েছে: এটি একটি অনারবীয় শব্দ যাকে সমওযনের আরবি শব্দের ওপর চাপিয়ে নেওয়া হয়েছে, আবার কেউ বলেছেন: এটি ‘সিরওয়ালাহ’ (سِرْوَالَة)-এর কাল্পনিক বহুবচন। আর একে যখন মুনসারিফ পড়া হবে, তখন কোনো اشکال নেই। আর «جَوَارٍ»-এর মতো শব্দসমূহের হালতে রাফ‘ঈ ও জাররীতে ই‘রাব হবে «قَاضٍ»-এর মতো।"
দরসের রূপরেখা (تشریح)
আজকের দরসে মূলত পাঁচটি বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে:
- الْجَمْعُ-এর তা'রীফ (تعريف) এবং এর গায়রে মুনসারিফ হওয়ার শর্তাবলি।
- صيغة منتهى الجموع-এর তা'রীফ ও তার শাব্দিক আলামত।
- উক্ত শর্তাবলি নির্ধারণের অন্তর্নিহিত কারণসমূহ (شرائط کی وجہ)।
- দুটি জটিল উহ্য প্রশ্নের উত্তর («حَضَاجِرُ» ও «سَرَاوِيلُ» সংক্রান্ত تحقيق)।
- «جَوَارٍ»-এর ই‘রাবের স্বরূপ ও ইমামদের ভাষাতাত্ত্বিক বিতর্ক।
প্রথম বিষয়: الْجَمْعُ-এর তা'রীফ ও শর্তাবলি
১. তা'রীফ (تعريف):
(অর্থ: এমন শব্দরূপ যা তিন বা তিনের অধিক সত্তার ওপর পথপ্রদর্শন করে; যেমন: مُسْلِمُونَ ইত্যাদি।)
২. গায়রে মুনসারিফ হওয়ার ২টি আবশ্যকীয় শর্ত:
জমা একা দুই কারণের স্থলাভিষিক্ত হয়ে গায়রে মুনসারিফ হওয়ার জন্য দুটি শর্ত একত্রিত হওয়া ওয়াজিব:
صيغة منتهى الجموع-এর ওযনে হওয়া (যেমন: مَسَاجِدُ، مَصَابِيحُ)
গোল ‘ة’ বা هاء থেকে মুক্ত থাকা (যেমন: فَرَازِنَةٌ মুনসারিফ)
وجودی شرط (ইতিবাচক শর্ত): শব্দটিকে صيغة منتهى الجموع-এর ওযনে হতে হবে—তা বাস্তবে দুইবার বহুবচন হয়ে (حقيقتاً) হোক (যেমন: «كَلْبٌ» → «أَكْلُبٌ» → «أَكَالِبُ») অথবা সরাসরি এই ওযনে এসে (حكماً) হোক (যেমন: «مَسَاجِدُ» ও «مَصَابِيحُ»)।
سلبی شرط (নেতিবাচক শর্ত): শব্দের শেষাক্ষরে কোনো গোল ‘তা’ (هاء / ة) থাকা চলবে না।
দ্বিতীয় বিষয়: صيغة منتهى الجموع-এর তা'রীফ ও আলামত
১. তা'রীফ:
(অর্থ: মুনতাহাল জুমূ‘ হলো এমন চূড়ান্ত বহুবচন, যাকে দ্বিতীয়বার আর কোনো جمع تكسير [ভগ্ন বহুবচন] বানানো সম্ভব নয়; যেন তার বহুবচনত্ব চূড়ান্ত পরিসীমায় পৌঁছে সমাপ্ত হয়েছে।)
২. মুনতাহাল জুমূ‘ চেনার ৩টি শাব্দিক আলামত:
- শব্দের প্রথম দুটি বর্ণ যবরযুক্ত (مفتوح) হবে।
- তৃতীয় স্থানে একটি অতিরিক্ত বহুবচনের আলিফ (الف الجمع) থাকবে।
-
উক্ত আলিফের পরে:
- (ক) একটি বর্ণ থাকলে তা তাশদীদযুক্ত হবে (যেমন: «دَوَابُّ», «صَوَافُّ»)।
- (খ) দুটি বর্ণ থাকলে প্রথমটি যেরযুক্ত এবং দ্বিতীয়টি পেশযুক্ত হবে (যেমন: «مَسَاجِدُ», «مَكَاتِبُ»)।
- (গ) তিনটি বর্ণ থাকলে মধ্যবর্তী বর্ণটি ياء ساكنة হবে (যেমন: «مَصَابِيحُ», «عَصَافِيرُ»)।
سلبی شرط-এর বাস্তবায়ন:
যদি শব্দের শেষে গোল ‘তা’ (ة) যুক্ত হয়, তবে তা مُنْصَرِف হয়ে যাবে। যেমন: «فَرَازِنَةٌ» (দাবা খেলার উজিরগণ), «صَيَاقِلَةٌ» (তলোয়ার ধারালোকারী দল)। কিন্তু ‘তা’ যদি মূলত কোনো মূল বর্ণ থেকে পরিবর্তিত হয়ে আসে (যেমন: «فَوَادِدُ» থেকে «فَوَادِدَةٌ»), তবে তা গায়রে মুনসারিফই থাকবে।
তৃতীয় বিষয়: শর্তাবলি নির্ধারণের অন্তর্নিহিত কারণসমূহ
যাতে শব্দটি যাবতীয় রূপান্তর থেকে সংরক্ষিত থাকে এবং তার ওযন এত সুদৃঢ় হয় যে তার ওপর আর কোনো বহুবচন তৈরি হতে না পারে। ফলে এটি একাই দুটি জমার প্রতিনিধিত্ব করে দুই কারণের স্থলাভিষিক্ত (قائم مقام سببین) হয়।
গোল ‘তা’ হলো একবচনের আলামত (علامت مفرد)। মুনতাহাল জুমূ‘র শেষে ‘তা’ যুক্ত করলে তা একবচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে যায় এবং তার বহুবচনের চূড়ান্ত ভার নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শব্দটি তার মূল মুনসারিফ অবস্থায় ফিরে যায়।
চতুর্থ বিষয়: দুটি জটিল উহ্য প্রশ্নের উত্তর (تحقيق)
১. প্রথম প্রশ্ন: «حَضَاجِرُ» একবচন নাম হওয়া সত্ত্বেও গায়রে মুনসারিফ কেন?
প্রশ্ন: «حَضَاجِرُ» তো বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট স্ত্রী-হায়েনার ব্যক্তিনাম (اسم علم / مفرد)। তাহলে বহুবচনের অর্থ না থাকা সত্ত্বেও এটি গায়রে মুনসারিফ কেন?
উত্তর: «حَضَاجِرُ» মূলত ছিল «حَضْجَرٌ» (বিশাল পেটবিশিষ্ট প্রাণী)-এর বহুবচন। পরবর্তীতে আরবরা অতিশয় পেটুক হায়েনাকে ব্যঙ্গ করে নাম হিসেবে এই বহুবচনটিকেই একবচন নামের স্থানে ব্যবহার করেছেন। যেহেতু এটি مَنْقُولٌ عَنِ الْجَمْعِ (বহুবচন থেকে স্থানান্তরিত নাম), তাই তার মূল সত্তা বিবেচনা করে একে غير منصرف রাখা হয়েছে।
২. দ্বিতীয় প্রশ্ন: «سَرَاوِيلُ» (পায়জামা)-এর গায়রে মুনসারিফ হওয়ার রহস্য কী?
প্রশ্ন: «سَرَاوِيلُ» তো একবচন একটি পোশাকের নাম। আরবদের অধিকাংশ কেন একে তানভীন ছাড়া গায়রে মুনসারিফ পড়েন?
উত্তর:
- ১ম মত (কিছু নাহববিদ): এটি একবচন শব্দ বিধায় সাধারণ নিয়মে এটি مُنْصَرِف («سَرَاوِيلٌ»)। মুসান্নিফ বলেছেন: এই মতে কোনো اشکال নেই।
-
২য় মত (জুমহূর ও অধিকাংশ আরব): একে غير منصرف পড়েন। এর সপক্ষে দুটি প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যা রয়েছে:
- ইমাম সীবাবাইহ ও আবু আলী আল-ফারিসী (رحمهما الله): এটি মূলত একটি অনারবীয় ফার্সি শব্দ (شلوار)। আরবরা একে তাদের নিজস্ব মুনতাহাল জুমূ‘-এর ওযনে («مَفَاعِيلُ») রূপান্তর করে নিয়েছেন। তাই সমওযনের আরবি বহুবচনের সাথে সাদৃশ্য রেখে একে গায়রে মুনসারিফ গণ্য করা হয়।
- ইমাম মুবাররাদ (رحمه الله): এটি খাঁটি আরবি শব্দ। এটি মূলত একবচন শব্দ «سِرْوَالَةٌ»-এর কাল্পনিক বহুবচন (جَمْعُ سِرْوَالَةٍ تَقْدِيرًا)। যেহেতু ওযনটি মুনতাহাল জুমূ‘-এর, তাই এটি গায়রে মুনসারিফ।
পঞ্চম বিষয়: «جَوَارٍ»-এর ই‘রাবের স্বরূপ ও ভাষাতাত্ত্বিক বিতর্ক
পরিচয়: এটি এমন اسم منقوص যা «فَوَاعِلُ»-এর ওযনে গঠিত বহুবচন। যেমন: «جَارِيَةٌ»-এর জমা «جَوَارٍ» (দাসীগণ) এবং «دَاعِيَةٌ»-এর জমা «دَوَاعٍ»।
ই‘রাবের সুরত:
- حالت رفعي ও حالت جري: ই‘রাব হবে «قَاضٍ»-এর ন্যায় ضمة تقديري এবং كسرة تقديري দ্বারা; এবং শেষে একটি تنوين عوض (বিলুপ্ত ইয়া-এর বদলা তানভীন) যুক্ত হবে (যেমন: «هَؤُلَاءِ جَوَارٍ»، «مَرَرْتُ بِجَوَارٍ»)।
- حالت نصبي: ই‘রাব হবে فتحة لفظي (প্রকাশ্য যবর) দ্বারা এবং তানভীন ছাড়া (যেমন: «رَأَيْتُ جَوَارِيَ»)।
ইমাম সীবাবাইহ ও জুমহূর (رحمهم الله)-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:
নাহবের সর্বসম্মত কায়েদা হলো: «اَلْمَحْذُوفُ كَالْمَلْفُوظِ» (উহ্য বর্ণ উচ্চারিত বর্ণের মতোই বিদ্যমান থাকে)। তাই «جَوَارٍ» শব্দটি তিন অবস্থাতেই মূলত غير منصرف। এর শেষে দৃশ্যমান তানভীনটি মুনসারিফের তানভীন নয়, বরং বিলুপ্ত ‘ইয়া’-এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে আসা تنوين عوض।